ভুলে আসামি, ১৮ বছর পর খালাস পেলেন নাটোরের বাবলু শেখ

শেষের পাতা

নাটোর প্রতিনিধি | ১৮ অক্টোবর ২০১৯, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ২:১৫
অভিযুক্ত না হয়েও পুলিশ আর আইনজীবীর ভুলে আসামি হয়ে দুই মাস কারাভোগসহ ১৮ বছর পর আদালতের নির্দেশে মামলা থেকে মুক্তি পেলেন বাবলু শেখ। একই সঙ্গে তৎকালীন মামলার তদন্তকারী দুই কর্মকর্তা ও ওসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইজিপিকে নির্দেশ ও বাবলু শেখকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

গতকাল দুপুরে নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ সাইফুর রহমান সিদ্দিক জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন। নাটোর জজ কোর্টের পিপি সিরাজুল ইসলাম আদালতের নথিপত্র ও বাদীর আইনজীবী সূত্রে জানা যায়, ২০০১ সালের ১৫ই এপ্রিল নাটোর সদর উপজেলার গাঙ্গইল গ্রামে একটি মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কাজী আবদুল মালেক বাদী হয়ে শ্রী বাবুসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে নাটোর সদর থানায় ২০০১ সালের ১৮ই এপ্রিল একটি মামলা করেন। মামলার নম্বর ১৪। এদের মধ্যে সিংড়া উপজেলার আচল কোট গ্রামের শ্রীদেব দাসের ছেলে শ্রী বাবুকে ৩ নম্বর আসামি করা হয়।

তৎকালীন নাটোর সদর থানার উপ-পরিদর্শক মমিনুল ইসলাম শ্রী বাবুকে অভিযুক্ত করে ২০০১ সালের ১৫ই মে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। পরবর্তীতে একই বছরের ২৮শে ডিসেম্বর পুনরায় শ্রী বাবুকে অভিযুক্ত করে সদর থানার উপ-পরিদর্শক হেলেনা পারভীন তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।
মামলার এজাহারে উল্লিখিত আসামি বাবুকে গ্রেপ্তার না করে ইয়াকুব আলীর ছেলে বাবলু শেখকে ২০০২ সালের ৭ই নভেম্বর গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায় পুলিশ।

এই ভুলের বিষয়টি আদালতকে অবহিত না করে ছয়দিন পর ১৩ই নভেম্বর আসামির আইনজীবী বাবু পরিচয়েই বাবলু শেখের জামিন করান। পরে ওই পরিচয়েই বাবলু শেখের বিরুদ্ধে আদালত অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ ও আসামি পরীক্ষা করেন। যুক্তিতর্ক শেষে ২০১৬ সালের ২৩শে জুন মুখ্য বিচারিক হাকিম মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী আসামি বাবুর বিরুদ্ধে দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেন। ওইদিন কাঠগড়া থেকে বাবলু শেখকে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়। পরে তিনি ২০১৬ সালের ১৬ই আগস্ট আপিলের মাধ্যমে জামিনে বের হন। এ বিষয়ে নাটোর দায়রা আদালতে আপিল করা হলে নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ সাইফুর রহমান সিদ্দিকের আদালতে মামলাটি বিচারের জন্য পাঠানো হয়। মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ শেষে বিচারক বাবলু শেখকে মামলা থেকে মুক্তির নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার তৎকালীন তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোমিনুল ইসলাম ও এসআই হেলেনা পারভীনের সঠিকভাবে তদন্ত না করার অপরাধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের আইজিপিকে নির্দেশ প্রদাণ করেন। পর্যবেক্ষণে মামলার ফরোয়ার্ডিং কর্মকর্তা তৎকালীন নাটোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসির) বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলা প্রমাণিত হয়। মামলার রায়ে আরো বলা হয় বাবলু শেখের সাজা ভোগের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেননি। এ বিষয়ে সঠিক দায়িত্ব পালনের জন্য অত্র রায়ের কপি বার কাউন্সিলের সভাপতি সেক্রেটারি বরাবর প্রেরণের নির্দেশ দেয়া হয়।

এদিকে এমন রায়ে সন্তুষ্টি ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বাবলু শেখ। এজন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞ তিনি। এমন পরিস্থিতির শিকার হয়ে ভবিষ্যতে যেন নিরপরাধ কাউকে সাজা ভোগ বা আদালতের বারান্দায় ঘুরে আর্থিক ক্ষতি ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন না হতে হয় সে দাবি জানান তিনি।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে নবীন চিকিৎসকদের কাজ করতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

হাইডেলবার্গে আলী রীয়াজের অনুষ্ঠানে বাধা

লিগ্যাল নোটিশ দাতাকে পাল্টা লিগ্যাল নোটিশ

রাজধানীতে বিএনপির বিক্ষোভ, আটক ১২

খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে সরকার রসিকতা করছে: রিজভী

খালেদার জামিন শুনানিকালে এজলাসে হট্টগোল, ঘটনা তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ

ফেসবুক, ইন্টারনেট ও অনলাইন থেকে মিথিলা-ফাহমির ছবি সরানোর নির্দেশ

বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে জাহাঙ্গীর-সাদিক আব্দুল্লাহ

‘নীরব এলাকা’য় হর্ন বাজালে দণ্ড

সিরাজগঞ্জে আ’ লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে আহত ৪০

পুলিশের গুলিতে ২ আনসার সদস্য আহত

দুই কলেজছাত্রীর ফাঁদ

টাকার শেষ গন্তব্য না পাওয়ায় চার্জশিট অনুমোদন দেয়া হয়নি

রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে সোনা জিতলো বাঘিনীরা

রুম্পা হত্যা: সৈকত চার দিনের রিমান্ডে

সেই সেনাদের পক্ষ নিচ্ছেন সুচি