‘ভৈরবে মারা যাওয়া ইতালি ফেরত ব্যক্তি করোনা আক্রান্ত ছিলেন না’

স্টাফ রিপোর্টার, কিশোরগঞ্জ থেকে

বাংলারজমিন ২৫ মার্চ ২০২০, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ৫:৫২

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে গত রোববার রাতে মারা যাওয়া ইতালি ফেরত আবদুল খালেক (৬০) করোনা ভাইরাস কভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত ছিলেন না। জাতীয় রোগতত্ত্ব নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা কেন্দ্র (আইইডিসিআর) থেকে নমুনা সংগ্রহ করার পর কভিড-১৯ নেগেটিভ রিপোর্ট পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. মুজিবুর রহমান। তিনি জানান, আইইডিসিআর থেকে মৃত ব্যক্তির ছাড়াও তার স্ত্রী, পুত্রবধূ ও ভাইয়ের স্ত্রীর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। এই তিনজনেরও কোভিড-১৯ নেগেটিভ রিপোর্ট পাওয়া গেছে।
ইতালি ফেরত আব্দুল খালেকের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বলতে গিয়ে সিভিল সার্জন ডা. মো. মুজিবুর রহমান জানান, আইইডিসিআর থেকে কেবল করোনাভাইরাসের বিষয়টি শনাক্ত করা হয়। তবে ইতালি ফেরত ব্যক্তিকে চিকিৎসা প্রদানকারী চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তির মৃত্যু হৃদরোগজনিত কারণে হতে পারে।
এদিকে করোনা সন্দেহে মৃত রোগীর সংস্পর্শে আসার কারণে ভৈরব শহরের লক্ষ্মীপুর এলাকার আবেদীন হাসপাতাল (প্রা.) ও ডক্টরস চেম্বার নামে পরিচিত সাঈদ ইউসুফ মেমোরিয়াল হাসপাতাল এই দুইটি বেসরকারি হাসপাতালকে সাময়িকভাবে বন্ধ করার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। মৃত ব্যক্তির করোনাভাইরাস নেগেটিভ আসায় বেসরকারি হাসপাতাল দু’টিকে পুনরায় স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বুলবুল আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মারা যাওয়া ইতালি ফেরত আব্দুল খালেকের বাড়ি ভৈরব পৌর শহরের জগন্নাথপুর এলাকায়।
তিনি প্রায় ১৮ বছর আগে ইতালিতে যান। পরে তিনি তার দুই ছেলেকেও ইতালি নিয়ে যান। বর্তমানে তার দুই ছেলে ইতালিতে থাকলেও ইতালিতে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর তিনি গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি দেশে ফিরেন। কিন্তু তার নাম কোয়ারেন্টিন তালিকায় ছিল না। তিনি নিজেও হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা বা উপজেলা পর্যায়ে গঠিত করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির কারো সাথে যোগাযোগ করেননি। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি স্বাভাবিক জীবনযাপন করেছেন। গত রোববার রাত সোয়া ১০টার দিকে ইতালি ফেরত ব্যক্তিকে তার স্বজনেরা করোনার উপসর্গ নিয়ে শহরের লক্ষ্মীপুর এলাকার আবেদীন হাসপাতাল (প্রা.) এ নিয়ে গেলে চিকিৎসক সরকারি আইসোলেশন সেন্টারে যেতে বলেন। কিন্তু তার স্বজনরা তাকে সেখানে না নিয়ে রাত পৌনে ১১টার দিকে শহরের কমলপুর এলাকার ডক্টরস চেম্বার নামে পরিচিত সাঈদ ইউসুফ মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে ওই ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পেয়ে রাতেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ভৈরবের উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিমাদ্রী খিসা, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বুলবুল আহমেদ ও ভৈরব থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বাহালুল খান বাহার মারা যাওয়া ব্যক্তির এলাকায় যান। এ সময় তারা সবাইকে নিজ নিজ বাসায় অবস্থান করার নির্দেশনা দেন এবং মৃত ব্যক্তির বাড়িসহ আশপাশের ১০টি বাড়িতে পুলিশ মোতায়েন করে বিশেষ নজরদারিতে নেয়া হয়। এছাড়া দুই বেসরকারি হাসপাতালে যাঁরা কর্মরত ছিলেন, তাঁদের হাসপাতালের ভেতরেই অবস্থান করতে বলা হয় এবং হাসপাতাল দু’টি সাময়িক লকডাউন করে দেয়া হয়।
এ পরিস্থিতিতে সোমবার সকালে ঢাকা থেকে আইইডিসিআর এর লোকজন ভৈরবে এসে করোনাভাইরাস সন্দেহে মারা যাওয়া ওই ব্যক্তির রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে। এছাড়া ওই ব্যক্তির পরিবারের তিন সদস্যের নমুনাও তখন সংগ্রহ করে আইইডিসিআর। পরে দুপুরে ভৈরব পৌর কবরস্থানে বিশেষ ব্যবস্থায় লাশ দাফন করা হয়।

আপনার মতামত দিন



বাংলারজমিন অন্যান্য খবর

মির্জাগঞ্জে মাস্ক ও সাবান বিতরণ

৩০ মার্চ ২০২০

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষার্থে ও নিরাপদ থাকার জন্য পটুয়াখালী মির্জাগঞ্জে সাধারণ মানুষের মাঝে বিনামূল্যে ...

মুখে জীবন্ত কৈ গলায় আটকে একজনের মৃত্যু

৩০ মার্চ ২০২০

পুকুরে ধরা জীবন্ত কৈ মাছ মুখে নিয়ে আরেকটি ধরতে ডুব দিয়েছিলেন তৌফিক মোহাম্মদ ওসমানী (৫০)। ...



বাংলারজমিন সর্বাধিক পঠিত