অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে কড়া পাহারা

রুদ্র মিজান

শেষের পাতা ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ৭:৩৬

ভারত থেকে প্রতিদিনই অনুপ্রবেশ ঘটছে। অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে আসছেন অনেকে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)’র কড়া  পাহারায় আটক হচ্ছেন তাদের কেউ কেউ। অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনুপ্রবেশের সংখ্যা বেড়েছে গত কয়েক মাসে। সীমান্ত এলাকা যশোর, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এলাকা দিয়ে এই অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটছে। গোয়েন্দা সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুসারেই এসব এলাকায় কড়া পাহারায় রয়েছে বিজিবি সদস্যরা। এমনকি স্থানীয় লোকজনকেও সতর্ক করে দেয়া হয়েছে তথ্য দেয়ার জন্য।

ভারতে নাগরিকত্ব আইন সংশোধন হওয়ার পরপরই সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশ বৃদ্ধি পায়।
গত তিন মাসে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করতে গিয়ে বিজিবি’র হাতে আটক হয়েছেন ৫২৭ জন। সবচেয়ে বেশি অনুপ্রবেশ ঘটেছে গত বছরের নভেম্বরে। ওই মাসে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা দিয়ে কয়েক হাজার মানুষ প্রবেশ করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরমধ্যে বিজিবি’র হাতে আটক হয়েছেন ৩৪৮ জন। তারমধ্যে রয়েছেন ১৪৫ জন পুরুষ ও ১১৯ জন নারী এবং ৮৯ শিশু। ডিসেম্বরে অনুপ্রবেশ ঘটেছে ১৩৯ জনের। এরমধ্যে  ৯৪ জন পুরুষ, ৩৪ জন নারী ও ১১ শিশু। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে সীমান্ত এলাকা অতিক্রমকালে আটক করা হয়েছে ৩১২ জনকে। বিজিবি জানিয়েছে, এরমধ্যে মাদক ও চোরাচালানে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক করা হয়েছে ২৭২ জনকে। এ ছাড়া অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের দায়ে ৩৮ জন বাংলাদেশি ও দুই ভারতীয় নাগরিককে আটক করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।  
অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় বিজিবি সদস্যরা অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। পাশাপাশি পুলিশসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা তৎপর। সূত্রমতে, ভারতে নাগরিকত্ব তালিকা (এনআরসি) এবং সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) সংকটের পর সবচেয়ে বেশি অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটছে ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে। গত বছরের নভেম্বরে শুধু মহেশপুর সীমান্ত থেকে ২৬০ জনকে আটক করা হয়। এর আগে ওই সীমান্তে প্রতি মাসে চার-পাঁচ জনের বেশি আটকের সংখ্যা ছিল না। ভারত থেকে আসা ব্যক্তিদের বেশির ভাগই নিজেদের বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকে। তারা বাগেরহাট, মোড়লগঞ্জ, শরণখোলা ও  মোংলা এলাকার বাসিন্দা বলে সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদে জানায়।

এনআরসি পরিস্থিতিতে ভারতের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের অভিযান বৃদ্ধি পায়।  পুলিশের হয়রানি ও সেইসঙ্গে এনআরসি বাস্তবায়নের শঙ্কার কারণে অনেকেই  বাংলাদেশমুখো হচ্ছেন। বিজিবি কর্মকর্তারা জানান, তাদের কাছে পাসপোর্ট বা বৈধ কোনো কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। কলকাতা, কেরালা, ব্যাঙ্গালুরুসহ বিভিন্ন এলাকায় তারা শ্রমিক হিসেবে কাজ করতো। এনআরসি সংকট দেখা দিলে তারা ভারত ছেড়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

এ বিষয়ে বিজিবি’র মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ভারত থেকে বাংলাদেশে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে গত বছর নারী ও শিশুসহ ৯৯৮ জনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তাদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ২৫৩টি মামলা করা হয়েছে। গত বছরের নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে সীমান্ত এলাকা দিয়ে অনুপ্রবেশের ঘটনা বেশি ঘটেছে বলে জানান তিনি। তবে বিজিবি সতর্ক থাকায় বর্তমানে অনুপ্রবেশ কমেছে বলে দাবি করেছেন এই সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর কর্মকর্তারা।

সূত্রমতে, গত বছরের আগস্ট মাসে ভারতের আসামের চূড়ান্ত নাগরিকপঞ্জী প্রকাশ করা হয়। এতে দেখা যায়, রাজ্যটির ১৯ লাখ মানুষের নাম সেখানে স্থান পায়নি। বাদ পড়াদের ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ হিসেবে চিহ্নিত করে ভারত থেকে বের করে দেয়া হবে বলে আলোচনা ছিল ভারতীয় গণমাধ্যমে। এই পরিস্থিতিতে হঠাৎ করেই বাংলাদেশ সীমান্তে আশঙ্কাজনকভাবে অনুপ্রবেশ বাড়তে থাকে।

আপনার মতামত দিন



শেষের পাতা অন্যান্য খবর

বড় সংকটে শ্রমবাজার

২৭ মার্চ ২০২০

করোনা ভাইরাস নিয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল

দক্ষিণ এশিয়ায় বাড়ছে সংক্রমণ

২৭ মার্চ ২০২০

আতঙ্কের জনপদ নিউ ইয়র্ক

আরো চার বাংলাদেশির মৃত্যু

২৬ মার্চ ২০২০



শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত