১৫০০ কোটি ডলারের পোশাকের ক্রয়াদেশ স্থগিত

অর্থনৈতিক রিপোর্টার

শেষের পাতা ২৪ মার্চ ২০২০, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:১৬

করোনা ভাইরাসের প্রভাবে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৮৯টি পোশাক কারখানার বিভিন্ন পরিমাণে অর্ডার স্থগিত বা বাতিল হয়েছে। এর ফলে, প্রায় ১৫০০ কোটি ডলারের পোশাকের ক্রয়াদেশ স্থগিত হয়েছে বলে জানিয়েছে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। দেশীয় মুদ্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা। এ পরিস্থিতিতে অনেক পোশাক কারখানা বন্ধের উপক্রম হয়েছে। রোববার রাতে বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক বলেন, ভয়াবহ অবস্থা চলছে আমাদের। বিভিন্ন দেশ, বিভিন্ন মহাদেশ থেকে সব ক্রেতারা তাদের ক্রয়াদেশ আপাতত বাতিল বা স্থগিত করছে। বলছে স্থগিত, কিন্তু আমাদের জন্য স্থগিত করা কিংবা বাতিল করা একই কথা। কাজেই সবকিছু মিলিয়ে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৮৯টি কারখানা আমাদের ওয়েব পোর্টালে এন্ট্রি করেছে।
এর মধ্যে ৮৭ কোটি ৩২ লাখ ৬৬ হাজার ৬২২টি পোশাক কার্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। এর আর্থিক মূল্য ১.৪৮ বিলিয়ন ডলার (১৪৮ কোটি ডলার)। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ১২ লাখ।
রুবানা হক বলেন, ক্ষতির পরিমাণ হিসাব করতে আমরা একটি ওয়েব পোর্টাল করেছি। সেখানে প্রায় ৪ হাজার কারখানার মধ্যে ১ হাজার ৮৯টি কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে এন্ট্রি দিয়েছে। এটা বাড়তে বাড়তে কোন অবস্থায় যায়, আমরা এখন সেটি দেখার অপেক্ষায় আছি। এ পরিস্থিতি দেশের পোশাক খাতের জন্যে খুবই উদ্বেগের। বিজিএমইএ নেতারা জানিয়েছেন, বিশ্বের স্বনামধন্য প্রায় সব বায়ারই ক্রয়াদেশ বাতিল করছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পোশাক খাতের পূর্ব অভিজ্ঞতা অনুযায়ী ক্রয় আদেশ স্থগিত হলে পরে তা বেশিভাগ ক্ষেত্রে বাতিলই হয়ে যায়।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, তৈরি পোশাক খাতের বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাজার ইউরোপ ও আমেরিকা। সেখানে করোনা ভাইরাস ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় সেখানকার ক্রেতারা ক্রয়াদেশ বাতিল কিংবা স্থগিত করতে শুরু করেছে। এ অবস্থায় ইউরোপ-আমেরিকায় করোনা ভাইরাসের প্রকোপ দ্রুত সময়ের মধ্যে নিয়ন্ত্রণে না এলে ক্রয়াদেশ বাতিলের পরিমাণ বাড়বে। তারা বলেন, একদিকে ক্রয়াদেশ বাতিল ও স্থগিত হচ্ছে, অন্যদিকে নতুন করে ক্রয়াদেশও আসছে না। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে রপ্তানি বাণিজ্যের অন্যতম এই খাতটি। এই অবস্থা আরও কিছুদিন চলতে থাকলে অনেক কারখানা বন্ধ করে দিতে হবে। পাশাপাশি শ্রমিকদের বেতন দেয়াও সম্ভব হবে না। তা হলে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
এদিকে সরকার, মালিক ও শ্রমিক পক্ষের বড় একটি অংশ এখনই কারখানা বন্ধের পক্ষে নয়। অন্য একটি পক্ষ অবশ্য শ্রমিকের সুরক্ষায় গার্মেন্টস বন্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
শ্রমিক লীগের সভাপতি ফজলুল হক মন্টু বলেন, আমরা গার্মেন্টস চালু রাখার পক্ষে। আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। আমরা মনে করি, কারখানা বন্ধ করে দিলেই সমাধান হবে না। বরং বন্ধ করে দিলে তা আরও মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
তবে জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম রনি মনে করেন, শ্রমিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে কারখানা বন্ধ করা উচিত।

আপনার মতামত দিন

শেষের পাতা অন্যান্য খবর

স্থানীয় সরকার নির্বাচন

যে কেউ পাবে না আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

জবানবন্দিতে রবিউল

ইউএনও’র ওপর হামলার লোমহর্ষক বর্ণনা

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

সিলেটে লড়াইয়ে শফিক চৌধুরী

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

বাজারে নাভিশ্বাস

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

হাটহাজারী মাদ্রাসা

রুদ্ধশ্বাস ৩৬ ঘণ্টা

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরো ২২ মৃত্যু শনাক্ত ১৫৪১

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরো ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত ...

একদিনে করোনায় আরো ৩৬ জনের মৃত্যু

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট ...

নারায়ণগঞ্জ ট্র্যাজেডি

কোনো পক্ষই দায় এড়াতে পারে না: তদন্ত কমিটি

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

নারায়ণগঞ্জের পশ্চিম তল্লা বাইতুস সালাত জামে মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় জেলা প্রশাসন গঠিত পাঁচ সদস্যের ...

সরকারি কর্মকর্তাদের প্রধানমন্ত্রী

আত্মবিশ্বাস নিয়ে জনগণের জন্য কাজ করুন

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

দিনাজপুরে ইউএনও হত্যা প্রচেষ্টা

রবিউল আরো ৩ দিনের রিমান্ডে

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০



শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত



হাটহাজারী মাদ্রাসা

রুদ্ধশ্বাস ৩৬ ঘণ্টা

দিনাজপুরে ইউএনও হত্যা প্রচেষ্টা

রবিউল আরো ৩ দিনের রিমান্ডে

সরকারি কর্মকর্তাদের প্রধানমন্ত্রী

আত্মবিশ্বাস নিয়ে জনগণের জন্য কাজ করুন