হবিগঞ্জে শোকের মাতম

প্রথম পাতা

রাশেদ আহমদ খান, হবিগঞ্জ থেকে | ১৩ নভেম্বর ২০১৯, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:৫৩
হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আলী মোহাম্মদ ইউসুফ। বাসা শহরের আনোয়ারপুর এলাকায়। বিয়ে করেছেন ৪ বছর হলো। ১৮ মাসের একটি ফুটফুটে মেয়ে এসেছে তাদের পরিবারে। স্ত্রী সেবিকা হিসেবে চাকরি করেন চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে। নিকটাত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিনি স্ত্রীকে আনতে  উদয়ন ট্রেনে যাচ্ছিলেন চট্রগ্রামে। কিন্তু পথিমধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভয়াবহ ট্রেন দূর্ঘটনায় নিহত হন ইউসুফ। তার মৃত্যুর খবর শোনার পর থেকে পরিবারে মাতম চলছে।
মা আফতাবুন্নেছা বারবার মুছ্র্‌া যাচ্ছিলেন কাঁদতে কাঁদতে। বোনের গগন বিদারী আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার আকাশ-বাতাশ। পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বৃন্দাবন কলেজ থেকে ব্যবস্থাপনা বিভাগে মাস্টার্স করেছেন ইউসুফ। ছাত্র রাজনীতি করেছেন দীর্ঘদিন থেকে। দলের নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে কাজ করেছেন একাগ্রভাবে। তাকে হারিয়ে বিএনপি পরিবারও শোকাহত। তার মৃত্যুর খবরে বাসায় ছুটে যান জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক সাবেক পৌর মেয়র জিকে গউছসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জিকে গউছ বলেন, ইউসুফের মৃত্যুতে ছাত্রদলে যে শূন্যতা সৃষ্টি হবে তা সহজে পূরণ হবার নয়। সবার প্রিয় ইউসুফের একটি ফুটফুটে শিশুসন্তান রয়েছে। তাকে হারিয়ে পরিবারটি এখন দিশাহারা হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ সময় উপস্থিত হবিগঞ্জ পৌরসভা মেয়র মিজানুর রহমান বলেন, সে আমার খুব প্রিয় ছিল। তার মৃত্যুতে হবিগঞ্জ পৌরসভার সকল সহকর্মী শোকাহত।
অন্যদিকে কক্সবাজারে বেড়ানোর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে ট্রেন দুর্ঘটনায় লাশ হয়েছে চুনারুঘাট উপজেলার রুবেল মিয়া। উপজেলার উলুকান্দি গ্রামের তালুকদার বাড়ির ফটিক মিয়ার ছেলে সে। স্থানীয় শানখলা মাদ্রাসার দাখিল পড়ুয়া ছাত্র ছিল রুবেল। ৫ বন্ধু মিলে কক্সবাজার বেড়াতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরতে হলো তাকে। এ ঘটনায় আহত হন তার দুই বন্ধু।
একই দুর্ঘটনায় নিহত হন হবিগঞ্জ শহরতলীরও বহুলা গ্রামের আলমগীর আলমের ছেলে ইয়াছিন আলম, বানিয়াচং উপজেলার মদনমুরত গ্রামের আয়ুব হোসেনের ছেলে আল আমিন ও তাম্বলীটুলা গ্রামের সোহেল মিয়ার শিশু কন্যা আদিবা। এছাড়াও চুনারুঘাট উপজেলার পীরের গাঁওয়ের সুজন মিয়া ও বাগডাইয়া গ্রামের গৃহবধূ পিয়ারা খাতুন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় হবিগঞ্জে নিহত সকলের পরিবারেই চলছে শোকের মাতম। স্বজনদের কান্নায় ভারি হয়ে উঠেছে এলাকার আকাশ-বাতাশ। এ পর্যন্ত হবিগঞ্জ জেলায় ৭ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান মানবজমিনকে জানান, এ পর্যন্ত হবিগঞ্জ জেলায় ৭ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে ঘটনাস্থল যেহেতু ব্রাহ্মণবাড়িয়া সেখানকার জেলা প্রশাসক যাবতীয় কার্যক্রম গ্রহণ করবেন। এরপরেও আমরা হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে দাফন-কাফনের জন্য ১০ হাজার টাকা আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করবো।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

মিছিলে না যাওয়ায় পিটিয়ে হল থেকে বের করে দেবার অভিযোগ

সৌদিতে একই দরজা দিয়ে রেস্টুরেন্টে ঢুকতে পারবে নারী-পুরুষ

চট্টগ্রাম-৮ উপ নির্বাচনে মনোনয়ন কিনলেন বিএনপির দুই নেতা

আমরা ন্যায়বিচার চাই: খন্দকার মাহবুব হোসেন

ছেলেদের ক্রিকেটেও স্বর্ণ জয়

পুরুষ ক্রিকেটের জয়ে ঢাকাকে ছাড়িয়ে গেল কাঠমান্ডু

দেশীয় সংস্কৃতি কম থাকার জন্য সময়স্বল্পতাকে দুষলেন পাপন

৩৪ বছর বয়সে প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন সারা মারিন

লাভা উদগীরণে নিউজিল্যান্ডে নিহত ৫, নিখোঁজ অনেক

মামলাটি দ্রুত এগুচ্ছে এটিই ইতিবাচক দিক

পরিবেশ ছাড়পত্রহীন স্থাপনা অপসারণে হাইকোর্টের রুল

আজ মুখোমুখি বসছেন পুতিন-জেলেনস্কি

“শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসে জ্ঞানার্জনের জন্য, লাশ হতে নয়”

সিরাজগঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ৬

হারিরিই হতে পারেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী

উইন্ডিজদের বিরুদ্ধে হারের কারণ জানালেন কোহলি