‘দিল্লি সফরে গুরুত্বপূর্ণ সব ইস্যুতেই আলোচনা হবে’

কূটনৈতিক রিপোর্টার

শেষের পাতা ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:৩২

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ সব ইস্যুতেই দিল্লি সফরে আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন। গতকাল অফিস ত্যাগের সময় উপস্থিত গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের তিনি বলেন, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আমি দিল্লি যাচ্ছি। সেখানে ইন্দো-প্যাসিফিক বিষয়ে একটি অনুষ্ঠানে আমি ‘কী নোট স্পিকার’ হিসেবে বক্তব্য রাখবো। আসন্ন দিল্লি সফর নিয়ে আলোচনায় ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনার আগের দিন সাক্ষাৎ করেছেন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রদূত এসেছিলেন। দিল্লিতে ইন্ডিয়ান ওশান ডায়ালগের সাইড লাইনে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আমার বৈঠক হবে।

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক এখন ‘সোনালী অধ্যায়’ অতিক্রম করছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, অত্যন্ত সৌহাদ্যপূর্ণ সম্পর্ক আমাদের। এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দুই দেশের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা হবে।
সেখানে এরআসসিও আসবে। এ নিয়ে কিছু লোকের আতঙ্ক বা দুশ্চিন্তা আছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দিল্লি বারবার জোর দিয়ে আমাদের বলেছে এটা একান্তই তাদের অভ্যন্তরীণ ইস্যু। এ নিয়ে বাংলাদেশের দুশ্চিন্তার কারণ নাই। আমরা সেই অঙ্গীকারে ভরসা রাখতে চাই। একটি বেসরকারী টেলিভিশনের এক জ্যেষ্ঠ কূটনৈতিক রিপোর্টারের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমরা পুশ-ইন বুঝিনা।

এটা পছন্দ করিও না। দিল্লিকে আমরা এটা বলবো- যদি তাদের দেশে আমাদের কোন লোক অবৈধ থাকে তাহলে এদের ফিরিয়ে নিয়ে আসবে। কিন্তু এটার জন্য যে সেট ম্যাকানিজম রয়েছে সেটা আমরা ফলো করবো। অর্থাৎ তারা আমাদের তালিকা দিবে, আমরা যাচাই বাছাই করবো। এরপর তাদের ফেরাবো। তবে মন্ত্রী বলেন, ভারত আমাদের এটাও বলেছে, তারা পুশ করে না। আমরা তাদের কথায় বিশ্বাস রাখতে চাই। প্রতীক্ষিত তিস্তা নদীর পানি বন্টন বিষয়ে এবারের বৈঠকে কি কথা হবে? জানতে চাইলে মন্ত্রী সরাসরি কোন জবাব দেননি। বলেন, দুই দেশের পানি বিষয়ক সচিব পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। এটি ইতিবাচক দিক। সেখানে তারা একটি কাঠামো দাঁড় করার চেষ্টা করেছেন। এটা তরান্বিত হওয়া জরুরি। এতে অববাহিকার লোকজন উপকৃত হবে। উল্লেখ্য, আগামী ১৩ই ডিসেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ইন্ডিয়ান ওশান ডায়ালগে অংশ নিতে যাচ্ছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী। সেই অনুষ্ঠানের সাইড লাইনে দিল্লির বিদেশমন্ত্রী সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্করের সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। স্মরণ করা যায়- গত অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী হিসাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সর্বশেষ দিল্লি সফর করেন। তার দু’মাস আগে আগস্টে দিল্লির বিদেশমন্ত্রী বাংলাদেশ সফর করেন। বিদেশমন্ত্রীর সফরটি পুরোপুরি দ্বিপক্ষীয় সফর ছিল। প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর এবং দিল্লির বিদেশমন্ত্রীর ঢাকা সফরে এনআরসি, তিস্তাসহ দুই দেশের সম্পর্কের বার্নিং সব ইস্যু নিয়েই আলোচনা হয়েছিল।

রোহিঙ্গা সঙ্কট মোকাবিলায় ঢাকার পাশে সর্বোতভাবে থাকার আশ্বাস দিয়েছে দিল্লি। সরকার প্রধানের দিল্লি সফরে সাতটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়া ছাড়াও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দুই প্রধানমন্ত্রী তিনটি প্রকল্পের উদ্বোধন করেছিলেন। ঐতিহাসিক বন্ধু এবং ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এখন এতটাই গভীর এবং বিস্তৃত যে সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকার তরফে এটাকে ‘বিয়োন্ড স্ট্র্যাটেজিক রিলেশন’ হিসাবে অভিহিত করা হচ্ছে।

আপনার মতামত দিন

শেষের পাতা অন্যান্য খবর

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুন্নয়ন খাতের ব্যয়

৫ বছরে বেড়েছে ২,৪২১ কোটি টাকা

১৮ জানুয়ারি ২০২০

নিরাপদ সড়ক আন্দোলন

সেই ১১ শিক্ষার্থী মামলার বেড়াজালে

১৮ জানুয়ারি ২০২০

অনশনে অসুস্থ ৯ শিক্ষার্থী

১৮ জানুয়ারি ২০২০





শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত