কবি আবুল হোসেনের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্র্ষিকী আজ

স্টাফ রিপোর্টার

অনলাইন ২৯ জুন ২০২০, সোমবার, ৮:৫৬ | সর্বশেষ আপডেট: ৮:৫৬

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি আবুল হোসেনের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্র্ষিকী আজ ২৯শে জুন। কবি আবুল হোসেনের প্রথম কবিতার বই ‘নববসন্ত’ প্রকাশিত হয় ১৯৪০ সালে। আধুনিক মুসলমান বাঙালি কবিদের মধ্যে তাঁর কবিতার বই প্রথম প্রকাশিত হয়।

১৯৬৯ সালে প্রকাশিত হয় ‘বিরস সংলাপ’, ১৯৮২ সালে ‘হাওয়া তোমার কি দুঃসাহস‘, ১৯৮৫ সালে ‘দুঃস্বপ্ন  থেকে দুঃস্বপ্নে’, ১৯৯৭ সালে ‘এখনও সময় আছে’, ২০০০ সালে ‘আর কিসের অপেক্ষা’, ২০০৪ সালে ‘রাজকাহিনী’, ২০০৭ সালে ‘আবুল হোসেনের ব্যঙ্গ কবিতা’ ও গদ্যের বই ‘দুঃস্বপ্নের কাল’, ২০০৮ সালে ‘প্রেমের কবিতা’ ও ‘কালের খাতায়’, ২০০৯ সালে গদ্য ‘স্বপ্ন ভঙ্গের পালা’ বইগুলো প্রকাশিত হয়। তাঁর অনুবাদ কবিতাগুলো হলো- ‘ইকবালের কবিতা’, ‘আমার জন্মভূমি’, ‘অন্য ক্ষেতের ফসল’। ২০০০ সালে ‘আমার এই  ছোটভুবন’, ২০০৫ সালে ‘আর এক ভুবন’ নামে দু’টি স্মৃতি কথামূলক গ্রন্থ লিখেছেন তিনি। ‘অরণ্যের ডাক’ তাঁর অনুবাদ উপন্যাস। ‘পার্বত্যের পথে’ নামক ভ্রমণ কাহিনী ও লিখেছেন তিনি।
এছাড়া তাঁর আরও অনেক বই প্রকাশিত হয়েছে।
কবি আবুল হোসেন ১৯২২ সালের ১৫ই আগস্ট খুলনার তৎকালীন বাগেরহাট মহকুমার ফকিরহাট থানার আড়য়াডাঙা গ্রামে। পৈতৃক গ্রাম দেয়াড়া। খুলনা জেলার রূপসা থানায় এই গ্রাম। বাবা এসএম ইসমাইল হোসেন পুলিশ বিভাগে কাজ করতেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় হানাদার বাহিনীর হাতে নিহত হন।
লেখাপড়া করেছেন কৃঞ্চনগর কলেজিয়েট স্কুলে, কুষ্টিয়া হাইস্কুলে, কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজে ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে। অর্থনীতিতে সম্মান পর্যায়ের স্নাতক। সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে।

সম্পাদক, রবীন্দ্র পরিষদ, প্রেসিডেন্সি কলেজ (১৯৩৯-৪০)। সম্পাদক, রবীন্দ্র পরিষদ, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৪৩-৪৪)। বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য। বেঙ্গলি ইন্সটিটিউট অব টেকনলজির গবেষণা ফেলো। পাকিস্তান রাইটার্সগিল্ডের কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য (১৯৫৯-৬২)। সভাপতি, রবীন্দ্র-চর্চা কেন্দ্র, ১৯৯০-২০০২।

সরকারি চাকুরে ছিলেন। প্রথম আয়কর বিভাগে কাজ করেন, পরে রেডিওতে। তারপরে তথ্য বিভাগে। সরকারি চাকরি শেষ হওয়ার সময় (১৯৮২) পদমর্যাদা ছিলো যুগ্ম-সচিবের। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য নিযুক্ত ছিলেন, কিন্তু কাজে যোগ দেননি। কয়েক বছর ব্যাংককে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থায় চাকরি করেছেন। এক সময় বাংলাদেশের চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। অবসর নেয়ার পর কিছুদিন মধুমেহ রোগের নিরাময়, প্রতিরোধ ও গবেষণা সংক্রান্ত জাতীয় প্রতিষ্ঠান বারডেম-এর সাথে যুক্ত ছিলেন।
বাংলা একাডেমি ফেলো। বাংলা একাডেমির কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য ছিলেন। স্ত্রী সাহানা হোসেন লেখক আকবর উদ্দিনের বড় মেয়ে। বিয়ে হয় ১৯৫৮তে। হঠাৎ করে ১৯৯৪ সালে মারা যান। দুই ছেলে, দুই মেয়ে।
কবি আবুল হোসেন বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন-একুশে পদক, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, জাতীয় কবিতা পুরস্কার, নাসিরুদ্দীন স্বর্ণপদক, পদাবলী পুরস্কার, কাজী মাহবুবুল্লাহ পুরস্কার ও স্বর্ণপদক, আবুল হাসানাৎ সাহিত্য পুরস্কার, জনবার্তা স্বর্ণপদক, বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ পুরস্কার, জনকণ্ঠ গুণীজন সম্মাননা ও জাতীয় জাদুঘর কর্তৃক সংবর্ধনা।

আপনার মতামত দিন

অনলাইন অন্যান্য খবর



অনলাইন সর্বাধিক পঠিত



গণপূর্ত সচিবের ফোন ধরেননি তাই-

রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী হেলালীকে শোকজ

বিলেতে সাইকিয়াট্রিস্টের ডায়েরি

তিনি এখন ঈশ্বর কন্যা!