বিসিবিকে ক্রিকেটারদের ১১ দফা

স্পোর্টস রিপোর্টার

খেলা ২২ অক্টোবর ২০১৯, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ৬:০৮

সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহীম, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদরা দাঁড়িয়ে আছেন। তাদের ঘিরে আছেন প্রায় ১০০ জনের মতো ক্রিকেটার। তারা মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের একাডেমির মাঠে জড়ো হয়েছেন। না, কোনো ক্রিকেট ম্যাচ নয়, তারা মাঠে নেমেছেন দাবি আদায়ের জন্য। তারা যে আলাদা নয়, তারা এক- তা বোঝাতে হয়তো একে একে দশ ক্রিকেটার জানালেন তাদের ‘১১’ দাবির কথা। সাকিব আল হাসানের কণ্ঠ থেকে আসে দু’টি দাবি। শুরু করেন জাতীয় দল থেকে বাদ পড়া ঘরোয়া ক্রিকেটের পরীক্ষিত তারকা নাঈম ইসলাম। এরপর মাহমুদুল্লাহ, মুশফিকরা থেকে শুরু করে তরুণ এনামুল হক বিজয়, নূরুল হাসান সোহানও অংশ নিলেন।
তাদের এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন সাকিব। তিনি সব শেষে জানিয়ে দিলেন তাদের দাবি না মানা পর্যন্ত অংশ নেবেন না জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কোনো ধরনের ক্রিকেট খেলায়। কি আছে তাদের সেই দাবিতে! ক্রিকেটারদের মুখে বলা তাদের অধিকারের কথাগুলো তুলে ধরা হলো-

১. নাঈম ইসলাম
আমাদের প্লেয়ারদের উন্নয়নের যে এসোসিয়েশন আছে (ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-কোয়াব) আমরা কখনো দেখিনি উনারা আমাদের পক্ষে কথা বলেছেন। অতএব কোয়াবের প্রেসিডেন্ট, সেক্রোটারি যারা আছেন তাদের অনতিবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। আমাদের প্রেসিডেন্ট, সেক্রেটারি কে হবেন সেটা আমরা প্লেয়াররা নির্বাচনের মাধ্যমে ঠিক করবো।

২. মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ
বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে আপনারা জানেন ঢাকা প্রিমিয়ার লীগের অবস্থাটা কি। যেভাবে প্রিমিয়ার লীগ হচ্ছে তাতে সব প্লেয়ারই অসন্তোষ প্রকাশ করছে। পারিশ্রমিকের একটা মানদণ্ড বেঁধে দেয়া হচ্ছে এবং অনেক সীমাবদ্ধতা এখানে আছে। আমরা যেভাবে আগে প্রিমিয়ার লীগ খেলতাম এবং প্লেয়াররা যেভাবে ক্লাব অফিসিয়ালদের সঙ্গে ডিল করতো সেটি এখন আর নেই। আমাদের দাবি হচ্ছে আগে যেভাবে দলবদল পদ্ধতিটা চলতো সেভাবে যেন আমরা পাই।

৩. মুশফিকুর রহীম
আমাদের তৃতীয় দাবি বিপিএল নিয়ে। আপনারা জানেন এবারের বিপিএল অন্য নিয়মে হচ্ছে। কিন্তু আমাদের যেটা মূল দাবি সেটা হলো বিপিএল যেন আগের নিয়মে চলে আসে এবং আমাদের স্থানীয় প্লেয়ারদের ন্যায্য মূল্যটা যেন বিদেশি প্লেয়ারদের সঙ্গে থাকে। আমরা দেখি যে বিপিএলে বিদেশি প্লেয়াররা আসে এবং তাদের অনেক পারিশ্রমিক দেয়া হয়। কিন্তু স্থানীয়রা সেটা পায় না। বিসিবিকে সেই নিশ্চয়তা দিতে হবে। আপনারা যদি খেয়াল করে দেখেন বিশ্বের অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজি লীগগুলোতে যে যে প্লেয়ার তারা নিলামেই নিশ্চিত করে যে কোন গ্রেডে থাকবে। আমার মনে হয় আমাদেরও সেই সম্মানটা দেয়া উচিত।

৪ ও ৫. সাকিব আল হাসান
আমাদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্লেয়ারদের বেতন ১ লাখ টাকা হওয়া উচিত। আমরা এই দাবিটা অবশ্যই জানাচ্ছি। আমাদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের প্লেয়ারদের বেতন অনেক কম। সেটা ন্যূনতম ৫০ ভাগ বাড়াতে হবে। অনুশীলন সুবিধা বাড়াতে হবে। জিম, ইনডোর, মাঠ সব কিছুর সুবিধা বাড়াতে হবে। ১২ মাস কোচ, ফিজিও, ট্রেনার নিয়োগ দিতে হবে। আমরা চাই এটা আসছে মৌসুমের আগেই নিশ্চিত করতে হবে। আমরা চাই না প্রতিটি অনুশীলনই ঢাকাতে হোক। ঢাকার বাইরে বরিশাল তাদের হোম ভেন্যুতে, খুলনা তাদের হোম ভেন্যুতে অনুশীলন করবে তাইলেই ক্রিকেটের প্রসার বৃদ্ধি পাবে। আমরা প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে যে বল দিয়ে খেলি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেই বল দিয়ে খেলা হয় না। ফলে আমাদের নতুন করে বলের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হয়।

৬. এনামুল হক জুনিয়র
জাতীয় দলের চুক্তিবদ্ধ প্লেয়ারদের সংখ্যা বাড়াতে হবে। বিশ্বব্যাপী যদি আপনারা চিন্তা করেন আমার মনে হয় আমাদের চুক্তিভুক্ত প্লেয়ারদের সংখ্যা কম।  শুধু তাই নয়, আমাদের বেতন বাড়াতে হবে, তিন বছর যাবৎ আমাদের বেতন বাড়ানো হয় না।

৭.  তামিম ইকবাল
আমাদের গ্রাউন্ডস ম্যান, কোচ মাস শেষে অনেক কম টাকা বেতন পায়। বিদেশি প্লেয়াররা যে বেতন পায় সে তুলনায় আমাদের স্থানীয়দের বেতন খুব কম পায়। আমাদের আম্পায়ার, ফিজিও  ও ট্রেনারদের ও একই অবস্থা। অতএব তাদের বেতনও বাড়ানো উচিত।

৮. এনামুল হক বিজয়
ঘরোয়া ক্রিকেটে আমরা দুই ধরনের লঙ্গার ভার্সন খেলি বিসিএল ও এনসিএল। কিন্তু ওয়ানডেতে আমরা একটা মাত্র ভার্সন খেলি। এই সংখ্যাটি আরো বাড়ানো উচিত। টি-টোয়েন্টিতে আমরা বিপিএল নামক মাত্র একটা টি-টোয়েন্টি লীগ খেলি। আমার মনে হয় বিপিএলে আরো ভালো করতে অন্তত আরো একটি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট খেলা উচিত। আগে জাতীয় লীগে আমরা আগে একটি ওয়ানডে খেলতাম। যা এখন আমরা পাই না। সেটা বাড়ানো হোক।

৯.  নূরুল হাসান সোহান
ঘরোয়া ক্রিকেটের জন্য একটি নির্ধারিত ক্যালেন্ডার থাকতে হবে। এটা হলে আগে থেকে আমরা প্রস্তুতি নিতে পারি।

১০. জুনায়েদ সিদ্দিকী
প্রিমিয়ার লীগে যে বকেয়া পাওনা  সেটা যেন ক্লিয়ার করা হয়। প্রতিবছর যে সময়টা দেয়া থাকে তার মধ্যে যেন ক্লিয়ার করা হয়। আমরা এখনো ব্রাদার্সের কাছ থেকে টাকা পাই তা দেয়া হয়নি। বিসিবির কাছেও গেছি কিন্তু তারা কিছুই করেনি।

১১. ফরহাদ রেজা
ফ্রাঞ্চাইজি লীগে একটি নিয়ম করে দেয়া হয়েছে যে দুইজনের বেশি খেলতে পারবো না। সেই জায়গায় আমাদের যদি জাতীয় দলের বাইরে যদি ফ্রি থাকি এবং আমাদের যদি ছেড়ে দেয়া হয় তাহলে আমরা কয়েকটি ম্যাচ বেশি খেলতে পারবো।



আপনার মতামত দিন

খেলা -এর সর্বাধিক পঠিত