মেডিকেল রিপোর্ট পরিবর্তনের জন্য সময়ের আবেদন

স্টাফ রিপোর্টার

প্রথম পাতা ৬ ডিসেম্বর ২০১৯, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ৩:১৩

খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেছেন, আমি যতদূর জানি খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য প্রতিবেদনের জন্য গত মঙ্গলবার মেডিকেল বোর্ড গঠিত হয়েছে। ইতিমধ্যে বোর্ড রিপোর্ট রেডি করেছে। সেই রিপোর্ট প্রশাসনের কাছে দাখিলও করা হয়েছে। কিন্তু সরকার পক্ষ থেকে বার বার চাপ দেয়া হচ্ছে, বোর্ড যে রিপোর্টটি দিয়েছে, সেই রিপোর্ট পরিবর্তন করার জন্য। তিনি বলেন, রিপোর্ট পরিবর্তন করার জন্য তারা ৭ দিনের সময় নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগের এজলাস ত্যাগ করার পর সুপ্রিম কোর্ট অডিটরিয়ামে জাতীয় আইনজীবী ফোরাম আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমি আদালতকে বলেছি আগামী বুধবারেও রিপোর্ট দাখিল হবে কিনা, তা নিয়ে আমাদের যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। কেননা যখন একটি মামলা চলমান থাকে, তখন সরকার প্রধান কিভাবে বলেন, তিনি জেলখানায় রাজার হালে আছেন? তখন বোর্ড কিভাবে এই রিপোর্ট দাখিল করতে সাহস পাবে।


জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেনের সভাপতিত্বে ও অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদূদ আহমেদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সেক্রেটারি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।

জয়নুল আবেদীন বলেন, আমরা আদালতকে বলেছি বার বার রিফিউজ হচ্ছি। তবুও আমরা সর্বোচ্চ আদালতের কাছে আসি। আমরা যে রিপোর্টটি এনেছি সেটি দয়াকরে দেখেন, শুনেন। কিন্তু অ্যাটর্নি জেনারেল এরই মধ্যে সময়ের আবেদন করলেন। প্রধান বিচাপতি তাদের আবেদন মঞ্জুর করলেন। আমরা ফের প্রধান বিচারপতিকে নিবেদন করি, হুবুহ ওই রিপোর্টটি আমাদের কাছে আছে, আপনি দেখুন। আদালত আমাদের কথা না শুনে আগামী বৃহস্পতিবার ফের শুনানির দিন ধার্য করেন। তখন আমরা আদালতকে এও বলেছিলাম, অ্যাটর্নি জেনারেল যেহেতু সময় চেয়েছেন, তাহলে আগামী রোববার, কিংবা সোমবার শুনানির ব্যাবস্থা করেন। কিন্তু তিনি আমাদের সে কথাও শুনেননি। আদেশ দিয়ে তিনি একপর্যায়ে এজলাস ত্যাগ করেন। শেষ আকুতি জানানোর জন্য সিনিয়র ও ৮০ বছরের প্রবীন আইনজীবীরা এজলাসে অবস্থান করেন। তিনি ফের এজলাসে উঠেন। আমরা আবারও জামিনের আকুতি জানাই, নিবেদন করি। কিন্তু তিনি আগের অবস্থানেই অনড় থাকেন।

তিনি আরো বলেন, আমরা ওই রিপোর্টের পর খোঁজ নিয়ে দেখেছি। বেগম জিয়ার বর্তমান শারিরিক অবস্থা আরো খারাপ। কোনো চিকিৎসক পর্যন্ত তার শরীরে ইনজেকশন পুশ করতে সাহস পাচ্ছে না। রিপোর্ট আনতে যদি দেরি হয় তাহলে আপনার মেডিকেল বোর্ডকে স্বশরীরে তলব করতে পারেন। সরকার বেগম জিয়াকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে জয়নুল আবেদীন বলেন, আপনারা অবগত আছেন, বেশ কয়েক বছর ধরে সরকার মিথ্যা মামলা দিয়ে খালেদা জিয়াকে জেলে ভরে রেখেছেন। আপনারা এও দেখেছেন, বেগম জিয়া সুস্থ অবস্থায় জেল খানায় গিয়েছেন। কিন্তু এখন তিনি খুবই অসুস্থ। তার যে চিকিৎসা দরকার, সেই চিকিৎসা তিনি জেল খানায় পাচ্ছেন না। দীর্ঘদিন ধরে তিনি হসপিটালে ভর্তি আছেন। সেখানেও তার সঠিক চিকিৎসা হচ্ছে না। সম্প্রতি বেগম জিয়ার সঙ্গে আমাদের সিনিয়র আইনজীবীরা সাক্ষাতের অনুমতি চেয়েছেন। কিন্তু তাদের সাক্ষাতের অনুমতি দেয়া হয়নি। হসপিটালে সরকার কাউকে যেতে দিচ্ছেন না। এমনকি তার আত্বীয় স্বজনকেও অনেক সময় অনুমতি দেয়া হয় না। তারপরেও অনেক অনুনয় বিনয়ের পরে একদিন তার আত্বীয় স্বজন অল্প সময়ের জন্য সাক্ষাতের অনুমতি পান। সেখানে যাওয়ার পর তারা জানতে পারেন, ২৭শে অক্টোবর খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরিক্ষার জন্য একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। সেই বোর্ড বিভিন্ন পরিক্ষা করে ৩০শে অক্টোবর একটি রিপোর্ট দিয়েছে । ওই রিপোর্টে বোর্ড পরিস্কারভাবে বলেছে, খালেদা জিয়া দিন দিন পঙ্গু হয়ে যাচ্ছেন। বেগম জিয়ার হাত বাঁকা হয়ে যাচ্ছে, পা বাঁকা হয়ে যাচ্ছে। খালেদা জিয়ার যে চিকিৎসা সেটা কোনো ভাবেই বাংলাদেশে সম্ভব না। তার অ্যাডভান্স ট্রিটমেন্ট দরকার।

তিনি হাঁটতে পারছেন না। চলতে পারছেন না। বোর্ড কতগুলো মেডিসিন ও ইনজেকশনের কথা বলেছেন, যেগুলো বাংলাদেশে সম্ভব না। এই মেডিসিন গুলো এখানে পুশ করলে তার জীবনের জন্য ক্ষতির আশংকা রয়েছে। অনেক ঝুঁকিও রয়েছে। তারা চারটি মেডিসিনের কথা উল্লেখ করেছেন। যেগুলো বাংলাদেশে পাওয়াই যায় না। তাকে বিদেশে চিকিৎসা করাতে হবে। ওই রিপোর্টটির জন্য আমি নিজে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সঙ্গে দেখা করে অফিসিয়ালি রিপোর্টটি চেয়েছি কিন্তু তিনি আমাকে রিপোর্টটি দেননি।

সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, দীর্ঘক্ষণ আদালতে অবস্থান করে বিচার কাজ বন্ধ রাখার ঘটনার জন্য রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল দায়ী। আজকে যে ঘটনা ঘটেছে তার সব দায়-দায়িত্ব অ্যাটর্নি জেনারেলের। কেননা বেগম জিয়ার মামলায় মেডিকেল রিপোর্টের দরকার হয় না। এ মামলায় সর্বোচ্চ সাজা সাত বছর। সাত বছরই তাকে দিয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। আজকে তিনি দীর্ঘ দিন ধরে হাজতে রয়েছেন অথচ এই ধরনের মামলায় শত শত আসামি জামিন নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, আমি প্রথম থেকে বলে এসেছি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জন্য, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বেগম জিয়াকে জেলে রাখা হয়েছে। রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া বেগম খালেদা জিয়াকে আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্ত করা যাবে না। তারই প্রমাণ আজকে আপনারা পেয়েছেন। যেখানে সাত বছরের সাজার মধ্যে দেড় বছর ধরে তিনি জেলে। তার ওপর একজন নারী হিসেবে জামিন পাবেন না এর চেয়ে ন্যাক্কারজনক আর কিছু হতে পারে না। খালেদা জিয়াকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, একটি বিচারাধীন মামলায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, খালেদা জিয়া রাজার হালে আছেন। আল্লাহ যদি কোনোদিন সুযোগ দেন বাংলার জনগণও একদিন তাকেও হয়তো এমন সুযোগ দেবেন।

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, একটা মামুলি মামলায়, মিথ্যা অভিযোগে খালেদা জিয়াকে শাস্তি দেয়া হয়েছে। তিনি প্রায় এক বছর ১০ মাস ধরে জেলে আছেন। কেন এতদিনে তার জামিন হয়নি আজকে আপনারা তা বুঝতে পারছেন। তিনি বলেন, আমাদের প্রত্যাশা ছিল বিএনপি চেয়ারপারসনের মুক্তির আদেশ হবে। যেকোনো আদালতে মানবিক কারণে সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে জামিন দিতে পারেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, আজকে খালেদা জিয়ার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের দ্বিতীয় রিপোর্টে কি আছে সেটিও জয়নুল আবেদীন উল্লেখ করেছেন। একটা সামান্য অজুহাতে আদালত সাত দিন সময় দিয়েছেন। যা অপ্রত্যাশিত। সরকারের রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে এবং এই কারণেই খালেদা জিয়ার মুক্তি এতদিন দেরি হয়েছে উল্লেখ করে মওদুদ আহমদ বলেন, আমি মনে করি, শুধুমাত্র মানবিক কারণে তার জামিন চাওয়া হয়েছে।

মেরিটে আলোচনা করেননি। শুধুমাত্র তার স্বাস্থ্যগত কারনে তার জামিন দেয়া উচিত। আমাদের আইনে সেকশন ৪৯৭-এ এটা দেয়া আছে। কোনো আসামি যদি নারী হন, অসুস্থ হন, বয়স্ক হন তাহলে কোর্ট তাকে জামিন দিতে পারেন। এটা একেবারে সামান্য জিনিস। আজকের কোর্টের এই অবস্থা পেশাগত জীবনে দেখেননি উল্লেখ করে সাবেক এ আইনমন্ত্রী বলেন, আমি বলবো আমাদের আইনজীবীরা আজকে প্রচন্ড প্রতিবাদ করেছে এবং তারা ন্যায় বিচার চান বলে আদালত কক্ষে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ বলে উল্লেখ করেছেন। তারা প্রচন্ড ক্ষোভ থেকে এমন স্লোগান দিয়েছেন।
তিনি বলেন, আমি পেশাগত জীবনে এ রকম ঘটনা দেখেনি। আমরা পাকিস্তান আমল থেকে বড় বড় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের এমনকি আওয়ামী লীগের বড় নেতাদেরও স্বাস্থ্যগত বিষয়ে জামিন পেয়েছি। এই ধরনের কোনো আচরণ বা এই ধরনের কোনো ব্যবস্থা আমার পেশাগত জীবনে দেখিনি।

এর আগে, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন সূচনা বক্তৃতায় বলেন, আমরা আগামী রোববার থেকে সারাদেশের জেলা বারে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করবো।

আপনার মতামত দিন

প্রথম পাতা অন্যান্য খবর

ঢাকা সিটিতে ভোট ১লা ফেব্রুয়ারি

পিছু হটলো নির্বাচন কমিশন

১৯ জানুয়ারি ২০২০

মিয়ানমারের অনীহা

ভেস্তে যেতে বসেছে ত্রিদেশীয় উদ্যোগ

১৯ জানুয়ারি ২০২০

ভাড়ায় মিলে মামলার বাদী!

১৯ জানুয়ারি ২০২০

১৬ দিনে এসেছেন ১৬১০ বাংলাদেশি

সৌদি থেকে ফেরার মিছিল

১৮ জানুয়ারি ২০২০

অনিশ্চয়তায় ভোটাররা

১৮ জানুয়ারি ২০২০





প্রথম পাতা সর্বাধিক পঠিত