জুলাইয়ে রপ্তানি আয় বেড়েছে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার

অনলাইন ৪ আগস্ট ২০২০, মঙ্গলবার, ৮:৩৮

নতুন অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রপ্তানি আয় বেড়েছে। জুলাই মাসে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে ৩৯১ কোটি (৩.৯১ বিলিয়ন) ডলার আয় হয়েছে। এই অঙ্ক গত বছরের জুলাই মাসের চেয়ে ০.৬ শতাংশ বেশি। আর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৩.৪ শতাংশ বেশি। জুলাই মাসে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য ছিল ৩৪৪ কোটি ৯০ লাখ ডলার। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) মঙ্গলবার রপ্তানি আয়ের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, করোনাভাইরাস মহামারিতে বিশ্বের অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়ায় গত এপ্রিলে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় তলানিতে ঠেকেছিল। বিধি-নিষেধ শিথিলে কারখানা খোলার পর মে মাসে রপ্তানি আয় কিছুটা বাড়ে, জুনে তার চেয়ে অনেক বাড়ে।
আর নতুন অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে পণ্য রপ্তানি করে দেশ যে আয় করেছে, তা গত অর্থ বছরের যে কোনো মাসের চেয়ে বেশি। এর মধ্য দিয়ে সাত মাস পর বাংলাদেশ রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধিতে ফিরে এসেছে। সর্বশেষ গত বছরের ডিসেম্বরে ২ দশমিক ৮৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল রপ্তানি আয়ে। এর পর ধারাবাহিকভাবে প্রবৃদ্ধি কমছিল।

তবে সঙ্কট এখনই কেটে যাচ্ছে বলে মনে করছেন না রপ্তানিকারকরা। অর্থনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, মহামারি থেকে অর্থনীতি উদ্ধারে গোটা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এখন এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করতে হবে।

ইপিবি তথ্যে দেখা যায়, কোভিড-১৯ মহামারির ধাক্কা বাংলাদেশে লাগতে শুরু করে গত মার্চ মাস থেকে, এপ্রিলে রপ্তানি কমে মাত্র ৫২ কোটি ডলারে নেমে এসেছিল, যা ছিল রেমিটেন্সের চেয়েও কম। এপ্রিল মাসে গত বছরের এপ্রিলের চেয়ে রপ্তানি আয় কমেছিল ৮৫.৩৭ শতাংশ। বিধিনিষেধ শিথিল করে কলকারখানা চালুর পর মে মাসে রপ্তানি বেড়ে ১৪৬ কোটি ৫৩ লাখ ডলারে দাঁড়ায়; তবে প্রবৃদ্ধি কমেছিল ৬১.৫৭ শতাংশ। গত ২০১৯-২০ অর্থবছরের শেষ মাস জুনে রপ্তানি আয় বেড়ে ২৭১ কোটি ৪৯ লাখ ডলারে উঠলেও প্রবৃদ্ধি কমেছিল ২.৫ শতাংশ।

ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত অর্থবছরের যে কোনো মাসের চেয়ে নতুন অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে পণ্য রপ্তানি থেকে বেশি আয় করেছে বাংলাদেশ। মহামারীর প্রভাব পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগের মাস মার্চে পণ্য রপ্তানি থেকে ২৭৩ কোটি ২০ লাখ ডলার আয় করেছিল বাংলাদেশ; যদিও প্রবৃদ্ধি কমেছিল ১৮.২৯ শতাংশ। ফেব্রুয়ারি মাসে আয় হয়েছিল ৩৩২ কোটি ২৩ লাখ ডলার; প্রবৃদ্ধি কমেছিল ১.৮ শতাংশ। জানুয়ারিতে আয় হয় ৩৬১ কোটি ৭৩ লাখ ডলার; প্রবৃদ্ধি কম ছিল ১.৭ শতাংশ। তার আগের মাস ডিসেম্বরে ৩৫২ কোটি ৫০ লাখ ডলার আয় হয়েছিল; প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ২.৮৯ শতাংশ। নভেম্বর, অক্টোবর এবং সেপ্টেম্বরে রপ্তানি হয় যথাক্রমে ৩০৫ কোটি ৫৮ লাখ, ৩০৭ কোটি ৩২ লাখ এবং ২৯১ কোটি ৫৮ লাখ ডলারের পণ্য। ওই তিন মাসেও প্রবৃদ্ধি কমেছিল যথাক্রমে ১০.৭০ শতাংশ, ১৯.১৯ এবং ৭.৩ শতাংশ।

অর্থনীতির গবেষক পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর মহামারীর মধ্যেও রপ্তানি আয় ঘুরে দাঁড়ানোয় সন্তোষ প্রকাশ করছেন।

ইপিবির তথ্যে দেখা যায়, জুলাই মাসে রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্প থেকে ৩২৪ কোটি ৪৯ লাখ ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। অর্থাৎ মোট রপ্তানি আয়ের ৮৩ শতাংশই এসেছে পোশাক খাত থেকে। জুলাই মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি গত বছরের জুলাই মাসের চেয়ে ১.৯৮ শতাংশ কম হলেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছে ১৪.১৮ শতাংশ। জুলাইয়ে উভেন পোশাক রপ্তানি ৮.৪৩ শতাংশ কমলেও নিট পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৪.৩ শতাংশ।

বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের বড় অংশ জোগায় তৈরি পোশাকবাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের বড় অংশ জোগায় তৈরি পোশাক। করোনা ভাইরাস মহামারির এই সময়ে চলতি অর্থবছরে ৪৮ বিলিয়ন (৪ হাজার ৮০০) ডলারের পণ্য ও সেবা রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছে সরকার, যা গত অর্থবছরের রপ্তানি আয়ের চেয়ে ১৯.৭৯ শতাংশ বেশি। গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ ৩ হাজার ৩৬৭ কোটি ৪০ লাখ (৩৩.৬৭ বিলিয়ন) ডলার আয় করে, যা ছিল আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৭ শতাংশ কম। আর লক্ষ্যের চেয়ে কম ‍ছিল ২৬ শতাংশ। তার আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ ৪ হাজার ৫৩৫ কোটি ৮২ লাখ (৪০.৫৩ বিলিয়ন) ডলার আয় করে। তাতে প্রবৃদ্ধি হয় ১০.৫৫ শতাংশ। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছিল ৪ শতাংশ।

এই সঙ্কটেও পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানির প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। জুলাই মাসে ১০ কোটি ৩৫ লাখ ডলারের পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ, যা গত বছরের জুলাই মাসের চেয়ে ৩৮.৩৮ শতাংশ বেশি। আর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছে ৫.৪৪ শতাংশ। গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ ৮৮ কোটি ২৩ লাখ ডলার আয় করেছে, যা ছিল আগের ২০১৮-১৯ অর্থবছরের চেয়ে ৮.১০ শতাংশ বেশি। মহামারিকালে ওষুধ রপ্তানি বেড়েছে সাড়ে ৪৯ শতাংশ। হিমায়িত মাছ রপ্তানি বেড়েছে ২.২ শতাংশ। কৃষি পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ৩১ শতাংশ। হ্যান্ডিক্রাফট রপ্তানি বেড়েছে ৫৭.২২ শতাংশ। তবে চামড়া এবং চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি কমেছে ১৫.২৩ শতাংশ। স্পেশালাইজড টেক্সটাইল রপ্তানি কমেছে ২৯.৬৭ শতাংশ।

আপনার মতামত দিন

অনলাইন অন্যান্য খবর

২৪ ঘণ্টায় করোনায় প্রাণ গেলো ২৮ জনের, শনাক্ত ১৫৫৭

মৃত্যু ৫০০০ ছাড়ালো, বেশির ভাগের বয়স ৬০ বছরের উপরে

২২ সেপ্টেম্বর ২০২০



অনলাইন সর্বাধিক পঠিত