যা বললেন জীবিত আরোহী

পাকিস্তানে বিমান দুর্ঘটনা: আর্তচিৎকার, ধোয়া, আগুন (নতুন ভিডিও)

মানবজমিন ডেস্ক

বিশ্বজমিন ২৩ মে ২০২০, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৫:০৯

চারদিকে আর্তনাদ। ধোয়া আর আগুন। আর্ত চিৎকার ভেসে আসছিল সব দিক থেকে। চিৎকার করছিল শিশুরা। চিৎকার করছিলেন বড়রাও। আমি শুধু দেখতে পাচ্ছিলাম আগুন। পাকিস্তানের করাচিতে বিধ্বস্ত বিমানের জীবিত উদ্ধার মাত্র দু’জন আরোহীর একজন জাফর মাসুদ ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছিলেন এভাবেই। তিনি ব্যাংক অব পাঞ্জাবের একজন ম্যানেজার।
তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ভেঙে গেছে। তবে তিনি সচেতন আছেন এবং সাড়া দিচ্ছিলেন। জীবিত উদ্ধার অন্যজন হলেন ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ জুবায়ের। বিমানের মোট আরোহীর ৯৯ জনের মধ্যে ৯৭ জনই মারা গেছেন। জুবায়ের বলেন, প্রথমে বিমানটির পাইলট অবতরণের চেষ্টা করেন। সামান্য সময়ের জন্য মাটি স্পর্শ করেন। তারপরই আবার আকাশে উড়ে যান। প্রায় ১০ মিনিট উড়ার পর পাইলট ঘোষণা করেন, তিনি দ্বিতীয়বার অবতরণের চেষ্টা করছেন। এরপরই তিনি অবতরণের চেষ্টা করেন। আর এ সময়ই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। মুহাম্মদ জুবায়ের এখন সিভিল হাসপাতাল করাচিতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।


তবে এ দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, বিমানটি জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের জন্য তিনবার উদ্যোগ নেয়। চতুর্থবার অবতরণের চেষ্টা চালালে মডেল কলোনিতে আবাসিক ভবনের ওপর বিধ্বস্ত হয়। ওদিকে বিমানটির পাইলট ট্রাফিক কন্ট্রোলকে জানিয়েছিলেন তিনি বিমানের দুটি ইঞ্জিনেরই নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন। তাই তিনি উদ্ধারের চূড়ান্ত আহ্বান জানান। উল্লেখ্য বিধ্বস্ত এয়ারবাস এ৩২০-২১৪ মডেলের এই বিমানটিতে ছিল সিএফএম৫৬ ইঞ্জিন। এর নির্মাতা যুক্তরাষ্ট্রের জেনারেল ইলেকট্রিক এবং ফ্রান্সের সাফ্রানের যৌথ উদ্যোগ সিএফএম ইন্টারন্যাশনাল। বিমানটির যেসব ছবি প্রকাশিত হয়েছে তাতে দেখা যায় এর ল্যার্ন্ডিং গিয়ার উপরে তখনও। প্রতিটি ইঞ্জিনে কালো দাগ রয়েছে। ওদিকে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলে পাইলটের যে বার্তা রেকর্ড হয়েছে তা তার প্রথম ব্যর্থ অবতরণ চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পরের।
এতে তাকে বলতে শোনা যায়, উভয় ইঞ্জিনের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছি স্যার। আমাকে সরাসরি অবতরণ করতে হচ্ছে।


এ সময় এয়ার কন্ট্রোলার তাকে বলেন, রানওয়েতে বিমানের পেট নামিয়ে দেয়া নিশ্চিত করুন।
ট্রান্সমিশন বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগে পাইলটকে বলতে শোনা যায়- স্যার, মেডে, মেডে, মেডে, মেডে পাকিস্তান ৮৩০৩। উল্লেখ্য, বিমান চলাচলে ভয়াবহ বিপদ বুঝাতে মেডে শব্দটি ব্যবহার করা হয়।
দুর্ঘটনায় পতিত হওয়ার আগের ও পরের অনেক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা যায়, বিমানটি সরাসরি অবতরণের চেষ্টা করছে। সরাসরি তা চলে যাচ্ছে আবাসিক এলাকায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, এ সময় বিমানটি খুব নিচু দিয়ে উড়ছিল। তাদের মনে হচ্ছিল, তাতে তাদের বাড়িঘরগুলোর দেয়াল ভেঙেচুরে যাচ্ছে। এক পর্যায়ে বিমানটি একদিকে কাত হয়ে যায়। এর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে দরিদ্র ও ঘনবসতিপূর্ণ মডেল কলোনিতে বাড়িঘরের ওপর আছড়ে পড়ে বিমানটি। এ এলাকাটি বিমানবন্দর থেকে দুই মাইল দূরে। সঙ্গে সঙ্গে সেখানে এক বিশৃংখল অবস্থার সৃষ্টি হয়। লোকালয়ের ধ্বংসাবশেষ আর বিমানের বিধ্বস্ত অংশ মিলে এক ভয়াবহ দৃশ্যের অবতারণা হয়। কিছু সময় আগুন জ¦লতে থাকে। আকাশে কালো ধোয়া কুন্ডলি পাকিয়ে উড়তে থাকে।
পাকিস্তানজুড়ে বলাবলি হচ্ছে জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী জারা আবিদ এই দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইন্সটাগ্রামে তার রয়েছে কমপক্ষে ৮০,০০০ অনুসারী। তবে তিনি নিহত হয়েছেন এমনটা নিশ্চিত হওয়া যায় নি। তবে পাকিস্তানি ফ্যাশন ডিজাইনার ও অভিনেতা অভিনেত্রীরা তার প্রতি টুইটারে শ্রদ্ধা প্রকাশ করছেন। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনা থেকে মাত্র দু’জন প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন। ১৭টি মৃতদেহ শনাক্ত করা হয়েছে।

আপনার মতামত দিন

বিশ্বজমিন অন্যান্য খবর

হৃদয় বিদারক!

২৮ মে ২০২০



বিশ্বজমিন সর্বাধিক পঠিত