ফেসবুক-সেলফি লীগের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ আওয়ামী লীগ: তথ্যমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে

দেশ বিদেশ ২০ অক্টোবর ২০১৯, রোববার

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সমপাদক তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, এখন কিছু কিছু ছাত্র ও কিছু কিছু তরুণ-যুবক আছে যারা ছবি একটা তুলবে সেটা ফেসবুকে দিয়ে দেবে। আর এমন সব কথা-বার্তা লিখে তাতে মনে হয় সে ফেসবুক লীগ হয়ে গেছে। এই ফেসবুক লীগ ও সেলফি লীগের যন্ত্রণায় আওয়ামী লীগ অতিষ্ঠ। এদের মধ্যে অনেকেই পরগাছা ও আগাছা। এদের কাছ থেকে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর তাঁতী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। চট্টগ্রাম মহানগরীর জে এম সেন হল প্রাঙ্গণে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। তথ্যমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ পরপর তিনবার রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকার কারণে সংগঠনে অনেক আগাছা-পরগাছা ঢুকে গেছে।
অনেকে নানাভাবে পদ পেয়েছে। এসব আগাছা-পরগাছা সংগঠনের সব পর্যায় থেকে দূর করতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সম্মেলন ২০ ও ২১শে ডিসেম্বর। সম্মেলনকে সামনে রেখে আমরা দলকে পরিষ্কার করার কাজে হাত দিয়েছি। কমিটি গঠনের সময় তাঁতী লীগের নেতাদের অনুরোধ করব, আগাছা-পরগাছা যাতে সংগঠনে পদ না পায়, সেদিকে সচেষ্ট থাকতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের সহযোগী অঙ্গ সংগঠন, ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোকে অনুরোধ করছি, সংগঠনের ভেতর থেকে আগাছা-পরগাছা দূর করতে হবে। যারা একসময় আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করেছে। নেতাকর্মীদের যারা নির্যাতন করেছে তাদের অনেকে পরিচয় গোপন করে সংগঠনে ঢুকে পড়েছে। তাদের চিহ্নিত করে সংগঠন থেকে বের করে দিতে হবে। তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে বিভিন্ন সভা-সমাবেশ করা হচ্ছে। আমি ঐক্যফ্রন্টকে ধন্যবাদ জানাই, তারা মাঠে নেমেছে। গণতন্ত্রের স্বার্থে শক্তিশালী বিরোধীদল প্রয়োজন আছে। সভা-সমাবেশ করতে তারা ইস্যু খুঁজে পাচ্ছে না। তারা কখনো নিরাপদ সড়কের আন্দোলনকে ইস্যু করার চেষ্টা, কখনো আবরার হত্যাকান্ডকে ইস্যু করার চেষ্টা। কিন্তু এসব চেষ্টা হালে পানি পাচ্ছে না। তিনি বলেন, অবশ্যই আপনারা সরকারের সমালোচনা করবেন। সংসদে ও রাজপথে বিরোধীদল বস্তুনিষ্ট সমালোচনা করুক-আমরা সেটা চাই। এই সমালোচনা যাতে কণ্টকাকীর্ণ পথচলাকে শাণিত করে। কিন্তু তারা যে অহেতুক সমালোচনা করে, সেটা দেশের জন্য, মানুষের জন্য শুভ নয়। আমি সবার প্রতি সম্মান রেখে বলতে চাই, রাজনীতির মাঠে ওনারা (ঐক্যফ্রন্ট) বিগত যৌবনা। তাদের ডাকে কেউ আসছে না। তাদের জনপ্রিয়তা হারিয়ে গেছে। তারা যে কথাগুলো বলছেন, সেগুলো মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য হচ্ছে না। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, সাধারণ সমপাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ছিলেন তাঁতী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মো. শওকত আলী। প্রধান বক্তা ছিলেন তাঁতী লীগের সাধারণ সমপাদক খগেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ।




আপনার মতামত দিন

দেশ বিদেশ -এর সর্বাধিক পঠিত