খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা

স্টাফ রিপোর্টার

শেষের পাতা ২১ অক্টোবর ২০১৯, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ৩:৪১

কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। গতকাল দুপুরে মতিঝিলে ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের একথা জানান জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব।

ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেন, দেশে গণতন্ত্র থাকলে আমাদের মিটিং জনসভা করার অধিকার আছে। আমরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার অনুমতি এখনও পাইনি। আজও আমরা দাবি জানাচ্ছি দ্রুত অনুমতি দেয়া হোক। কেননা এটা কোনো দয়া মায়ার ব্যাপার না। এটা সংবিধানের ব্যাপারে। সংবিধানে লেখা আছে, সংগঠন করার অধিকার, ঘোরাফেরার অধিকার, সমাবেশ করার অধিকার, সমাবেশে মুক্তভাবে বক্তব্য রাখার অধিকার স্পষ্টভাবে লেখা আছে।
আমরা যে রক্ত দিয়েছিলাম সেই রক্তের বিনিময়ে এ সংবিধান পেয়েছি।

তিনি বলেন, আমরা ২২ অক্টোবর জনসভা করতে চাচ্ছি সেটার যেন দ্রুত অনুমতি দেয়া হয়। কারণ ২১ অক্টোবর রাতে অনুমতি দিলে ২২ অক্টোবর সমাবেশ করা কঠিন। আজকে ২০ অক্টোবর হয়ে গেছে, এটা অনেক দেরি হয়ে গেছে। দ্রুত অনুমতি দেয়া হোক। আমরা জনগণের কথা, ঐক্যমতের কথা তুলে ধরবো। কোনো সংঘাত সংঘর্ষ নয়, কোনো বিরোধের ব্যাপার নয়। ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননকে ধন্যবাদ জানিয়ে ড. কামাল হোসেন বলেন, দেরিতে হলেও উনি বলেছেন। আমিতো বারবার বলে যাচ্ছি যে, কেউ ভোট দিয়েছেন কি-না। আমি এ পর্যন্ত একজনও পাইনি যে ভোট দিয়েছেন। তাই আমি ওনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি যে উনি ওভারকাম করলেন।

আ স ম আবদুর রব বলেন, দেশ অত্যন্ত ভয়াবহ অবস্থার মধ্যে আছে। সরকার শুধু সংবিধান নয় কোনো বিধানই মানছে না। তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া কারাগারে। সারা জাতি আজ উৎকন্ঠিত। যেকোনো সময় একটা দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। খালেদা জিয়ার একটা হাত অবশ হয়ে গেছে। উনি খেতে পারেন না। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাবো আমরা উনাকে দেখতে যেতে চাই। তার অবস্থা কী? তিনি বলেন, আমাদের নেতা (ড. কামাল) বলেছেন আমরা আবেদন করেছি। উনি সংবিধান দেখিয়ে বলেছেন, উনি সংবিধান প্রণেতা। পাকিস্তান, বৃটিশ আমলের আইনও এ সরকারের আমলে বলবৎ আছে। বিশেষ ক্ষমতা আইন বলবৎ আছে। কোনো নাগরিক অধিকার, মৌলিক অধিকার, ফান্ডামেন্টাল রাইট বলতে যেটা বুঝায়, এ সরকার দিচ্ছে না। এখন জনগণের হাতে একটাই আছে, তাদের অধিকার যদি না দেয়া হয়। আমাদের নেতার কথা অনুযায়ী আমরা আদায় করবো। তিনি আরও বলেন, আবরারসহ সারাদেশে আরও যাদের হত্যা করা হয়েছে তার প্রতিবাদে আমরা রক্তের অক্ষরে গণস্বাক্ষর করবো। বিদেশিদের কাছেও আবেদন জানাবো। এক জায়গা থেকে শুরু হবে এবং নির্দিষ্ট কয়েকটা পয়েন্টে থাকবে। আমরা আবেদন জানাবো জাতির কাছে এবং আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন জায়গায় জানাবো। আজকে যারা ক্ষমতায় আছে তারা যে অমানবিক আচরণ করছে সেটা আমরা তুলে ধরতে চাই। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, গণস্বাস্থ্যের ট্রাষ্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপি নেতা জহির উদ্দিন স্বপন, জেএসডির সহ-সভাপতি তানিয়া রব, ঐক্যফ্রন্টের দপ্তর প্রধান জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু প্রমূখ।



আপনার মতামত দিন

শেষের পাতা -এর সর্বাধিক পঠিত



কড়া নিরাপত্তা, এজলাসে সিসি ক্যামেরা

খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি কাল