মালিতে প্রেসিডেন্টের মুখে বড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন একজন ইমাম

মানবজমিন ডেস্ক

বিশ্বজমিন ২৮ জুন ২০২০, রোববার | সর্বশেষ আপডেট: ১০:৩৯

আফ্রিকার দেশ মালিতে করোনা ভাইরাসের ভয় দূরে ফেলেই রাস্তায় বিক্ষোভ করছে এক দল মানুষ। তারা দেশটির প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম বোবাকার কেইটার পদত্যাগ চান। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির কথিত অভিযোগ এনেছেন বিক্ষুব্ধরা। একইসঙ্গে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দেশটিতে জিহাদিদের সহিংসতা বন্ধেও সরকার ব্যর্থ হয়েছে।
বিবিসি জানিয়েছে, আন্দোলনের সঙ্গে এরইমধ্যে যোগ দিয়েছে দেশটির বিরোধী দলগুলোও। সরকারকে চাপে ফেলতে একসঙ্গে সবাই মিলে রাস্তায় জড়ো করেছে হাজার হাজার মানুষ। তবে এই সব মানুষ কোনো রাজনৈতিক আহবানে রাস্তায় নামেনি। তাদেরকে রাস্তায় নামাতে যিনি সবথেকে বেশি ভ’মিকা রেখেছেন তিনি হলেন দেশটির একজন ইমাম মাহমুদ ডিকো।
ক্ষমতা নিশ্চিতে তাই কেইটা ও তার মন্ত্রী পরিষদকে এই ইমামের সঙ্গে দর কষাকষি করতে হচ্ছে।
ডিকোকে বলা হচ্ছে দরিদ্র এ দেশটির চলমান উত্তেজনার প্রধান খেলোয়ার। বিদেশি সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল দেশটির অর্থনীতি। জঙ্গিবাদ থেকে রক্ষায় সেখানে নিয়োযিত আছে ১৫ হাজারের বেশি বিদেশি সেনা। তবে অন্য সব দরিদ্র মুসলিম প্রধান দেশগুলোর মতো এখানেও ধর্মীয় নেতাদের দাপট দেখা যায়। গত এক দশক ধরে দেশটিতে প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন ডিকো। তবে এই প্রথম তার আহবানে রাস্তায় নেমে এসেছে হাজারো মানুষ। ২০১৯ সালে তার অনুসারীরা আন্দোলন করে দেশটির প্রধানমন্ত্রী সুমিলো বোবে মাইগাকে পদত্যাগে বাধ্য করে। গত ৫ জুন শুক্রবারের নামাজের পর থেকে আবারো রাস্তায় নেমে আসে ডিকোর অনুসারীরা। বামাকো ও সিকাসো শহরে তারা আন্দোলন চালিয়ে যায়।
তবে দুই সপ্তাহের মধ্যেই দেশটির বিভিন্ন শহরে ডিকোর অনুসারীরা আন্দোলন শুরু করে। এখনো এই আন্দোলন বড় হয়েই চলেছে। ফলে ডিকো এখন তার ক্ষমতাকে দর কষাকষির অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন। বিরোধী দলগুলোর সঙ্গেও সমঝোতা করেছেন তিনি। গত মঙ্গলবার কেইটা সরকারের প্রতিনিধি দল বিরোধীদলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসে। এর আগে তারা ইমাম ডিকোর সঙ্গেও কথা বলেন। কারণ, দেশটিতে এখন বিরোধী দলের থেকেও বেশি ক্ষমতাধর হয়ে উঠেছেন এই ইমাম।
চরম দরিদ্র দেশটিতে শিক্ষার হার মাত্র ৩৫ শতাংশ। ফলে দ্রুতই ডিকোর অনুসারী সংখ্যা বাড়তে থাকে। রক্ষণশীল সমাজের সমর্থন কাজে লাগিয়ে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নিজের প্রভাব বিস্তার করতে থাকেন ডিকো। তিনি প্রথম আলোচনায় আসেন ২০০৯ সালে। নারীদের অধিকার নিশ্চিতে এ বছর নতুন আইন প্রণয়ন করে মালির সরকার। তবে ডিকো ও তার অনুসারীরা দেশব্যাপী এর বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলে। তাদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সরকার শেষ পর্যন্ত এটি বাতিলে বাধ্য হয়।
তবে বিবিসি জানিয়েছে, রক্ষণশীল হলেও ইমাম ডিকো তীব্র জিহাদবিরোধী। একইসঙ্গে ধর্মীয় কারণে কারো ওপর নির্যাতনের বিরুদ্ধেও তিনি। ইসলামপন্থী জিহাদিরা যখন ২০১২ সালে উত্তর মালি দখল করে নেয় তখন তিনি জিহাদিদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। ২০১৩ সালে ফরাসি সেনারা মালিতে প্রবেশ করলে তিনি তাদেরকে স্বাগত জানান। তিনি ঘোষণা করেন, ফ্রান্সের সেনারা মালির অধিবাসীদের রক্ষা করতে এসেছে। এরপর ফ্রান্সের সেনারা দ্রুতই ওই অঞ্চলকে জিহাদিমুক্ত করতে সক্ষম হয়।

আপনার মতামত দিন

বিশ্বজমিন অন্যান্য খবর

২৩৯ বিজ্ঞানীর দাবি

করোনাভাইরাস বায়ুবাহিত

৬ জুলাই ২০২০

ড. ইউনূসের সাক্ষাতকার

ধনী-গরিব সবার জন্য প্রযোজ্য হতে হবে টীকা

৬ জুলাই ২০২০



বিশ্বজমিন সর্বাধিক পঠিত