ঈদুল আজহার নামাজও মসজিদে আদায় করতে হবে

অনলাইন ডেস্ক

অনলাইন ১২ জুলাই ২০২০, রোববার, ৮:৪২

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে ঈদুল আজহার নামাজও মসজিদে আদায় করতে হবে। ঈদুল ফিতরের মতো এবারও ঈদগাহ বা খোলা জায়গার পরিবর্তে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মসজিদে নামাজ পড়ার নির্দেশনা দিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। একইসঙ্গে ঈদের নামাজ শেষে কোলাকুলি করতে নিষেধ করা হয়েছে।

ঈদুল আজহা উদযাপন নিয়ে আজ রোববার ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনলাইন আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নূরুল ইসলাম। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সিদ্ধান্ত হয়েছে ঈদুল আজহার নামাজ পড়তে যাওয়া মুসল্লিদের বাসা থেকে জায়নামাজ নিয়ে যেতে হবে। নামাজ শেষে কোলাকুলি ও হ্যান্ডশেক (করমর্দন) করা যাবে না।

এ বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে জানিয়ে আনোয়ার হোসাইন বলেন, ঈদুল ফিতরের নামাজের সময় যেসব নির্দেশনা ছিল সেগুলো ঈদুল আজহার ক্ষেত্রেও তা বলবৎ থাকবে।

আন্তমন্ত্রণালয় সভার বিষয়ে দেয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ বছর করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে ঈদের প্রধান জামাত হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে জাতীয় ঈদগাহের পরিবর্তে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক সারাদেশের বিভাগ/জেলা/উপজেলা/সিটি করপোরেশন/পৌরসভাসশস্ত্র বাহিনী বিভাগ/বেসরকরি সংস্থাগুলোর প্রধানরা জাতীয় কর্মসূচির আলোকে নিজ নিজ কর্মসূচি প্রণয়ন করে ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। ঈদুল আজহা উদযাপন উপলক্ষে দেশের সকল হাসপাতাল/কারাগার/সরকারি শিশুসদন/বৃদ্ধনিবাস/মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নত মানের খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা করা হবে।
সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে  উল্লেখ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, কোরবানির পর পশুর রক্ত/বর্জ্য পদার্থের মাধ্যমে যাতে পরিবেশ নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঈদুল আজহার আগের জুমার খুতবায় এ বিষয়ে মুসল্লিদের সচেতন করা হবে। এছাড়া বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ বিষয়ে সচেতনতামূলক আলোচনা ও বিজ্ঞাপন প্রচার করা হবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মো. আনিছুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ, তথ্য মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দফতর-সংস্থার প্রতিনিধিরা এ ভার্চুয়াল সভায় অংশগ্রহণ করেন।

সভায় ওলামায়ে কেরামের পক্ষে ফরিদ উদ্দিন মাসউদ, মুফতি রুহুল আমিন, মাওলানা আনাস মাদানী, মুফতি দিলাওয়ার হোসাইন, মাওলা নুরুল আমিন, হাফেজ মাওলানা আব্দুল আলিম রিজভী, মুফতি মাওলানা সাজিদুর রহমান, মাওলানা কাফিলুদ্দীন সরকার সালেহী, মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক, মাওলানা মোসাদ্দিক বিল্লাহ আল মাদানী প্রমুখ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এ ভার্চুয়াল সভায় অংশগ্রহণ করে তাদের মতামত দেন।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

কামরুল

২০২০-০৭-১২ ১০:৩৭:৫২

আমি বুঝিনা এরা শুধু নামাজের সাথে ই শুধু করোনা দেখে আর কোথাও করোনা দেখে না,৷ আমি বলি গার্মেন্টসে হাজার হাজার শ্রমিক এক সাথে ৮ থেকে১০ ঘন্টা কাজ করছ, লক্ষ লক্ষ মানুষ মার্কেট করছে তখন করোনা থাকে ন, শুধু ১০ থেকে ১৫ মিনিট একসাথে নামাজ পড়লে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত করবে। আসলে আমি মনে করি এরা ইসলামের শিক্ষা থেকে অনেক দূরে আছ।

রিপন

২০২০-০৭-১২ ২৩:৩৪:০৪

কইভাবে হজ্বটিও ঘরে ঘরে আদায় করে নিলেই তো চলে। কেন খামাখা সকল প্রতিকূলতা সত্ত্বেও মক্ক্ মদিনা যাওয়া?

আপনার মতামত দিন

অনলাইন অন্যান্য খবর



অনলাইন সর্বাধিক পঠিত