শফিকের পথে হাঁটছেন নাসির

স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট থেকে

শেষের পাতা ১৪ জানুয়ারি ২০২০, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:৪৯

সিলেট আওয়ামী লীগে শফিকুর রহমান চৌধুরীকে বলা হতো ২৪ ঘণ্টার রাজনীতিবিদ। তবে এখন তিনি বিরতি দিয়েছেন। কাঁধে দায়িত্ব নেই। নির্ভার তিনি। এ কারণে নিজের মতো করে সময় কাটাচ্ছেন।
এরপরও দলীয় কর্মসূচি ও কর্মকাণ্ড পালনে আগের মতোই সক্রিয়। দীর্ঘ ৮ বছরে সিলেটে নিজের জায়গা তৈরি করে নিয়েছিলেন তিনি। ছিলেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।
৫ই ডিসেম্বরের সম্মেলনে তিনি সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদক দুটো থেকে যে কোনো একটি পদ পাচ্ছেন তার সমর্থকরা কনফার্ম ছিলেন। কিন্তু কিছুই পেলেন না। এরপর থেকে নিরবতা। নতুন সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন সিলেট ছাত্রলীগের এক সময়ে তুখোড় নেতা নাসির উদ্দিন খান। সিলেটে এবার আওয়ামী লীগের সম্মেলনে নাসির ছিলেন অন্যতম চমক। তার নাম শুনে চমকে যান সহকর্মী রাজনীতিকরা। তবে- মানিয়ে নিতে সময় ক্ষেপণ করেননি। নাসিরকে সবাই বরণ করে নেন স্ব-হাস্যে। আন্তরিকতারও কমতি রাখেননি। সম্মেলনের পর প্রশ্ন ছিলো- নাসির কী পারবেন অগ্রজ রাজনীতিবিদ শফিকুর রহমানের মতো আওয়ামী লীগকে ধরে রাখতে।

সেই প্রশ্নের মধ্য দিয়ে এখনো হাঁটছেন নাসির উদ্দিন খান। কারন- তার সামনে এখন বিশাল চ্যালেঞ্জ। সিলেট আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক পদে সার্বজনীন হয়ে দায়িত্ব পালন করে গেছেন জাদরেল পলিটিশিয়ান আনম শফিকুল হক, ইফতেখার হোসেন শামীম সহ আরো অনেকেই। তারাও এক হাতে সিলেট আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে পরিচালিত করেছেন। পাশাপাশি সরকারেও সমানভাবে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। তাদের মতো ক্ষমতাবান হয়ে উঠেছিলেন শফিকুর রহমান চৌধুরী। কিন্তু কখনো তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করেননি। বরং সামাজিকতাকে আঁকড়ে ধরেই তার রাজনীতি পরিচালিত করেছেন। অগ্রজ রাজনীতিবিদ এডভোকেট লুৎফুর রহমানের সঙ্গে সদভাব বজায় রেখে জেলা আওয়ামী লীগকে নিয়ন্ত্রণ করেছেন। তার স্থলে এখন দায়িত্ববান নাসির উদ্দিন খান। সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ। আর চ্যালেঞ্জের মধ্যে সবচেয়ে বড়টি হচ্ছে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেয়া। এই দায়িত্ব এখন তার উপরই বেশি বর্তায়। বর্তমান সভাপতি এডভোকেট লুৎফুর রহমান অধিকতর সিনিয়র নেতা। তিনি সরাসরি দলের এসব কাজে অতীতে হস্তক্ষেপ করেননি। এবারও করছেন না বলে জানিয়েছেন সিনিয়র আওয়ামী লীগ নেতারা। তবে- সিনিয়র নেতারা যাতে জেলা কমিটিতে সঠিক সম্মান পান সে বিষয়টি তিনি দেখছেন। নাসির উদ্দিন খানের উপর সব দায়িত্ব এবং কর্তৃত্ব। জেলা কমিটির গঠনে সমন্বয় করে গঠন করাই হচ্ছে তার চ্যালেঞ্জ। আর চ্যালেঞ্জ নিতে তিনিও প্রস্তুত। ইতিমধ্যে তিনি জানানও দিয়েছেন তার যোগ্যতার। শফিকুর রহমান চৌধুরীর মতো সার্বজনীন হয়ে উঠছেন তিনি।

শুধু আওয়ামী লীগই নয়, সমমনা রাজনৈতিক দল, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল শক্তির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছেন। আর এই বাড়ার পেছনে কাজ করছে সামাজিকতা। শফিক চৌধুরীর মতো সামাজিক হয়ে উঠছেন নাসির। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত তিনি ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। মন্ত্রী, এমপি, রাজনৈতিক নেতা এমনকি প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতারা সিলেট এলেই রিসিভ করতে ছুটে যাচ্ছেন বিমানবন্দরে। সবাইকে আপন করে নিয়ে বরণ করছেন সিলেটে। মন্ত্রীরা সিলেটে বেড়াতে এলে পর্যাপ্ত সময়ও দিচ্ছেন। তাদের দেখভাল করছেন। পাশাপাশি দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে তিনি দিনের বেশির ভাগ সময়ই ব্যস্ত সময় কাটান। দিনের মধ্যভাগটা বেশির ভাগ সময় ব্যয় করছেন বিয়ে-সাদি কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে। নাসিরের ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন- সকাল ৮টা থেকে সরব হয়ে উঠেন তিনি। মধ্যরাত পর্যন্ত থাকেন ব্যস্ত। এই সামাজিকতার কারণে মাত্র এক মাসের ব্যবধানে নাসির উদ্দিন খান সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছেন। নগরীর মাছুদিঘীরপাড়ে নিজের কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের নিয়ে বসেন। দেন পরামর্শও। সিলেট আওয়ামী লীগে এখন নতুন ফরম্যাট। পুরাতনরা বাদ। নতুনরা করে নিয়েছে জায়গা। এ কারণে নেতাকর্মীরাও নতুন করে আশ্রয় খুঁজছেন। জেলার সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন খান অগ্রজদের মতো নিজেও অভিভাবকে পরিণত হচ্ছেন।

আপনার মতামত দিন

শেষের পাতা অন্যান্য খবর

এফডিসি কর্মকর্তার মৃত্যু

সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ঘিরে তদন্ত পরিবারের সন্দেহ

২২ জানুয়ারি ২০২০

নারায়ণগঞ্জে কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ

সোনাইমুড়িতে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা

২২ জানুয়ারি ২০২০

প্রথম আলো সম্পাদকের জামিন

২১ জানুয়ারি ২০২০

সংস্কারপন্থিদের জয়জয়কার

জামায়াতের নবগঠিত কমিটিতে স্থান পেলেন যারা-

২১ জানুয়ারি ২০২০





শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত