হত্যা মামলায় সন্দেহের আঙ্গুল প্রধানমন্ত্রী ও ফার্স্টলেডির বিরুদ্ধে

মানবজমিন ডেস্ক

বিশ্বজমিন ২৬ জানুয়ারি ২০২০, রোববার | সর্বশেষ আপডেট: ৮:২৬

দক্ষিণ আফ্রিকার দেশ লেসোথো। ২০১৭ সালে সেখানকার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী থমাস থাবানের সাবেক স্ত্রী লিপোলেলো থাবানেকে হত্যা করা হয়। এতদিন এই হত্যাকাণ্ড রহস্যময় হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছিল। কিন্তু এখন সন্দেহের আঙ্গুল উঠেছে প্রধানমন্ত্রী থমাস থাবানে ও তার বর্তমান স্ত্রী মায়েসাইয়া থাবানের দিকে। ওই হত্যাকাণ্ডে তারা জড়িত সন্দেহে তদন্ত হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে। এরই মধ্যে ফার্স্টলেডি মায়েসাইয়াকে প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে জনসমক্ষে দেখা যায় নি। তিনি কোথায় তাও কেউ বলতে পারছেন না। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীও প্রশ্ন এড়িয়ে চলছেন, এড়িয়ে চলছে সরকারের কর্মকর্তারা।
তবে সাহস দেখাচ্ছেন দেশটির একজন পুলিশ কমিশনার। দেশটির সংবাদপত্রগুলোতে শিরোনামে লেখা হচ্ছে- ‘পুলিশ হান্ট ফার্স্ট লেডি’ বা পুলিশ ফার্স্টলেডিকে খুঁজছে। আরেকটি সংবাদ শিরোনাম ‘এমব্যাটলড পিএম এগ্রিস টু কুইট’। অর্থাৎ টিকে থাকা প্রধানমমন্ত্রী পদত্যাগে রাজি হয়েছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

দেশটির ফার্স্ট কাপল বলে পরিচিত প্রধানমন্ত্রী থমাস থাবানে ও তার স্ত্রী মায়েসাইয়া। প্রধানমন্ত্রীর সাবেক স্ত্রী লিপোলেলো থাবানে স্বামীর কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতেন। ৫৮ বছর বয়সী  লিপোলেলো ২০১২ সাল থেকে এভাবে আলাদা বসবাস করছিলেন। ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন থমাস থাবানে। এর ঠিক দু’দিন আগে আকস্মিকভাবে হত্যা করা হয় লিপোলেলোকে। ওই সময় এক রাতে তিনি বাসায় ফিরছিলেন। তখন তাকে চারদিক থেকে ঘিরে ধরা হয়। খুব কাছ থেকে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি করা হয়। এতে মারা যান তিনি। একটি নোংরা রাস্তার পাশে পড়ে থাকে তার মৃতদেহ। এই হত্যাকান্ড তখন পুরো দেশকে হতাশায় ডুবায়।


তখন প্রধানমন্ত্রী থমাস থাবানে এই হত্যাকে কান্ডজ্ঞানহীন হত্যা বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। এ জন্য অজ্ঞাত অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তদের দায়ী করা হয়েছিল। কিন্তু দেশটির পুলিশ কমিশনার হোলোমো মোলিবেলি আদালতে যেসব ডকুমেন্ট উপস্থাপন করেছেন তাতে আরো নতুন নতুন প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে প্রধানমন্ত্রী থমাস থাবানে ও তার বর্তমান স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা বলা হয়েছে। ২০১৯ সালের ২৩ শে ডিসেম্বর ৮০ বছর বয়সী প্রধানমন্ত্রী থমাস থাবানেকে একটি চিঠি লিখেছিলেন পুলিশ প্রধান। ওই চিঠিটি দেখতে পেয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। চিঠিতে পুলিশ কমিশনার বলেছেন, তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে যে, অপরাধ সংঘটনের স্থানে একটি টেলিফোন থেকে অন্য একটি মোবাইল ফোনের কল নিয়ে প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে। ওই মোবাইল ফোন নম্বর আপনার (প্রধানমন্ত্রীর)।

জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের সামনে উপস্থিত হতে ব্যর্থ হন  ৪২ বছর বয়সী ফার্স্টলেডি মায়েসাইয়া থাবানে। এর পর  ১০ই জানুয়ারি তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইস্যু করা হয়। ওই ঘটনার পর দু’সপ্তাহ ধরে তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায় নি। কেউ বলতে পারছেন না তিনি কোথায়। তবে প্রধানমন্ত্রী থমাস থাবানে এখনও দেশে রয়েছেন। তার স্ত্রী কোথায় এ বিষয়ে যেকোনো প্রশ্ন এড়িয়ে চলছেন। এ নিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন সাংবাদিকরা। কিন্তু তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে ইচ্ছুক নন। তবে গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী অনিচ্ছা সত্ত্বেও পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে উপস্থিত হতে রাজি হয়েছেন।

এখনও প্রধানমন্ত্রী বা তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয় নি। লেসোথোর আইন অনুযায়ী একজন প্রধানমনত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা যায়। কিন্তু পুলিশের পক্ষে তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান খুব সহজ নয়। পুলিশ কমিশনার মোলিবেলি বলেছেন, এই মামলার তদন্ত তার কাছে সবচেয়ে জটিল তদন্তগুলোর অন্যতম। এ ছাড়া ৩২ বছর তিনি পুলিশের দায়িত্ব পালন করছেন। তার মধ্যে এই মামলাটি বিপজ্জনকও। তদন্ত অব্যাহত না রাখতে অনেক হুমকি এসেছে। তার ভাষায়, আমি বিশ্বাস করি, যা করছি ঠিক কাজ করছি। যতক্ষণ আমার চেতনা থাকবে ততক্ষণ আমি কাজ চালিয়ে নেবো। লেসোথোর মানুষ প্রকৃত সত্য জানতে চায়। আমাদের দায়িত্ব এ বিষয়ে অনুসন্ধান করে সেই সত্য প্রকাশ করা। তদন্ত করার কারণে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়েছে। তবে আমি তাতে ভীত নই। লিপোলেলো প্রধানমন্ত্রী থমাস থাবানের কাছ থেকে আলাদা থাকলেও তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটেনি। তিনি আলাদা থাকা অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী বসবাস করছিলেন মায়েসাইয়ার সঙ্গে।

আপনার মতামত দিন



বিশ্বজমিন অন্যান্য খবর

প্রেসিডেন্টকে সোনিয়া গান্ধী

অমিত শাহকে বরখাস্ত করুন

২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ট্রাম্পের কড়া সমালোচনায় বার্নি স্যান্ডার্স

দিল্লি সহিংসতায় মার্কিন রাজনীতিকদের গভীর উদ্বেগ

২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০



বিশ্বজমিন সর্বাধিক পঠিত