লকডাউন তুলে নিতে রাজি নয় পশ্চিমবঙ্গ লোকাল ট্রেনেও আপত্তি

কলকাতা প্রতিনিধি

ভারত ২৯ মে ২০২০, শুক্রবার

আর তিনদিন পরেই ভারতে চতুর্থ দফায় লকডাউনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। তবে এর পরও লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানো হবে কিনা তা নিয়ে সকলে আলোচনা করছেন। দিল্লি সূত্রে খবর, লকডাউন পঞ্চম দফায় আরো ১৫ দিন বাড়ানো হতে পারে। তবে অর্থনীতির চাকা সচল করতে এবং জনজীবন স্বাভাবিক করতে আইনকানুন অনেকটাই শিথিল করা হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবারই কেবিনেট সচিব রাজীব গৌবা সব রাজ্যের মুখ্য সচিব ও স্বাস্থ্য সচিবদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠক করে লকডাউন নিয়ে সব রাজ্যের মত নিয়েছেন। আলোচনা হয়েছে রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি নিয়েও। ক্যাবিনেট সচিব রাজীব গৌবার সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্য সরকার এখুনি লকডাউন তুলে নেয়ার পক্ষে নয়। যেভাবে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে তাতে আরো কিছুদিন লকডাউন জারি রাখার পক্ষে মত দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
রাজ্য সরকার মনে করছে, এখনই লকডাউন তুললে বাড়তে পারে সংক্রমণ। জানা গেছে, শহরতলির ট্রেন এবং মেট্রোর মতো গণপরিবহন ব্যবস্থা চালু করার বিষয়ে রাজ্যের অভিমত জানতে চাওয়া হয়েছে ওই বৈঠকে। রাজ্যের কোভিড তথ্য উল্লেখ করে মুখ্যসচিব রাজীব সিংহ শহরতলির লোকাল ট্রেন এবং মেট্রো পরিসেবা এখনই চালু না করার কথা জানিয়েছেন ভারত সরকারকে। প্রতিদিন শিয়ালদহ এবং হাওড়া স্টেশন থেকে পূর্ব এবং দক্ষিণ পূর্ব রেলের লোকাল ট্রেনে প্রায় ২২ লাখ যাত্রী যাতায়াত করেন। মেট্রোতে যাতায়াত করেন প্রতি দিন প্রায় ৫ লাখ মানুষ। লোকাল ট্রেন ও মেট্রোয় আদৌ কতটা সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা সম্ভব তা নিয়ে সংশয় রয়েছে রাজ্য প্রশাসনের। প্রশাসনের আশঙ্কা, লোকাল ট্রেন এবং মেট্রো চালু হলে করোনা সংক্রমণ লাগাম ছাড়া হয়ে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যেতে পারে। তাই লোকাল ট্রেন ও মেট্রো পরিসেবা চালুর ব্যাপারে রাজ্যের তরফে আপত্তির কথা জানিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে গত বৃহস্পতিবার থেকে রাজ্য জুড়ে সরকারি বাস বেশি বেশি করে চালানো হচ্ছে। চলছে রাজ্যের  বিভিন্ন শহরের মধ্যে দূরপাল্লার বাসও। চালু হয়েছে অটো (সিএনজি)ও। বিধি মেনে দু’জন করে যাত্রী নিয়ে চলছে এই অটো। সকলের মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। রাজ্যে যেভাবে বিভিন্ন রাজ্য থেকে অভিবাসী শ্রমিকদের রাজ্যকে না জানিয়ে ট্রেনে করে ফেরত পাঠানো হচ্ছে তা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। একসঙ্গে হাজার হাজার শ্রমিক রাজ্যে এসে পৌঁছালে যে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং কোয়ারেন্টিনে রাখা সুষ্ঠুভাবে সম্ভব নয় সেকথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।


ইতিমধ্যেই অভিবাসী শ্রমিক আসার পর রাজ্যে সংক্রমণের হার অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে।


এদিকে বৃহস্পতিবার থেকে কলকাতা বিমানবন্দর দিয়ে প্রতিদিন ১১টি বিমান চালানো শুরু হয়েছে। ফলে বিমানে করে বিভিন্ন শহর থেকে মানুষ আসছেন। তাদের স্বাস্থ্যের দিকে বিশেষ নজর দেয়ার জন্য বিমানবন্দরেই কোয়ারেন্টিন সেন্টার করা হয়েছে। তিন তারা ও পাঁচতারা হোটেলে পেইড কোয়ারেন্টিনেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। এদিন পশ্চিমবঙ্গেও মুখ্যসচিব জানিয়েছেন, রাজ্য লকডাউন চালু রাখার পক্ষে হলেও আরো বেশ কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেয়া হবে। রেড জোনে লকডাউন কঠোরভাবে জারি থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।

আপনার মতামত দিন

ভারত অন্যান্য খবর



ভারত সর্বাধিক পঠিত