একাদশে ভর্তি

৪৮ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেনি একজনও

শিক্ষাঙ্গন

নূর মোহাম্মদ | ২১ জুন ২০১৬, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ১০:৩৬
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীদের পছন্দের কলেজে ভর্তির মেধা ও অপেক্ষমাণ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে বৃহস্পতিবার। মেধা তালিকায় স্থান পাওয়া ভর্তিচ্ছুকরা আজ থেকে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হতে পারবেন। ফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ৯ লাখ ৬০ হাজার শিক্ষার্থী পছন্দের কলেজে ভর্তি জন্য মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছে। আর অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা ৩ লাখ ২০ হাজার শিক্ষার্থীকে ভর্তির জন্য ২৫শে জুন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। পছন্দের কলেজে আসন খালি হওয়া সাপেক্ষে ভর্তির সুযোগ পাবে তারা। কোন কলেজে সুযোগ মিলছে তা খুঁজতে গিয়ে তাদের কিছুটা দুর্ভোগে পড়তে হতে পারে।
বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১৪ লাখ ৫৫ হাজার ৩৬৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৩ লাখ এক হাজার ৯৯ জন কলেজে ভর্তি হতে আবেদন করে। এই হিসাবে এসএসসি উত্তীর্ণ ১ লাখ ৫৪ হাজার ৩৬৬ জন এবার কলেজে ভর্তির আবেদন করেনি। এবার ৯ হাজার ৮৫টি কলেজ, মাদ্‌রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে। কিন্তু ৪৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য কোনো আবেদন পড়েনি। এর মধ্যে কারিগরি বোর্ডে ৩৬, মাদ্‌রাসা বোর্ডে ১০ এবং ঢাকা ও রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে একটি করে কলেজ রয়েছে। গত বছর সারা দেশে ১৩৯টি প্রতিষ্ঠানের কেউ আবেদন করেনি। অন্যদিকে প্রায় ৩ শতাধিকের বেশি কলেজে ভর্তির জন্য আগ্রহ দেখায়নি শিক্ষার্থীরা। এমন অনেক কলেজ আছে যেখানে তিন থেকে পাঁচজন শিক্ষার্থী তাদের পছন্দের তালিকা রেখেছেন। তাও নিশ্চিত নন তারা আদৌ ভর্তি হবেন কী না। গত বছর প্রথমবারে মতো অনলাইন ভর্তি কার্যক্রম চালু হওয়ার পর এই বিষয়টি সামনে আসে। বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এবার একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিযোগ্য কলেজ, মাদ্‌রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৯ হাজার ৮৫টি। এর মধ্যে ৪৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য কোনো আবেদনই জমা পড়েনি। মাত্র একটি করে আবেদন জমা পড়েছে এমন প্রতিষ্ঠান ৩৬টি। দু’টি করে আবেদন জমা পড়েছে ৩৫টিতে। ২৩টিতে তিনটি, ২১টিতে চারটি এবং ৩৫টিতে মাত্র পাঁচটি করে আবেদন জমা পড়েছে। ১০টির কম আবেদন পড়েছে এমন কলেজ হচ্ছে ২৯৪টি।
এ বিষয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক ড. আসফাকুস সালেহীন বলেন, কলেজ অনুমোদনের শর্ত প্রতিটি কলেজে প্রতি শিক্ষাবর্ষে প্রতিটি বিভাগে কমপক্ষে ২৫ জন শিক্ষার্থী থাকতে হবে। না হলে বোর্ড কর্তৃপক্ষ ওই কলেজের অনুমোদন বা স্বীকৃতি বাতিল করতে পারে। তারপরও আমরা তাদের দুই বছর সময় দেই। গত বছর কোনো শিক্ষার্থী পায়নি এবারও পায়নি এমন কলেজের একাডেমিক স্বীকৃতি বাতিল হতে পারে বলে জানান তিনি।
বোর্ড কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু ৪৮ প্রতিষ্ঠান নয়, ২৫ জনের নিচে আবেদন পড়েছে এমন দুই শতাধিক কলেজ অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়তে পারে। কারণ অনলাইন ভর্তি প্রক্রিয়া চালু হওয়ার পর এসব কলেজে শিক্ষার্থীরা আবেদন করছেন না। এ নিয়ে তারা চরম বেকায়দায় আছেন। কারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অনেক বেশি সচেতন। আগে এসব কলেজ ভর্তির সময় নানা প্রলোভন দেখিয়ে ছাত্র ভর্তি করাতো। অনলাইন ভর্তির কারণে এসব নাম সর্বহ কলেজের নানা প্রলোভন কাজ হচ্ছে না। এ বিষয়ে কলেজ পরিদর্শন বলেন, অনলাইন ভর্তি চালু হওয়ার পর নামসর্বস্ব এসব কলেজ মান রক্ষা করতে না পারলে টিকতে পারবে না। আবার মোটামুটি ভালো কলেজগুলো মান আরও বাড়ানো জন্য তৎপরতা চালাবে। না হলে মার্কেটে টিকতে পারবে না। এটা একটা ভালো দিক।
এদিকে বোর্ড কর্মকর্তরা বলছেন, আবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ভালো কলেজগুলো আসনের বিপরীতে প্রায় ৪৪ গুণ পর্যন্ত আবেদন পড়েছে এমনও দেখা গেছে। তারা বলেন, অনলাইন এবং এসএমএস’র মাধ্যমে ১০টি-মোট ২০টি আবেদনের সুযোগ দিলেও প্রতি শিক্ষার্থী গড়ে মাত্র সাড়ে ৫টি কলেজে আবেদন করেছেন। অনেকই ২-৩টি আবেদন করেছে তাও আবার শীর্ষে থাকা কলেজে। এসব শিক্ষার্থী কোনো কারণে তার পছন্দের কলেজে ভর্তি হতে না পারলে অপেক্ষমাণ সারিতে চলে যাবে। ভর্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান, এবারও সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছে রাজধানীর ১৮টি শীর্ষ কলেজে। একটি উদাহরণ টেনে কর্মকর্তারা বলেন, বিএফ শাহীন কলেজে ৪৪৫টি আসনের বিপরীতে আবেদন পড়েছে ২০ হাজার ১১০টি। অর্থাৎ প্রতি আসনের বিপরীতে আবেদন পড়েছে ৪৫ দশমিক ১৮ শতাংশ। অন্যান্য কলেজগুলোতে প্রায় সমানসংখ্যক আবেদন পড়েছে। অথচ শুধু রাজধানীতে দেড় শতাধিক কলেজে ২-৩ জন করে শিক্ষার্থী পছন্দের তালিকা রেখেছে।   
অনলাইনের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১০টি এবং এসএমএস’র মাধ্যমে আরও ১০টিসহ মোট ২০টি প্রতিষ্ঠানে আবেদনের সুযোগ ছিল এবার। এসএসসি’র ফলাফলের ভিত্তিতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের মেধাক্রম কিংবা অপেক্ষমাণ তালিকায় তার অবস্থান দেখানো হয়েছে। কোনো শিক্ষার্থী কোনো কলেজে ভর্তির পরও পছন্দের কোনো কলেজে আসন ফাঁকা পেলে সেখানে ভর্তির সুযোগ পাবে বলে জানানো হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি কলেজগুলোতে একাদশে ভর্তিতে এবার ২১ লাখ ১৪ হাজার ২৬৫টি আসন রয়েছে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সাত লাখ আসন এবার ফাঁকা থাকবে। সবাই তার পছন্দের কলেজ নাও পেতে পারে। তবে আসনের জন্য কেউ ভর্তি হতে পারবে না এমনটা হবে না।
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

প্রশান্ত কুমার বর্মন

২০১৬-০৯-১৭ ২১:৪৮:৪৪

এই সব প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন বলে অামি মনে করি।

আপনার মতামত দিন