নেত্রী চাইলে আমি প্রস্তুত আছি- মতিন মাস্টার

বিল্লাল হোসেন রবিন, নারায়ণগঞ্জ থেকে

বাংলারজমিন ৭ নভেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার

আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম জাতীয় শ্রমিক লীগের সম্মেলন ঘিরে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে নেতাকর্মীদের মধ্যে। নতুন কমিটিতে স্থান পেতে বিভিন্ন পর্যায়ে চলছে পদ প্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ। তদবির করছেন নীতি-নির্ধারকদের কাছে। কিন্তু এবার শ্রমিক লীগের হাল কে ধরতে যাচ্ছেন- তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। তবে সবার দৃষ্টি দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকে।

আগামী ৯ই নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় শ্রমিক লীগের সম্মেলন। সবশেষ ২০১২ সালের ১৯শে জুলাই শ্রমিক লীগের সম্মেলন হয়। বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০১৫ সালের জুলাই মাসে।
চার বছর পর সম্মেলন সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বর্তমান কমিটির সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম।
ওদিকে একটানা নয় বছর শ্রমিক লীগের দায়িত্ব পালন করা সাবেক সভাপতি আবদুল মতিন মাস্টার মানবজমিনকে বলেন, সামনের সম্মেলনে জনগণের কাছে যারা ভাল সেই সব লোকদের দিয়ে দল গঠন করলে দলটা ভাল চলবে। তিনি বলেন, এখন তো শ্রমিকদের নেতা লাগে না, আমার নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শ্রমিকদের সব ধরনের সুযোগ সুবিধা দিয়েছেন। শ্রমিকদের ব্যাপারে নেত্রী সবই জানেন বুঝেন, যেখানে যা লাগে তিনি তা দিয়ে দেন। এখন আর আন্দোলন করা লাগে না। শ্রমিকরা চাওয়ার আগেই নেত্রী শ্রমিকদের দাবি পূরণ করে দেন। এখন শ্রমিকেরা ভাল আছে আমি মনে করি।
মতিন মাস্টার আক্ষেপ করে বলেন, আমি যখন শ্রমিকলীগের সভাপতি তখন আমার সহকর্মী আহসান উল্লাহ মাস্টার সহ-সভাপতি। আহসান উল্লাহ মাস্টারকে হত্যা করা হলো, প্রতিবাদে আন্দোলন সংগ্রাম করলাম। নেত্রী ওয়ান ইলেভেনের সময় গ্রেপ্তার হলেন আন্দোলন সংগ্রাম করলাম। সারা বাংলাদেশে শ্রমিকলীগকে প্রতিষ্ঠিত করেছি, যেখানে কমিটি ছিল না সেখানে গিয়েছি। নিজের টাকা খরচ করে সারাদেশে ভ্রমণ করে শ্রমিকলীগের সাংগঠনিক ভীত মজবুত করেছি। কিন্তু শ্রমিকলীগের সম্মেলনে সভাপতি হিসেবে যখন সমাপনী বক্তব্য দিচ্ছি, এরই মধ্যে বিভিন্ন টেলিভিশনে ব্রেকিং নিউজে নতুন কমিটি ঘোষণা হয়। কিন্তু সভাপতি হিসেবে আমি তখনও কমিটি ভেঙে দেইনি। ওই কারণে একটু আঘাত পেয়েছি। তারপরও আমি বসে থাকিনি, দুঃখটা বুকে রেখে কাজ করে যাচ্ছি শ্রমিকদের জন্য।
তবে দলের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এই নেতা বলেন, দলের জন্য আমার পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করতে হয়েছে। কর্মীর জন্য আঘাত প্রাপ্ত হয়েছি, দলের জন্য গ্রেপ্তার হয়েছি। কিন্তু পিছপা হইনি। তবে একটা জিনিস জীবনে ভুলবো না। সেটা হলো আমি যখন বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তখন প্রধানমন্ত্রী শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ানকে দিয়ে এক লক্ষ টাকা পাঠিয়েছেন আমার জন্য। আমাকে যে মূল্যায়ন করেছেন আমি কৃতজ্ঞ নেত্রীর (শেখ হাসিনা) কাছে।
দলে নিজের বর্তমান অবস্থান নিয়ে মতিন মাস্টার বলেন, আমি বসে  নেই, আমি কাজ করছি। দল থেকে বিচ্ছিন্ন হইনি এক মুহূর্তের জন্যও। দলীয় সকল কর্মসূচিতে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছি এবং রাখছি, আগামীতেও রাখবো। তবে নেত্রী যদি আমাকে দিয়ে দলের কোন কাজ করাতে চান আমি প্রস্তুত আছি। নেত্রী যদি আমাকে কিছু নাও দেয় তবুও আমি আওয়ামী লীগ করবো, করছি। এবং মৃত্যুর সময় আওয়ামী লীগের পতাকাটি যদি আমার উপর রেখে মাটি দেয় আমার আত্মা শান্তি পাবে।
শ্রমিক লীগের প্রবীণ এই নেতা দেশ স্বাধীনের পর কোন চাকরিতে না ঢুকে ১৯৭২ সালে শিমরাইল প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে বিনা বেতনে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নেন তিনি। ৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার প্রতিবাদ হিসেবে স্কুলের চাকরি ছেড়ে দিয়ে শ্রমিকলীগের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত হয়ে পড়েন। এর আগে ১৯৬৭ সালে ছাত্রলীগের একজন কর্মী হিসেবে রাজনীতিতে তার হাতে খড়ি। ১৯৭৭ সালে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান তিনি। পাশাপাশি ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত সিদ্ধিরগঞ্জে জাতীয় শ্রমিকলীগের আঞ্চলিক কমিটিতে সদস্য, সাংগঠনিক সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন আবদুল মতিন মাস্টার। ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশী পাটশিল্প শ্রমিকলীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পান তিনি। ওই বছরই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সহযোগি সংগঠন জাতীয় শ্রমিকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন মতিন মাস্টার। ধারাবাহিকতায় ১৯৮৩ সালে আন্তর্জাতিক সম্পাদক, ১৯৮৭ সালে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৯১ সালের ২৭শে এপ্রিল ঘূর্ণিঝড়ের পর রিলিফ দিয়ে চট্টগ্রাম থেকে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় জাতীয় শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক আহত হওয়ায় ৯ই মে মতিন মাস্টারকে জাতীয় শ্রমিকলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক করা হয়। ১৯৯২ সালে দুই শ্রমিকলীগকে একত্রিত করে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে তিনি জাতীয় শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৯৭ সালে সহ-সভাপতি এবং ২০০৩ সালের ১৯শে জুলাই জাতীয় শ্রমিকলীগের সম্মেলনে সভাপতি নির্বাচিত হন আবদুল মতিন মাস্টার। ২০১২ সাল পর্যন্ত টানা ৯ বছর জাতীয় শ্রমিকলীগের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

আপনার মতামত দিন

বাংলারজমিন অন্যান্য খবর

ঝিনাইদহে অপারেশনের পর প্রসুতির মৃত্যু, করোনা উপসর্গ বলে অপপ্রচার

১৫ আগস্ট ২০২০

ঝিনাইদহের মহেশপুরের পর এবার হরিণাকুন্ডু শহরের ভাই ভাই ক্লিনিকে রোজিনা খাতুন (২০) নামে এক প্রসুতি ...

কুড়িগ্রামে যথাযথ মর্যাদায় জাতীয় শোক দিবস পালন

১৫ আগস্ট ২০২০

সারাদেশের ন্যায় কুড়িগ্রামেও যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত ...

ভারতের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে বিজিবি ও বিএসএফ এর মধ্যে মিষ্টি বিনিময়

১৫ আগস্ট ২০২০

ভারতের ৭৪তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে দিনাজপুরের হিলি সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতের বর্ডার ...

দিনাজপুরে বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বার্ষিকী পালন

১৫ আগস্ট ২০২০

দিনাজপুরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর শাহাদৎ বার্ষিকী পালিত হয়েছে । শনিবার সকালে ...

চাঁদপুরে জাতীয় শোক দিবস

১৫ আগস্ট ২০২০

চাঁদপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে জাতীয় শোক দিবস। দিবসটি উপলক্ষে শনিবার সকাল থেকে চাঁদপুর সরকারি ...

খানসামায় তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

১৫ আগস্ট ২০২০

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার পল্লী থেকে পুলিশ লতা রায় (১৭) নামে এক ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার ...



বাংলারজমিন সর্বাধিক পঠিত