করোনার ভয়াল থাবায় মধ্যপ্রাচ্য

মানবজমিন ডেস্ক

বিশ্বজমিন ২২ মে ২০২০, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ৮:৩৫

মধ্যপ্রাচ্যে জেঁকে বসেছে করোনা ভাইরাস (কভিড-১৯) সংক্রমণ। ইরান, ইয়েমেন, গাজা, মিসর, জর্ডানসহ পুরো অঞ্চলে করোনার আতঙ্ক ভয়াল রূপ ধারণ করেছে। ইরানে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ১০ হাজারের বেশি স্বাস্থ্যকর্মী। যুদ্ধ-বিপর্যস্ত ইয়েমেন ও গাজা উপত্যকায় ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব সাম্প্রতিক দিনগুলোয় লাফিয়ে বেড়ে চলেছে। মিসরে সরকারের বিরুদ্ধে করোনা নিয়ে তথ্য ধামাচাপা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ইরান
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা আইএলএনএ বৃহস্পতিবার দেশটির উপ-স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাসেম জানবাবেইকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, সেখানে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১০ হাজারের বেশি স্বাস্থ্যকর্মী। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। তবে এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে এক সরকারি প্রতিবেদনে দেশটিতে করোনা আক্রান্ত স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা মাত্র ৮০০ উল্লেখ করা হয়। প্রসঙ্গত, মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী করোনা সংক্রমণ হয়েছে ইরানে।
জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটির উপাত্ত অনুসারে, শুক্রবার সকাল ৯টা অবধি সেখানে এই ভাইরাসে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৭ হাজার ২৪৯ জন। আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ২৯ হাজারের বেশি।
ইয়েমেন
করোনার আগেই কয়েক বছর ধরে চলমান যুদ্ধে বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে ইয়েমেন। বিশ্বের সবচেয়ে মানবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল সেখানে আগ থেকেই। দুর্ভিক্ষের কিনারে থাকা দেশটির জন্য করোনা যেন ‘মরার উপর খরার ঘা’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোয় সেখানে করোনার সংক্রমণ ব্যাপক হারে বাড়ছে। আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিষয়ক দাতব্য সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স (এমএসএফ) জানিয়েছে, করোনা দেশটিতে বড় ধরনের বিপর্যয় নিয়ে আসছে। ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলে আদেন শহরে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিচালনা করে এমএসএফ কর্মীরা। তারা জানায়, গত ৩০শে এপ্রিল থেকে ১৭ই মে পর্যন্ত সেখানে ভর্তি হয়েছে ১৭৩ জন করোনা আক্রান্ত। এর মধ্যে অন্তত ৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের দখল রয়েছে জাতিসংঘ স্বীকৃত সরকারের কাছে। সরকারি হিসাবে ওই অঞ্চলে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১৯৩ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ৩৩ জন। ইয়েমেনে এমএসএফের কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ক্যারোলিন সেগুইন আদেন শহরের প্রসঙ্গে বলেন, করোনায় মৃত ও আক্রান্তের যে সংখ্যা আমরা যা দেখছি, সেটা কেবল হিমশৈলের উপরিভাগ। বেশিরভাগ মানুষই দেরি করে চিকিৎসার জন্য আসছেন আমাদের কাছে। আরো অনেকে আসেনই না। তারা বাড়িতে থেকেই মারা যাচ্ছেন।
তবে জাতিসংঘ স্বীকৃত সরকারের হিসাবই ইয়েমেনে করোনার পুরো চিত্র উঠে আসে না। দেশটির উত্তরাঞ্চলের বেশিরভাগ অংশই বিদ্রোহী হুতিদের দখলে। সরকারের হিসাবে ওই অঞ্চলের করোনা সংক্রমণ যোগ করা হয় না। আশঙ্কা করা হচ্ছে, হুতিরা উত্তরাঞ্চলে সংক্রমণের প্রকৃত তথ্য ধামাচাপা দিয়ে রাখছে। এখন পর্যন্ত সেখানে চার জন আক্রান্ত ও একজন সোমালি অভিবাসীর মৃত্যুর কথা জানিয়েছে তারা।
উল্লেখ্য, পাঁচ বছরের বেশি সময়ের যুদ্ধে ইয়েমেনের অধিকাংশ স্বাস্থ্য অবকাঠামোই ধ্বংস হয়ে গেছে। দেশটির স্বাস্থ্য ব্যবস্থা আগ থেকেই দুর্বল। দেশটির ৩৩৩টি জেলার ১৮ শতাংশে কোনো চিকিৎসক নেই। পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থাও ধসে পড়েছে। অনেকের জন্য দিনে একবেলা খাবার জুটানোই কঠিন। এর মধ্যে করোনা সংকট দেশটিকে অভাবনীয় বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে।
গাজা উপত্যকা
ইয়েমেনের পাশাপাশি গাজা উপত্যকায়ও করোনা সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গত তিন দিনে সেখানে ৩৫টি নতুন সংক্রমণের কথা জানিয়েছে। এতে উপত্যকাটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৫ জনে। অবশ্য নতুন সকল আক্রান্তই বহিরাগত। তাদের সকলকে বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইউসেফ আবু এল-রিশ বৃহস্পতিবার বলেন, ভাইরাসটি কোয়ারেন্টিন কেন্দ্রের বাইরে ছড়িয়ে পড়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে সশস্ত্র বাহিনী হামাস গাজা উপত্যকায় ক্ষমতায় আসে। এরপর থেকে সেখানে টানা অবরোধ জারি রেখেছে ইসরাইল ও মিসর। এই অবরোধে ভেঙে পড়েছে উপত্যকাটির স্বাস্থ্যব্যবস্থা। পুরো উপত্যকায় ২০ লাখ মানুষের জন্য মাত্র ৬০টি ভেন্টিলেটর রয়েছে।
তথ্য নিয়ন্ত্রণ করছে মিসর
করোনা ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে কঠোরভাবে তথ্য নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে মিসর সরকারের বিরুদ্ধে। আক্রান্তের সংখ্যা বিষয়ক সরকারি তথ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করায় জনসম্মুখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে কর্মকর্তাদের। কাউকে পদচ্যুত করা হচ্ছে। আবার কাউকে কারাদণ্ড দেয়া হচ্ছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে দেশটিতে প্রকৃত সংক্রমণের হার সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি। অবশেষে বৃহস্পতিবার এক সরকারি কর্মকর্তা তেমনটা স্বীকার করেছেন।
মিসরের উচ্চশিক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী খালেদ আব্দেল ঘাফফার বৃহস্পতিবার এক সম্মেলনে বলেন, করোনার বিভিন্ন মডেল অনুসারে, দেশটিতে করোনা সংক্রমণের প্রকৃত হার সরকারি হিসাবের চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি হওয়ার কথা। এখন অবধি সেখানে নিশ্চিত ১৫ হাজার ৩ জন ব্যক্তি করোনা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার।
প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাত্তাহ আল সিসির সরকার করোনা সংক্রমণ নিয়ে গণমাধ্যমের উপরও চড়াও হয়েছে। গত মার্চে দেশটিতে বৃটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদককে এক প্রতিবেদনের জেরে বহিষ্কার করা হয়।
এদিকে, করোনায় বিপর্যস্ত জর্ডানের অর্থনীতি। অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে দেশটিকে প্রায় ৪০ কোটি ডলার জরুরি আর্থিক সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Mahmud

২০২০-০৫-২২ ১০:৪০:৩২

Akoi katare bangladesh, chin, india, misr,north korea.

আপনার মতামত দিন

বিশ্বজমিন অন্যান্য খবর

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর বিচার শুরু

এক দশকেরও বেশি জেল হতে পারে নেতানিয়াহুর

২৪ মে ২০২০



বিশ্বজমিন সর্বাধিক পঠিত