এবার জাতীয় দলে নিয়মিত হতে চান জিকো

স্পোর্টস রিপোর্টার

খেলা ২৪ মার্চ ২০২০, মঙ্গলবার

ফুটবল খেললে স্ট্রাইকারই হবেন- এমন ইচ্ছা ছিল তার। বাকি পজিশনগুলো তার পছন্দের ছিল না। বিশেষ করে গোলপোস্ট তো নয়ই। সবাই বল নিয়ে মাঠজুড়ে ছোটাছুটি করবেন আর তিনি পোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে দেখবেন, কখন বল আসবে কখন ধরবেন বা ঠেকাবেন- এসব কারণে গোলরক্ষক হওয়াটা মোটেও পছন্দের ছিলো না আনিসুর রহমান জিকোর। সেই জিকোই কিনা বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়ন ক্লাব বসুন্ধরা কিংসের এক নম্বর গোলরক্ষক। এই ক্লাবটির হয়েই এএফসি কাপে দুর্দান্ত পারফরমেন্স দেখিয়ে সপ্তাহসেরা পারফরমার নির্বাচিত হয়েছেন। এশিয়ান ফুটবলের অভিভাবক সংস্থাটির নিজস্ব ওয়েবসাইট দর্শকদের ভোটের মাধ্যমে বাছাই করা ৫ জনের একজনকে সেরা নির্বাচিত করেছে। এশিয়ার সেরা এই গোলরক্ষক চাইছেন এবার জাতীয় দলে থিতু হতে।
গত বছর বসুন্ধরা কিংসের জার্সিতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েই আলোচনায় এসেছিলেন কক্সবাজারের লবন ব্যবসায়ী মনজুর আলম ও গৃহিনী দিলদার বেগম দম্পতির বড় ছেলে জিকো।
তার ছোট ভাই উচ্চ মাধ্যমিকে পড়েন, তিন বোন বড়। ২০১৩ সালে ক্লাব ফুটবলে অভিষেক চট্টগ্রামের দ্বিতীয় বিভাগ লীগে কল্লোল সংঘের হয়ে। এরপর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগে ফরাশগঞ্জ, মুক্তিযোদ্ধা, চট্টগ্রাম আবাহনী, সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব হয়ে চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংসে। অপেক্ষায় আছেন লাল-সবুজ জার্সি গায়ে পোস্টের নিচে থিতু হওয়ার।
উচ্চতার কারণেই জাতীয় দলের হেড কোচ জেমি ডের প্রথম পছন্দ শহিদুল আলম সোহেল। সোহেলের অনুপস্থিতিতে গোলপোস্টে আশরাফুল ইসলাম রানাকে খেলিয়ে থাকেন জাতীয় দলের বৃটিশ কোচ জেমি ডে। বছর খানেক ধরে জাতীয় দলের স্কোয়াডে জায়গা পেলেও লাল সবুজের জার্সিতে খেলার সুযোগ মিলছে না জিকোর। তিনি চাইছেন মাঠের পারফরমেন্স দিয়ে অভিজ্ঞ দুই গোলরক্ষকে পেছনে ফেলে জাতীয় দলে স্থায়ী হতে। এ জন্য যা যা করা দরকার তা করতে প্রস্তুত বসুন্ধরা কিংসের এই গোলরক্ষক।
গত ১১ই মার্চ এএফসি কাপে বসুন্ধরার জার্সিতে মালদ্বীপের টিসি স্পোর্টসের বিপক্ষে ম্যাচে তিনটি পেনাল্টি ঠেকিয়ে আবারো আলোচনায় এসেছেন এই গোলরক্ষক। এবার ঘরোয়া গণ্ডি পেড়িয়ে জিকোর নৈপূণ্যের দ্যুতি ছড়িয়েছে গোটা এশিয়ায়। এএফসির ওয়েবসাইট তাকে দিয়েছি ‘দ্য ওয়াল’ উপাধি। ফুটবলার হওয়া নিয়ে জিকো বলেন, ‘মহল্লায় আমার খেলা দেখেন এলাকার জমির ভাই। ২০১৩ সালে জমির ভাই তখন পুরোনো ঢাকার ক্লাব ফরাশগঞ্জের অধিনায়ক। তিনি তখন আমাকে ঢাকায় খেলার প্রস্তাব দেন। ফরাশগঞ্জের ট্রায়ালে টিকে যাই।
টাইব্রেকার ঠেকানোর অভ্যাস তখন থেকেই জিকোর। বলেন, ‘পুলিশ দলের সঙ্গে আমাদের পয়েন্ট সমান হলে একটি ম্যাচ খেলতে হয় চ্যাম্পিয়নশিপ নির্ধারণের জন্য। ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হওয়ায় ভাগ্য নির্ধারণ হয় টাইব্রেকারে। তিন-তিনটি শট ঠেকিয়ে আমি দলকে চ্যাম্পিয়ন করেছিলাম।’
গত বছর স্বাধীনতা কাপে বসুন্ধরা কিংসকে চ্যাম্পিয়ন করানোর পেছনে বিশাল অবদান ছিল জিকোর। কোয়ার্টার ফাইনালে রহমতগঞ্জের বিরুদ্ধে টাইব্রেকারের তিনটি এবং সেমিফাইনালে আবাহনীর বিরুদ্ধে টাইব্রেকারে দুটি শট ঠেকিয়ে দেন তিনি। এছাড়া ফেডারেশন কাপেও দুটি পেনাল্টি ঠেকিয়েছিলেন। তবে কক্সবাজারের এ যুবক অনন্য উচ্চতায় উঠেছেন এএফসি কাপে তিনটি পেনাল্টি ঠেকিয়ে। এএফসি সপ্তাহসেরা পারফরমার হওয়া প্রসঙ্গে জিকো বলেন, ‘বড় আসরে সেরা হওয়া চাট্টিখানি কথা নয়। এটা কেবল আমার অর্জন নয়, বাংলাদেশের ফুটবলেরও অর্জন। আবারও প্রমাণ হলো এশিয়ার ফুটবলেও আমরা বাংলাদেশকে ভালোভাবে উপস্থাপন করতে পারি। আমাদের দেশের ফুটবলের জন্য ইতিবাচক দিক এটা।’
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নির্দিষ্ট কোনো গোলরক্ষক তার প্রিয় নয়। যখন যে ভালো খেলেন তখন তার খেলাই ফলো করেন। বাংলাদেশেও তাই। তবে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক গোলরক্ষক আমিনুল হককে বেশি ফলো করতেন আনিসুর রহমান জিকো। জাতীয় দল প্রসঙ্গে জিকু বলেন, আমি চেষ্টা করছি। আশা করি দ্রুতই জাতীয় দলে স্থায়ী হতে পারবো।

আপনার মতামত দিন



খেলা অন্যান্য খবর

জামাল ভূঁইয়ার আকুতি

‘পরিবারকে ভালোবাসলে ঘরে থাকুন’

৮ এপ্রিল ২০২০

করোনা মহামারি

ঘরে থাকতে দুর্জয়ের ‘নরম-গরম’ অনুরোধ

৭ এপ্রিল ২০২০



খেলা সর্বাধিক পঠিত



লাশের মিছিল দেখে আতঙ্ক

মধ্যবিত্তের পাশে কে! প্রশ্ন বিজয়ের