নারীঘটিত মামলায় শীর্ষে বিজেপি জনপ্রতিনিধিরা

কলকাতা প্রতিনিধি

ভারত ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৪:০৮

ভারতে নারীঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি মামলা রয়েছে বিজেপির সাংসদ ও বিধায়কদের বিরুদ্ধে। আর রাজ্যওয়ারি এই সংক্রান্ত মামলায় শীর্ষে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। বর্তমান সাংসদ ও বিধায়কদের ৪৮৯৬টি  নির্বচনী হলফনামার মধ্যে ৪৮২২টি খতিয়ে দেখে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রাটিক রিফর্মস (এডিআর) এবং ন্যাশানাল ইলেকশন ওয়াচ এই তথ্য প্রকাশ করেছে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সময় প্রার্থীদের নির্বাচন কমিশনে যে হলফনামা জমা দিতে হয়, সেখানে তাঁদের জানাতে হয় নিজেদের বিরুদ্ধে থাকা মামলার তালিকা। গত পাঁচ বছরের ৭৭৬ জন সাংসদের মধ্যে ৭৫৯ জনের এবং ৪১২০ জন বিধায়কের মধ্যে ৪০৬৩ জনের হলফনামার বিশ্লেষণ করে পাওয়া তথ্যে জানা গিয়েছে, নারীঘটিত অপরাধ সবচেয়ে বেশি দেশের শাসক দল বিজেপি-তে। সমীক্ষায় জানা গেছে, দেশের ১৮ জন সাংসদ এবং ৫৮ জন বিধায়ক নির্বাচন কমিশনকে হলফনামায় জানিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে নারী-অপরাধের অভিযোগ আছে। এর মধ্যে বিজেপি সাংসদ-বিধায়কের সংখ্যা ২১। ১৬ জন এমন সাংসদ-বিধায়ক নিয়ে এ বিষয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কংগ্রেস।
আর তৃতীয় ওয়াইএসআর কংগ্রেস। তাদের ওই অপরাধে অভিযুক্ত সাংসদ-বিধায়কের সংখ্যা ৭। গত পাঁচ বছরে দেশে লোকসভা, রাজ্যসভা এবং বিধানসভা ভোটে ৫৭২ জন এমন প্রার্থী ছিলেন, যাঁরা কোনও না কোনও স্তরের নারী নিগ্রহে অভিযুক্ত। তাৎপর্যপূর্ণ হল, তাঁদের এক জনেরও শাস্তি হয়নি। সমীক্ষা থেকে আরও জানা  গিয়েছে, দেশে নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধে অভিযুক্ত সাংসদ-বিধায়কের সংখ্যা পশ্চিমবঙ্গেই সবচেয়ে বেশি। সংখ্যাটি হল ১৬। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ওড়িশা এবং মহারাষ্ট্র। তাদের এমন সাংসদ-বিধায়কের সংখ্যা ১২। গত পাঁচ বছরে পশ্চিমবঙ্গে ৬৯ জন নারী নিগ্রহে অভিযুক্ত ব্যক্তি ভোটে লড়েছেন বলে জানা গেছে।  যে সব দলের নেতৃত্বে মহিলারা রয়েছেন, সেই কংগ্রেস, বিএসপি এবং তৃণমূল কংগ্রেসও এমন অভিযুক্তদের প্রার্থী করেছে।
পশ্চিমবঙ্গে মহিলা তৃণমূল  কংগ্রেসের সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য অবশ্য বলেছেন, নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, এমন কেউ তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক বা সাংসদ বলে আমার জানা নেই।  প্রদেশ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণা দেবনাথের সাফ উত্তর, কংগ্রেসে এমন অভিযুক্ত কেউ নেই। থাকলে দল নিশ্চয়ই আগামী দিনে তাঁকে ভোটে লড়তে দেবে না। অন্যদিকে বিজেপি মহিলা মোর্চার রাজ্য সভানেত্রী তথা সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, অনেক সময় প্রার্থীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়। তবে কেউ নারীঘটিত  অপরাধে জড়িত জেনেও তাঁকে ভোটে প্রার্থী করলে দলেরই ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়।

আপনার মতামত দিন

ভারত অন্যান্য খবর

কলকাতা ডায়েরি

হাওড়া সেতুতে চালু হল লাইট এন্ড সাউন্ড শো

১১ জানুয়ারি ২০২০





ভারত সর্বাধিক পঠিত