কেউ কেউ আগে থেকে টোকেন সংগ্রহ করে রেখেছেন। কিন্তু অধিকাংশরাই টোকেন পাননি। ক্রেতাদের অভিযোগ, ৪৫০ সিরিয়াল পর্যন্ত টোকেন দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়। দেয়ার কথা ১০০০ জনকে। বলা হয় টোকেন ছাড়া কাউকে পিয়াজ দেয়া হবে না। অন্যদিকে শত শত মানুষ ভিড় করছেন। কাকে রেখে কাকে দেবে টোকেন। তাই পিকআপ আসতেই সবাই লাইন ভেঙে হুমড়ি খেয়ে পড়েন। এক কেজি পিয়াজ পেতে রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয়েছে প্রত্যেক ক্রেতাকে। আবার ৫ টাকা খুচরা না থাকার অজুহাতে ৪৫ টাকার বদলে ৫০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে টিসিবির পিয়াজ। তবে বিক্রেতাদের দাবি ৫ টাকার বদলে পিয়াজ একশ গ্রাম বেশি দেয়া হচ্ছে। পিয়াজ কিনতে খামার বাড়ি মোড়ে ভোর ৬টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন মধ্য বয়সী আনোয়ারা বেগম। দীর্ঘ ৬ ঘণ্টা অপেক্ষা শেষে মিলেছে এক কেজি পিয়াজ। চোখেমুখে আনন্দের ছাপ। বলেন, টেলিভিশনে খবর পেয়ে সেই মোহাম্মদপুর থেকে এসেছি। আমরা গরিব মানুষ। ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় পিয়াজ কিনে খাওয়ার সামর্থ নাই। অভাবের সংসারে ১৫০-২০০ টাকা বাঁচলে সেই টাকা দিয়ে আমি ৪ কেজি চাল কিনতে পারবো। এটা আমার কাছে অনেক কিছু। সকাল থেকে ১০ থেকে ১২ বছরের শিশু থেকে শুরু করে ৭০ থেকে ৮০ বছরের বৃদ্ধসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের ঢল নেমেছিল খামারবাড়ি মোড়ে। ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে কারও ভাগ্যে এক কেজি পিয়াজ জুটলেও ভিড়ের মধ্যে ধস্তাধস্তিতে অনেক নারীর ভাগ্যে জোটেনি পিয়াজ। এ সময় আমেনা নামের একজন নারী ধাক্কাধাক্কিতে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে এক কেজি পিয়াজ হাতে ধরিয়ে দিলে বাসায় ফিরেন।
এ সময় খামারবাড়ির আশপাশের রিকশাচালক, লেগুনাচালক এবং ফুটপাথের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও সব কাজ ফেলে টিসিবির পিয়াজ কিনতে চলে আসেন।
ইন্দিরা রোডের আবুল খায়ের সকাল ৮টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু কোনোভাবে পিকআপের কাছেই ভিড়তে পারছিলেন না। ঘামেভেজা শরীর নিয়ে পিকআপের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন অসহায়ের মতো। পরে এক সংবাদকর্মীর অনুরোধে তাকে এক কেজি পিয়াজ দেয়া হয়। রেহেনা নামের প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ বছরের একজন নারী লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন সকাল ৭টা থেকে। দীর্ঘক্ষণ রোদে দাঁড়িয়ে থেকে এমনিতেই ক্লান্ত। এরপর হুড়োহুড়ি শুরু হলে ধস্তাধস্তিতে মাটিতে পড়ে যান। উঠে আবার চিৎকার করে পিয়াজের জন্য অনুনয়-বিনয় করতে থাকেন। অবশেষে এক কেজি পিয়াজ নিয়ে ভিড় ঠেলে বের হয়ে হাফ ছেড়ে বাঁচেন।
আকবর হোসেন ৩ ঘণ্টার যুদ্ধ করে অবশেষে পিয়াজ পেয়েছেন। পিয়াজ পেয়ে তার সেকি আনন্দ! যেন সোনার হরিণ হাতে পেয়েছেন। বলেন, বাজারে পিয়াজের যে দাম তাতে আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষের পক্ষে এতো টাকা দিয়ে কিনে খাওয়া সম্ভব নয়। সকালে বাজারে গিয়ে দেখি এক কেজি পিয়াজের দাম ২৪০ টাকা। এখানে সেই পিয়াজ ৪৫ টাকা। হিসাবে কেজিতে ২০০ টাকা বাঁচলো। যুদ্ধ না করে আর কি উপায় আছে? দাম কবে কমবে কে জানে। তাই এখন এটা আমার কাছে অনেক খুশির বিষয়। খামার বাড়ি কেন্দ্রের এক টন পিয়াজ কয়েক ঘণ্টায়ই শেষ হয়ে যায়। তখনও হাতে পিয়াজ পেতে অপেক্ষায় অনেক মানুষ। এদিকে একই চিত্র দেখা গেছে কাওরান বাজার ও প্রেস ক্লাবের পাশে ভ্রাম্যমান ট্রাকের বিক্রয় কেন্দ্রে। পিয়াজ নিতে ভিড় করা শ শ মানুষের অনেককে খালি খাতেই ফিরতে হয়েছে।
