বিএনপি’র বিক্ষোভ রোববার

খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজ

স্টাফ রিপোর্টার

প্রথম পাতা ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:৩১

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন ৬ সদস্যের বেঞ্চ গতকাল এ আদেশ দেয়। তবে পর্যবেক্ষণে আপিল বিভাগ বলেছেন, যদি খালেদা জিয়া প্রয়োজনীয় সম্মতি দেন, তাহলে মেডিকেল বোর্ড দ্রুত তার অ্যাডভান্স ট্রিটমেন্টের (বায়োলজিক এজেন্ট) জন্য পদক্ষেপ  নেবে, যা বোর্ড সুপারিশ করেছে। আদেশের প্রতিক্রিয়ায় খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা বলেছেন, তারা ন্যায় বিচার পাননি। খালেদা জিয়া রাজনৈতিক নিষ্পেশনের শিকার। অন্যদিকে, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবনতি হয়নি। তার চিকিৎসা বাংলাদেশেই সম্ভব। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে বৈঠক করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।
পরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে জাতি হতাশ ও বিক্ষুব্ধ। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আগামী রোববার সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেন তিনি।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের এই মামলায় হাইকোর্ট জামিন আবেদন খারিজ করলে আপিল বিভাগে জামিন চান বিএনপি চেয়ারপারসন। মূলত মেডিকেল গ্রাউন্ডে তার জামিন চাওয়া হলে আদালত মেডিকেল রিপোর্ট তলব করে। গত ৫ই ডিসেম্বর মেডিকেল রিপোর্ট দাখিলের কথা থাকলেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সময় চাওয়া হয়। আদালত সময় মঞ্জুর করে। এ নিয়ে তখন প্রধান বিচারপতির এজলাসে ব্যাপক হট্টগোল হয়। রাজনীতিতে তৈরি হয় উত্তেজনা। সরকারি দল ও বিএনপি নেতারা বাহাসে জড়ান। বৃহস্পতিবার সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর জামিন আবেদনের শুনানিকে কেন্দ্র করে পুরো সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় নেয়া হয় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইডি কার্ড না দেখে কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। প্রধান বিচারপতির এজলাসে প্রবেশেও আরোপ করা হয় কড়াকড়ি। খালেদা জিয়ার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন দিনের শুরুতে এ ব্যাপারে প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এক পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, তাহলে উভয়পক্ষ থেকে ৩০ জন করে আইনজীবী থাকুক। গতকাল সকাল ১০ টা ৭ মিনিটে খালেদা জিয়ার মেডিকেল রিপোর্ট দাখিল করা হয়। এরপর শুরু হয় শুনানি। দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন নাকচ করে পর্যবেক্ষণসহ আদেশ দেন আদালত। আদেশের পর বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা কয়েকভাগে বিভক্ত হয়ে আইনজীবী সমিতির দ্বিতীয় তলায় বিক্ষোভ করতে থাকেন।

এ দিন আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ও খন্দকার মাহবুব হোসেন। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। এছাড়া খালেদা জিয়ার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য সচিব এডভোকেট ফজলুর রহমান, নিতাই রায় চৌধুরী, ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, রুহুল কুদ্দুস কাজল প্রমুখ। অপরদিকে, আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আবদুল মতিন খসরু, ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিন, ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, শাহ মনজুরুল হক প্রমুখ।

খালেদা জিয়ার মেডিকেল রিপোর্ট দাখিল করা হলে প্রধান বিচারপতিসহ অন্য বিচারপতিরা রিপোটর্টি পর্যবেক্ষণ করেন। প্রধান বিচারপতি অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের দাখিল করা আরেকটি রিপোর্টের ব্যাপারে জানতে চান। এটর্নি জেনারেল বলেন, দুটি রিপোর্টই দাখিল করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, খালেদা জিয়া অসুস্থ। তার উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন। তিনি বলেন, মাই লর্ড আমরা আজ মামলার ম্যারিট নিয়ে কোনো কথা বলব না। আমরা শুধুমাত্র মানবিক কারণে খালেদা জিয়ার জামিন চাইছি। দেশবাসী দেখেছে, খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার আগে পরিপূর্ণ সুস্থ একজন মানুষ ছিলেন। অথচ এখন আমরা দেখছি, জেলে যাওয়ার পর তার অবস্থা দিনকে দিন খারাপ হচ্ছে। খালেদা জিয়ার বর্তমান অবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনি এখন পঙ্গু অবস্থায় চলে গেছেন। হয়তো ছয় মাস পর তার অবস্থা আরো খারাপ হবে। এমনকি মৃত্যুর অবস্থাতেও চলে যেতে পারেন তিনি। আমরা তো আপনাদের কাছেই আসবো। আপনারা সর্বোচ্চ আদালত। সকল এক্সপার্টদের এক্সপার্ট।

এ সময় তিনি আদালতকে বলেন, খালেদা জিয়ার প্রপার ট্রিটমেন্ট হচ্ছে না। তার উন্নত চিকিৎসা দরকার। তার স্বাস্থ্য খুবই খারাপ হয়ে যাচ্ছে। জামিনের ব্যাপারে আপনাদের সিদ্ধান্ত দেবার ক্ষমতা আছে। নারী, বয়স্ক, অসুস্থ এসব বিবেচনায় আপনাদের জামিনের বিষয়ে এখতিয়ার রয়েছে। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো দরকার। আর তার উন্নত চিকিৎসা রাষ্ট্রেরও দায়িত্ব। তিনি জামিন পেলে তো পালিয়ে যাবেন না। এরপর খালেদা জিয়ার অপর আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন আদালতকে বলেন, আমাদের দেশের বাস্তবতা দাঁড়িয়েছে এমন, রাজনীতি করলে জেলে যেতে হবে। রাজনীতি আর জেল পাশাপাশি। জেলে থাকলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। বিরোধীদলের কেউ যদি কোনো একটি মামলায় জেলে যায়, তাহলে তার মতো খারাপ লোক আর কেউ নেই। আর ক্ষমতায় থাকলে তার থেকে আর ভালো কোনো মানুষ নেই। অসুস্থ ও বয়স্ক নারী খালেদা জিয়া। তাই তার জামিন দেয়ার আবেদন জানাই।

বেলা ১২টা ১৫ মিনিটে রাষ্ট্রপক্ষে খালেদা জিয়ার জামিনের বিরোধিতা করে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম শুনানি শুরু করেন। তিনি আদালতকে বলেন, আসামি খালেদা জিয়ার পক্ষের আইনজীবীরা বারবারই বলছেন, তার সাজার পরিমাণ কম। কিন্তু বাস্তবতা হলো তার সর্বমোট সতেরো বছর কারাদণ্ড হয়েছে। এই মামলায় যে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে তা কোনো সাধারণ মানুষের দ্বারা সংঘটিত হয়নি। এই অপরাধ সংঘটিত হয়েছে একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দেয়া খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত প্রতিবেদনের উদ্বৃতি দিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, খালেদা জিয়ার যেসব রোগ, তা দীর্ঘমেয়াদি রোগ। তাকে ভ্যাকসিন দেয়ার জন্য সুপারিশ করেছে বোর্ড। কিন্তু তিনি তা নিতে সম্মতি জানাননি।  দুদকের আইনজীবী  মো. খুরশীদ আলম খান বলেন, খালেদা জিয়া কিছু ব্যাপারে সম্মতি দিচ্ছেন না। কোনো রোগী যদি চিকিৎসককে সম্মতি না দেন, তাহলে ওই চিকিৎসকের কী করার আছে।

কড়া নিরাপত্তা: খালেদার জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্টে নেয়া হয় কড়া নিরাপত্তা। আপিল বিভাগের এক নাম্বার এজলাস কক্ষে আইনজীবী ও সাংবাদিকদের প্রবেশ করার ক্ষেত্রে তিন স্তরের তল্লাশি করে প্রবেশ করানো হয়। আপিল বিভাগের এনরোলমেন্ট ব্যতীত আইনজীবীদের প্রবেশের ক্ষেত্রে বাধা দেয়া হয়। এসময় গেটের সামনে ভিড় বাড়তে থাকে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের। বাধা পেয়ে বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া অভিযোগ করেন অনেক আওয়ামীপন্থি আইনজীবীদের এজলাসে প্রবেশ করতে দেয়া হয়েছে, যাদের অ্যাপিলেট ডিভিশনে এনরোলমেন্ট নেই। তারা অনায়াসে প্রবেশ করতে পারছে। কিন্তু আমাদেরকে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। এ সময় তার নেতৃত্বে বিএনপি পন্থী বেশকিছু আইনজীবী ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই সুপ্রিম কোর্টের প্রতিটি প্রবেশপথ, আশপাশ ও আদালত চত্বরের অভ্যন্তরের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়।

রায়ের আগে ও পরে মুখোমুখি আওয়ামী লীগ ও বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা: খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন শুনানির আগে ও পরে বিএনপি -আওয়ামীলীগপন্থী আইনজীবীরা মুখোমুখি অবস্থানে ছিলেন। শুনানির আগে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে উই ওয়ান্ট জাস্টিস বলে স্লোগান দিতে থাকে। একইসঙ্গে আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীরাও পাল্টা স্লোগান দিতে দেখা যায়। জয় বাংলা, হুশিয়ার সাবধান, হট্রগোলকারীদেও স্থান হবে না বলেও স্লোগান দেয় তারা। রায়ের পর শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, আদালত মেডিকেল রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতেই রায় দিয়েছেন। খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত বিষয়টি আদালত দেখেছেন। এ রায়ে স্পষ্ট হলো বিএনপি খালেদা জিয়ার অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে জামিনের রাজনীতি করেছে। অপরদিকে, আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম আদালতে দৌড়াদৌড়ি না করে খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য তার আইনজীবীদের রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার পরামর্শ দিয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করেন। তিনি বলেন, বিএনপি আইনজীবীদের পরামর্শ দেবো, অহেতুক আদালতে দৌড়াদৌড়ি না করে তাদের উচিত হবে খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে দোষ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করা।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় খন্দকার মাহবুবু হোসেন ‘ন্যায় বিচার পাইনি’: খালেদা জিয়ার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, আমরা ন্যায় বিচার পাইনি। ন্যায় বিচার হলে অবশ্যই আমরা জামিন পেতাম। আপিলে বিএনপি চেয়ারপারসনের জামিন আবেদন খারিজ হওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন। মাহবুব হোসেন বলেন, জামিন না দেয়ার  কোনো যুক্তি ছিলো না। আমরা আদালতকে বলেছি, আমাদের দেশের রাজনীতি হচ্ছে এমন,  কেউ যদি রাজনীতির কারণে জেলে যায় সে তখন সবচাইতে খারাপ এবং এই একই কারণে  কেউ যদি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায়  জেলে যায় তখন  সে অনেক ভালো  লোক ছিলো বলে মনে করি।  তিনি বলেন, আমরা বলেছি- খালেদা জিয়ার ৭ বছরের সাজা হয়েছে। তার মধ্যে দেড় বছর পার হয়েছে। তিনি একজন বয়স্ক মহিলা, অসুস্থ্য- এই অবস্থায় জামিন চেয়েছিলাম। আদালত কি বলেছেন- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি মেডিকেল রিপোর্টে যা বলা হয়েছে সেই অনুযায়ী তাকে চিকিৎসা দিতে বলেছেন। পাকিস্তানের উদাহরণ দিয়ে খন্দকার মাহবুব বলেন, আমরা প্রতিবেশি দেশের দিকে তাকাই, তখন দেখি সাজাপ্রাপ্ত অবস্থায়ও নওয়াজ শরীফকে হেলিকপ্টরে করে বিদেশে পাঠানো হয়েছে। লালু প্রসাদকেও সুপ্রিমকোর্ট থেকে জামিন  দেয়া হয়েছিল। সেখানে যারা আইন উপদেষ্টা ছিলেন তারা বিচার বিভাগকে বিভ্রান্ত করেন নাই।   

‘গণতন্ত্রের নেত্রী রাজনৈতিক নিস্পেষনের শিকার’: খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজ হওয়া সরকারের ইচ্ছার বাস্তবায়ন বলে মন্তব্য করেন অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। তিনি বলেন, আমরা কয়েকদিন ধরে সরকারের প্রস্তুতি দেখছিলাম। এই প্রস্তুতি আমরা অতীতে দেখিনি। সিসি ক্যামেরা বসানো হলো। তারা ধরেই নিয়েছিলো জামিন হবে না। খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজ করে দিলে ্প্রতিক্রিয়া জানাতে তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনে এসব মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, এ ধরনের মামলায় জামিনের ব্যাপারে আদালতের কাছে অতীতের ১০টা ডিসিশন দিয়েছি। জামিন না দেয়ায় আমরা মনে করি গণতন্ত্রের নেত্রী রাজনৈতিক নিস্পেষনের শিকার। কি কারণে জামিন আবেদন খারিজ হয়েছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে জয়নুল আবেদীন আরও বলেন, আদালত কোন রিজন উল্লেখ করেনি। তিনি বলেন, স্পেসিফিক্যালি খালেদার অবস্থা ভালো না। ডাক্তাররাই বলেছেন এমন অবস্থার কথা।  তিনি বলেন, বর্তমান যে রিপোর্ট আদালতে দাখিল করা হয়েছে সেই রিপোর্টে বলা হয়েছে তার অ্যাডভান্স ট্রিটমেন্ট দরকার। এরপরেও আদালতে তার জামিন দেয়া হয়নি। খালেদা জিয়া অ্যাডভান্স ট্রিটমেন্ট নিতে চান না- রাষ্ট্রপক্ষের এমন বক্তব্যের ব্যাপারে সিনিয়র এই আইনজীবী বলেন, তাদের কথা মোটেই সত্য নয়। অসুস্থ কেউ কি নিজে নিজে মরতে চায়? বিএসএমএমইউতে এডভ্যান্সড ট্রিটমেন্ট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখানেই যদি তা সম্ভব হয় তাহলে প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, ওবায়দুল কাদের বিদেশ চিকিৎসা নিতে যান কেনো? খালেদার মুক্তির জন্য আর কি কি অপশন আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অপশনের কথা পরে বলবো।  

‘প্যারোলে মুক্তির আবেদনের প্রশ্নই ওঠে না’:  বেগম খালেদা জিয়া প্যারোলে মুক্তি চান না। তিনি যদি প্যারোলে মুক্তি চাইতেন, তাহলে অনেক আগেই মুক্তি  পেতেন।  তাই বেগম জিয়ার প্যারোলে মুক্তির আবেদন করার প্রশ্নই উঠে না। তার মুক্তি হবে জনতার আদালতে। রায়ের এক প্রতিক্রিয়ায়  সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য সচিব  অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান এমন মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আমরা আদালতের কাছ  থেকে ন্যায় বিচার না পেলেও  গণ মানুষের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ান মুক্তির জন্য একদিন এই দেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলবে। সেই আন্দোলনেই সরকারের পতন হবে। আর খালেদা জিয়া বীরের বেশে কারাগার  থেকে মুক্তি লাভ করবে।

প্রসঙ্গত, ২২ মাস ধরে কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধানী। ৩৭টি মামলার মধ্যে ৩৫টিতে জামিনে রয়েছেন তিনি।

আপনার মতামত দিন

প্রথম পাতা অন্যান্য খবর

করোনা ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ

চীন ছাড়তে ৫০০ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর আবেদন

২৬ জানুয়ারি ২০২০

অলিক প্রতিশ্রুতি

২৫ জানুয়ারি ২০২০

খালেদার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসা

বিশেষ আবেদনের কথা ভাবছে পরিবার

২৫ জানুয়ারি ২০২০

মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের কেনাকাটা

২৭৫ কোটি টাকা অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তে দুদক

২৫ জানুয়ারি ২০২০

ইকোনমিস্টের রিপোর্ট

আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারকদের বিরল ঐকমত্য

২৫ জানুয়ারি ২০২০





প্রথম পাতা সর্বাধিক পঠিত