পুলিশের গুলিতে ২ আনসার সদস্য আহত

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

অনলাইন ৮ ডিসেম্বর ২০১৯, রোববার, ৩:২৮

অসর্তক অবস্থায় সিরাজগঞ্জ সদর থানা পুলিশের শর্টগানের গুলিতে ২ আনসার সদস্য আহত হয়েছেন। আজ রোববার দুপুরে সিরাজগঞ্জ শহরের রায়পুরস্থ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (আনসার ও ভিডিপি) জেলা কার্যালয়ের সামনে বেলা ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহতরা হলেন, শাহজাদপুর রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আনসার ও ভিডিপি) সহকারি প্লাটুন কমান্ডার মো. ওবায়দুল্লাহ (৩৩) ও সদস্য মতিউর রহমান (৩৫)।     

প্রত্যক্ষদর্শী শাহজাদপুর রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত আনসার ও ভিডিপির প্লাটুন কমান্ডার আকমল হোসেন জানান, রেশন নেয়ার জন্য জেলা সদরের অফিসে এসেছিলাম। আমরা অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় শহরের দিক থেকে পুলিশের একটি পিকআপভ্যান পুলিশ লাইনের দিকে যাচ্ছিলো। পিকআপটি আনসার অফিস অতিক্রম করার সময় হঠাৎ একটি বিকট শব্দ হয়। এরপরই আমাদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকা সহকারি প্লাটুন কমান্ডার মো. ওবায়দুল্লাহ ও সদস্য মতিউর রহমান মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিক পুলিশ পিকআপটি থামানোর পরই বুঝতে পারি গাড়িতে থাকা শর্টগান থেকেই গুলি হয়েছে।


আহতদের মধ্যে সহকারি প্লাটুন কমান্ডার মো. ওবায়দুল্লাহর বাম হাতে ৪-৫টি, কোমরে ও থাইয়ে একাধিক গুলি লেগেছে এবং সদস্য মতিউর রহমানের ডান হাতে ৫-৬ টি এবং বুকে ও পেটে অন্তত: ১৪-১৫টি গুলি লেগেছে।

পুলিশের পিকআপে থাকা সদর থানায় কর্মরত কনস্টেবল রেজাউল করিম জানান, শহরের মধ্যে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সংঘর্ষ চলছিলো। এমন সময় সদর থানার ওসি স্যার পুলিশ লাইনে একটি মিটিংয়ে ছিলেন। তাকে দ্রুত নিয়ে আসতে পুলিশ লাইনে যাচ্ছিলাম। চালক পিকআপটি চালানোর সময় পেছনে আমি একাই ছিলাম। ওই পিকআপে একটি শর্টগান ও একটি গ্যাসগান ছিলো। অসর্তক অবস্থায় শর্টগানটি লোড অবস্থায় থাকায় ঝাকুনিতে সেটি থেকে গুলি বের হয়ে যায়। গুলি প্রথমে পিকআপের বডি ছিদ্র হয়ে তারপর আনসার সদসদ্যের শরীরে লেগেছে।

সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রোকনুজ্জামান জানান, আহত ২ আনসার সদস্যকে অপারেশনের থিয়েটারে নিয়ে শরীর থেকে গুলি বের করা হয়েছে। তাদের হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনার সংবাদ পেয়ে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আনসার ও ভিডিপি) জেলা কমান্ড্যান্ট মির্জা শিফাত ই খোদা, সার্কেল এডজুট্যান্ট মো. জসিম উদ্দিন, সদর উপজেলা কর্মকর্তা (চ.দ.) সোহেল রানা এবং সদর থানার ওসি মোহাম্মদ দাউদ হাসপাতাল পরিদর্শন করে আহতদের খোঁজখবর নেন।

জেলা কমান্ড্যান্ট মির্জা শিফাত ই খোদা জানান, পুলিশের গুলিতে ২ আনসার সদস্য আহত হওয়ার পর তাদের হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তাদের চিকিৎসার বিষয়টি সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে। ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত নাকি পরিকল্পিত সেটি এখনও তদন্ত হয়নি। বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের অবগত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সদর থানার ওসি মোহাম্মদ দাউদ জানান, অসর্তকতার কারণে গুলির ঘটনাটি ঘটেছে। আমরা পুলিশের পক্ষ থেকেও আহতদের চিকিৎসার খোঁজ-খবর নিচ্ছি।  

আপনার মতামত দিন

অনলাইন অন্যান্য খবর

সৌদি আরবে ধরপাকড় চলছেই

১৬ দিনে ফিরেছেন ১৬১০ বাংলাদেশি

১৭ জানুয়ারি ২০২০





অনলাইন সর্বাধিক পঠিত