ভিসি বিরোধী আন্দোলন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি

অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

অনলাইন

অনলাইন ডেস্ক | ৭ নভেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ১২:৩২ | সর্বশেষ আপডেট: ১২:৩৭
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বিরুদ্ধে যারা দুর্নীতির অভিযোগ আনবে, তাদের সে অভিযোগ প্রমাণ করতে হবে। অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে মিথ্যা অভিযোগকারীদেরকে শাস্তি পেতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান আন্দোলন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আজ সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার তহবিল থেকে দুস্থ ও অসচ্ছল সাংবাদিকদের আর্থিক সহায়তা দেয়ার জন্য আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, কয়েকটা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসির বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে। ক্লাস বর্জন, ভাঙচুর, অবরোধ চলছে। এগুলো সন্ত্রাসী কার্যকলাপ, ছাত্র-শিক্ষকরা এসব কেন করবে? তিনি বলেন, ভিসির বিরুদ্ধে দুর্নীতির যেসব অভিযোগ তুলেছে, এর সুনির্দিষ্ট তথ্য তো তাদের কাছে থাকার কথা। তারা যদি অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হয়, তাহলে তাদেরও সাজা হবে।
যে মিথ্যা অভিযোগ করবে, তার শাস্তি হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্বায়ত্ত্বশাসন আছে। কিন্তু প্রতিবছর আমরা ভর্তুকি দিই। এরপরও ক্লাস বন্ধ থাকে, এটা কেন। বুয়েটে আবরার হত্যার ঘটনার পর যা যা প্রয়োজন সব ব্যবস্থা নিলাম। এরপরও আন্দোলন  কেন। এরকম চললে ক্লাস বর্জন করলে সঙ্গে সঙ্গে এক্সপেল করতে হবে। ক্লাস  কেন বন্ধ থাকবে? দিনের পর দিন আন্দোলন ও ক্লাস বন্ধ কেন?

তিনি বলেন, কোনও উন্নয়ন প্রকল্প শুরু হলেই আন্দোলন কেন? অন্য শিক্ষার্থীদের জীবন নষ্ট কেন? দেশে শিক্ষার একটা পরিবেশ তৈরি করেছিলাম।  সেটা নষ্ট করার চক্রান্ত হচ্ছে। দেশের মানুষের সচ্ছলতা এসেছে, উন্নয়ন এসেছে। তাহলে অভিযোগটা কী? আমরা তো কাজ করে যাচ্ছি। সবকিছু ইচ্ছেমতো তো হবে না।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আজ যারা ছাত্র তারা কাল থাকবে না। তাহলে ভাঙচুর  কেন? যাদের জন্য কাজ, তারাই যদি ভাঙে তাহলে আমরা কাজ করবো কীভাবে? এগুলো সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরা উচিত। এসবের পেছনে নিশ্চয়ই  কেউ না কেউ আছে। উন্নয়ন অনেকের কাছে পছন্দ হচ্ছে না, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার, যুদ্ধাপরাধের বিচার এসব ভালো লাগছে না। তবে আমরা দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।

উল্লেখ্য, উন্নয়ন প্রকল্পসহ বিভিন্ন খাতে দুর্নীতির অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে প্রায় তিন মাস ধরে আন্দোলন চলছে। অক্টোবরের শেষ থেকে আন্দোলনকারীরা প্রশাসনিক ভবন অবরোধ এবং সর্বাত্মক ধর্মঘট পালন করছিলেন। ফলে কার্যালয়ে যেতে পারছিলেন না ভিসি। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে আন্দোলনকারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। হামলায় আট জন শিক্ষকসহ অন্তত ২৫ জন আহত হন। এই হামলার পর দুপুর ১টার দিকে পুলিশ, জাবি শাখা ছাত্রলীগ, প্রশাসনপন্থী শিক্ষক-কর্মকর্তা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মীদের কড়া পাহারায় নিজ গাড়িতে করে বাসভবন থেকে বের হন ভিসি। পরে সেখান থেকে নতুন প্রশাসনিক ভবনে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন। ভিসি তাকে ‘মুক্ত’ করার জন্য ছাত্রলীগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এরপর জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়। তবে শিক্ষার্থীরা নির্দেশ উপেক্ষা করে আন্দোলন চালিয়ে যান। বুধবার কর্তৃপক্ষ হুঁশিয়ারি দেয়, শিক্ষার্থীরা হল না ছাড়লে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে এই নির্দেশও প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

M.R.R.KHAN

২০১৯-১১-০৭ ০৮:০৪:৩৬

দেশটি একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হতে চলেছে কি ?

আপনার মতামত দিন

ডা. শফিকুর রহমান জামায়াতের নয়া আমীর

উপকূলীয় উন্নয়ন বোর্ড ও ১২ই নভেম্বর উপকূল দিবস ঘোষণার দাবি

পিয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছি: মন্ত্রী

চবিতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে ছাত্রলীগ কর্মীর মারধর (ভিডিও)

মর্গে ছোট্ট ছোয়ার লাশ রেখে হাসপাতালে বাবা-মা

হবিগঞ্জের ৭ জন নিহত

একই পরিবারে নিহত ১, আহত ৭

ছাত্রদল নেতার মৃত্যু

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১২ আসামীকে কুমিল্লা কারাগারে স্থানান্তর

তূর্ণা এক্সপ্রেসের চালক-গার্ডসহ ৩ জন সাময়িক বরখাস্ত

একবছরে ৫ বছরের কম বয়সী ১২০০০ শিশুর মৃত্যু

রাঙ্গা অনুতপ্ত, বক্তব্য প্রত্যাহার

সৌদি আরবে নারীত্ববাদ, সমকামিতা, নাস্তিক্যবাদ উগ্রপন্থিদের ধারনা

ঘুরতে যাবার সময় লাশ হলেন রুবেল, আহত মুন্না ঢামেকে

নিহতদের প্রত্যেক পরিবার পাবে ১ লাখ টাকা: রেলমন্ত্রী

বুলবুলের পর আসছে নাকরি