পশ্চিমবঙ্গে সংক্রমণ বৃদ্ধির হার ঊর্ধ্বমুখী কলকাতা ও হাওড়ায় রেড এলার্ট

কলকাতা প্রতিনিধি

ভারত ১৮ এপ্রিল ২০২০, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৯:৪৪

পশ্চিমবঙ্গে সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরুদ্ধে কারচুপির অভিযোগ করেছেন বিরোধীরা। এমনকি কলকাতা হাইকোর্টে মামলাও হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা কম দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ। আবার এমন অভিযোগও উঠেছে প্রয়োজনীয় সংখ্যায় পরীক্ষাই হচ্ছে না। তবুও সরকার কিছুদিন আগেও এ ব্যাপারে স্বস্তিতে থাকলেও গত কয়েকদিনে পশ্চিমবঙ্গে সংক্রমণের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১৪৪ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১৬২ হয়েছে। মৃত্যু অবশ্য ১০ জনই রয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের মতে, আগে যেখানে গড়ে  প্রতিদিন ১০-১২টি করে নতুন সংক্রমণের খবর আসছিল, গত দু’দিনে সেই সংখ্যা  গড়ে ২২-২৪ হয়েছে।
এই অবস্থায়  শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেড এলার্ট ঘোষণা করেছেন হাওড়ার কিছু এলাকা এবং উত্তর ও মধ্য কলকাতার জন্য। এমনকি লকডাউন কঠোরভাবে কার্যকর করতে সশস্ত্র পুলিশ নামানোর চিন্তাভাবনাও চলছে বলে তিনি জানিয়েছেন। হাওড়াকে রেড জোন থেকে রেড স্টার জোনে রাখা হয়েছে। আর উত্তর ও মধ্য কলকাতাকে রেড জোনে রাখা হয়েছে। আসলে গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে করোনা সংক্রমণের ৯০ শতাংশ খবর এসেছে হাওড়া ও কলকাতার কয়েকটি জায়গা থেকে।  শুক্রবার জেলাশাসক-পুলিশ সুপারদের সঙ্গে ভিডিও বৈঠকে মমতা বলেছেন, অনেক হয়েছে, আর নয়। টোটাল লকডাউন হবে। প্রয়োজনে হাওড়ায় সশস্ত্র পুলিশ নামবে। কলকাতাতেও পুলিশ কঠোর হবে। কাউকে বেরোতে দেয়া হবে না। প্রয়োজন হলে পুলিশ বাড়িতে খাবার বা প্রয়োজনীয় জিনিস পৌঁছে দিয়ে আসবে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক করোনা চিত্রে কলকাতা, হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরকে ‘হটস্পট’ বলে ঘোষণা করেছে।  এ দিন মুখ্যমন্ত্রী নিজে করোনা-আক্রান্ত এলাকাকে ‘রেড জোন’, ‘রেড স্টার’ জোন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, যে সব এলাকায় ১৫ দিন আগেও একটা-দু’টো কেস আসছিল, সেখানে হুড়হুড় করে কেস বেরোতে শুরু করেছে। এ সব চেপে রাখার চেষ্টা করবেন না। উপসর্গ দেখা দিলে হাসপাতালে আসতে হবে। স্বাস্থ্য কর্তাদের অবশ্য যুক্তি, পরীক্ষার সংখ্যা বৃদ্ধির ফলেই বেশি বেশি করে সংক্রমণের কথা জানা যাচ্ছে। নতুন সংক্রমণ ঘটেছে ডায়মন্ড হারবার, মুর্শিদাবাদ, ডানকুনি, জলপাইগুড়ি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া ও দার্জিলিং থেকে। তবে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর রেড জোনে ছিল। এগরার বিয়েবাড়ি থেকে ছড়িয়েছিল সংক্রমণ। এখন লকডাউন এলাকায় নতুন কোনও  সংক্রমণ নেই। ১৪ দিন এমন চললে পূর্ব মেদিনীপুর অরেঞ্জ জোনে (কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের সংজ্ঞায় যে এলাকায় টানা ১৪ দিন নতুন সংক্রমণ নেই) চলে আসবে। উত্তর ২৪ গরগনাতেও কঠোরভাবে লকডাউন মানার নির্দেশ জারি করা হয়েছে। হুগলিতে এখনও পাঁচটি ‘করোনা অ্যাক্টিভ কেস’ রয়েছে। কোন্নগর, ডানকুনি, শেওড়াফুলি, রিষড়া, মাহেশ-সহ কয়েকটি এলাকায় বিশেষ নজর রাখতে বলা হয়েছে। এদিকে, রাজ্যের যেখানেই বাসিন্দাদের জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্টের উপসর্গ দেখা দেবে, তাঁদের ‘সারি’ (সিভিয়র অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ইলনেস) হিসেবে চিহ্নিত করে হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, মুর্শিদাবাদে জ্বর-শ্বাসকষ্টের রোগীর সংখ্যা বেশি। সেখানকার জেলাশাসককে সতর্ক করে মুখ্যসচিব বলেছেন, মুর্শিদাবাদে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা কম হলেও, জ্বর-শ্বাসকষ্টে ভোগা রোগীর ইতিহাস রয়েছে। মালদহ নিয়ে একইভাবে সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে। তবে রাজ্যের ২৩টি জেলার মধ্যে ১০টি জেলা থেকে কোনও সংক্রমণের খবর এখন পর্যন্ত পাওয়া যায় নি।

আপনার মতামত দিন

ভারত অন্যান্য খবর

করোনায় আক্রান্ত ভারতের প্রতিরক্ষা সচিব

৬ জুন ২০২০

দিল্লির বিভিন্ন সরকারি অফিসে ইতিমধ্যেই করোনা থাবা বসিয়েছে। তবে এই প্রথম করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন সর্বোচ্চ ...



ভারত সর্বাধিক পঠিত