এবারও দক্ষিণাঞ্চলকে আগলে রাখলো সুন্দরবন

স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা থেকে

বাংলারজমিন ২১ মে ২০২০, বৃহস্পতিবার

সুন্দরবন দেশের উপকূলকে মায়ের মতো আগলে রেখেছে সবসময়। সুন্দরী গেওয়াসহ নানা বৃক্ষের মজবুত বেষ্টনী আর অসংখ্য নদীনালা বছরের পর বছর ধরে প্রাণী ও সম্পদ রক্ষা করে আসছে। নিজে ক্ষত-বিক্ষত হলেও উপকূলের তেমন ক্ষতি হতে দেয়নি। এবারও ঘূর্ণিঝড় আম্পান বাংলাদেশের লোকালয়ে আঘাত হানার আগেই তার প্রবল শক্তি হ্রাস করে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা কমিয়ে দিয়েছে সুন্দরবন। তবে সুন্দরবন কতবার যে ঘূর্ণিঝড়, ঝড়, প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করেছে, তার কোনো পরিসংখ্যান নেই। অত্যন্ত শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’ থেকে রক্ষায় এবারও বুক পেতে দিল সুন্দরবন।
বুধবার তীব্র বাতাস, ভারী বৃষ্টিপাত ও উঁচু জলোচ্ছ্বাস নিয়ে উপকূলজুড়ে তান্ডব চালিয়েছে ঘূর্ণিঝড় আম্পান। সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হয়ে সর্বোচ্চ ১১২ কিলোমিটার গতিতে আঘাত হেনেছে। প্রায় ৬ ঘণ্টা তান্ডব চালিয়ে রাত ১২টার দিকে খুলনা জেলাকে অতিক্রম করেছে আম্পান।
সুন্দরবন দিয়ে অতিক্রম করার কারণে আম্পানের তান্ডব কিছুটা কম হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় আম্পানের ছোবল থেকে উপকূলীয় এলাকা রক্ষায় সুন্দরবন যে ঢাল হিসেবে কাজ করেছে সেই ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে সুন্দরবন একাডেমির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির বলেন, সুন্দরবন দিয়ে অতিক্রম করায় আম্পানের তা-ব কিছুটা কম হয়েছে। বরাবরের মতো এবারও উপকূলীয় এলাকার মানুষ ও সম্পদ রক্ষা করতে বুক চিতিয়ে লড়াই করলো সুন্দরবন।
তিনি বলেন, ভারত থেকে আম্পান যে গতি নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিল তার প্রভাব সেভাবে পড়তে পারেনি বনের গাছপালায় এই ঝড় বাঁধা পাবার কারণে। ভারতের সুন্দরবনের অংশের চেয়ে বাংলাদেশ অংশে গাছ ঘন থাকায় ঘূর্ণিঝডড়ের বাতাস বাধাপ্রাপ্ত হয়ে অপেক্ষাকৃত কম গতি নিয়ে খুলনাসহ উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানে।
শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ঠেকাতে এর আগেও ঢাল হিসেবে কাজ করেছে সুন্দরবন। বিশেষ করে ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় সিডর এবং ২০০৯ সালের ২৫শে মে ঘূর্ণিঝড় আইলার তান্ডব থেকে এই বন উপকূলকে রক্ষা করেছে। এছাড়া ঘূর্ণিঝড় বুলবুল ও ফণি থেকেও রক্ষা করেছে সুন্দরবন।
প্রাথমিকভাবে বন কর্মকর্তারা ধারণা করছেন ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কারণে গাছপালা কিছু ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বন্য প্রাণীদের উপর বড় ধরনের কোনো প্রভাব পড়েনি। বন বিভাগের খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক মো. মঈনুদ্দিন খান বলেন, সুন্দরবনের ভেতরে এখনো বাতাস বইছে। আম্পানে ক্ষতি তো কিছু হয়েছে। বনরক্ষী ও কর্মকর্তারা ঝড়ের কারণে নিরাপদ আশ্রয়ে ছিলেন। তারা এখন গিয়ে পর্যবেক্ষণ করে সুন্দরবনের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করবেন। তবে ক্ষতির পরিমাণ খুব বেশি হয়েছে তা বলবো না। জোয়ারের সময় পানির উচ্চতা বেশি ছিলো। এতে সুন্দরবনের ভেতরে থাকা মিষ্টি পানির পুকুরে লবণ পানি ডুকেছে। এটাই বেশি ক্ষতি হয়েছে।  বন সংরক্ষক বলেন, প্রতিবারের মতো এবারও প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের সামনে বুক পেতে দিয়ে বাংলাদেশকে বাঁচিয়েছে সুন্দরবন। সুন্দরবনে বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণে ঝড়ের বেগ অনেক কমে গেছে যার কারণে আল্লাহর রহমতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কম হয়েছে।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

SJ

২০২০-০৫-২২ ০০:৩৭:৩০

উপধারায় মন তৃপ্তি , বাস্তবতা ভিন্ন ।

আপনার মতামত দিন

বাংলারজমিন অন্যান্য খবর

ঝালকাঠিতে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের পর মুক্তিপণ দাবি

৩০ মে ২০২০

ঝালকাঠির কাঠালিয়ায় এক কলেজছাত্রীকে আটকে রেখে বখাটেরা ধর্ষণ করার পরে অভিভাবকদের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে। ...

চিরিরবন্দরে বর ও কনের পিতাকে জরিমানা

২৯ মে ২০২০

চিরিরবন্দরে স্কুলছাত্রীর বাল্যবিয়ে বন্ধ করে  দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক বর-কনেপক্ষকে জরিমানা করেছে। বর ও কনের ...

রূপগঞ্জে করোনায় একদিনে আক্রান্ত-৬০

২৯ মে ২০২০

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে একদিনে সর্বোচ্চ ৬০ জন আক্রান্ত হয়েছে। এনিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাড়াল ৩৪৪ ...

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে হঠাৎই বেড়েছে আক্রান্তের সংখ্যা

২৯ মে ২০২০

হঠাৎই আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে। করোনা ভাইরাস নমুনা পরীক্ষায় শুক্রবার যে ১৭ জনের পজেটিভ ...



বাংলারজমিন সর্বাধিক পঠিত