কোম্পানীগঞ্জে চাঁদাবাজ ধরতে ‘আল্টিমেটাম’

এক্সক্লুসিভ

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে | ১১ অক্টোবর ২০১৯, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ৯:৪৮
তিনদিন আগের ঘটনা। ধলাই নদীতে চাঁদাবাজিকালে উত্তর কলাবাড়ি গ্রামের শফিকুল ইসলাম, সজীব উদ্দিন ও নুরুজ্জামানকে আটক করে পুলিশে দিয়েছিল বারকি শ্রমিকরা। পুলিশ আটককৃত তিনজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা নেয়নি। তাদের ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করে। এ ঘটনায় কোম্পানীগঞ্জ পুলিশের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে শ্রমিকরা। বেপরোয়া চাঁদাবাজির ঘটনায় হাজারো শ্রমিক গতকাল দুপুরে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সদরে বিক্ষোভ করেছে। এ সময় তারা এক সপ্তাহের আল্টিমেটাম দিয়ে বলেছে, চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে তারা কঠোর আন্দোলনে নামবে। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদীতে বালু লুটপাট ও ঘাটে ঘাটে চাঁদাবাজি চলছে গত ৪ মাস ধরে।
রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের শেল্টারে প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ টাকা চাঁদা উত্তোলন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন শ্রমিকরা। কখনো শ্রমিকরা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের ধলাই সেতুর নিকটবর্তী টর্চার সেলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। প্রায় মাসখানেক আগে উপজেলা চেয়ারম্যান হাজী শামীম আহমদের ভাতিজা কেফায়েত উল্লাহ সহ এলাকার লোকজন এই চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করতে গেলে সংঘর্ষ হয়। আর এ সংঘর্ষের ঘটনার পর পুলিশ উল্টো কেফায়েতের লোকজনকে আটক করে চাঁদাবাজির মামলা দেয়। এ ঘটনার পর থেকে পুলিশের ওপর স্থানীয়দের ক্ষোভ বেড়েছে। গতকাল স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনও বরাবর দেয়া স্মারকলিপিতে কোম্পানীগঞ্জ থানা পাথর বহনকারী বারকি শ্রমিক সমবায় সমিতির সভাপতি মজনু মিয়া উল্লেখ করেছেন, কলাবাড়ি এলাকার মনির মিয়া, হাবিল মিয়া, দুলাল মিয়া সহ ২০-২২ জনের চাঁদাবাজ চক্র শ্রমিকদের মারধর করে হুমকি দিয়ে প্রতিটি নৌকা থেকে ১ থেকে ৩ হাজার টাকা হারে চাঁদা আদায় করছে। তাদের হামলায় শ্রমিক আখলু মিয়া, কামাল মিয়া, নেজাম উদ্দিন গুরুতর আহত হয়েছেন। চাঁদা না দিলে ধলাই নদীতে শ্রমিকদের মারধর করা হচ্ছে বলে অভিযোগে করেন তিনি। এদিকে, গতকাল দুপুরে উপজেলা সদরে প্রতিবাদ সমাবেশে শ্রমিকরা জানিয়েছেন, কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসির মনোনীত স্থানীয় চাঁদাবাজ চক্ররাও প্রতি নৌকা থেকে চাঁদা আদায় করছে। বিগত সময়ে পুলিশ প্রশাসন শ্রমিকদের কাছ থেকে চাঁদা না নিলেও বর্তমান ওসি তাজুল ইসলাম থানায় যোগদানের কিছু দিনের মধ্যেই চাঁদা নেয়া শুরু করেন। ওসির মনোনীত এএসআই এনামুল, পুলিশের টহল দল ও স্থানীয় চাঁদাবাজরা ওসি তাজুলের নামে চাঁদা উত্তোলন করছেন। তারা জানান, ধলাই নদীতে বালুবাহী নৌকা থেকে ১ থেকে ৩ হাজার, পাথরবাহী নৌকা থেকে ২ থেকে ৪ হাজার টাকা, লিস্টার মেশিন থেকে ২ হাজার ২ শ’ টাকা, শ্যালো মেশিন থেকে ১৫ শ’ টাকা, বারকি নৌকা থেকে ৫ শ’ টাকা ও ইঞ্জিন নৌকা থেকে ১ হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করাচ্ছেন থানা পুলিশের ওসি তাজুল ইসলাম। চাঁদা উত্তোলন বন্ধের দাবিতে শ্রমিকরা টুকেরবাজারে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ করে। ওই সময় থানার ওসি তাজুল ইসলাম বিক্ষোভ না করার আহ্বান জানান। এ ব্যাপারে এএসপি সার্কেল নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, শ্রমিকরা তাদের দাবি-দাওয়া আদায়ে বিক্ষোভ করতে পারে। এটা তাদের অধিকার। এতে ভয়ভীতি দেখানোর কোনো রীতি নেই পুলিশের। পুলিশ তাদের নিরাপত্তা দেবে। যাতে দুষ্কৃতকারীরা কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটায়। তিনি বলেন, পুলিশ এ ঘটনা দেখবে। চাঁদাবাজি হলে অবশ্যই পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। ধলাই নদীতে বালু ও পাথর লুটপাটের ঘটনায় এবার প্রতিবাদী উপজেলা চেয়ারম্যান শামীম আহমদ। তিনি গতকাল মানবজমিনকে জানিয়েছেন, গত চার মাস ধরে এক টানা চাঁদাবাজির মহোৎসব চলছে ধলাই নদীতে। কোনো প্রতিকার মিলছে না। ওসি রহস্যময় ভূমিকা পালন করছেন। এ কারণে পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে উঠছে বলে জানান তিনি। এদিকে, ধলাই নদীতে বালু লুটপাটের ঘটনা অবগত করে গত ২৯শে সেপ্টেম্বর সিলেটের ডিআইজি, পুলিশ সুপার ও র‌্যাবের কাছে আবেদন করেছেন উপজেলা চেয়ারম্যান। এতে তিনি উল্লেখ করেন, ভাটরাই মৌজার একাংশকে বালুমহাল সৃষ্টি করে নামমাত্র ১৬ লাখ টাকায় ইজারা দেয়া হয়েছে। কোম্পানীগঞ্জের আপ্তাব আলী কালা মিয়া ইজারা নিয়ে ইতিমধ্যে প্রায় ৩০-৩৫ কোটি টাকার সম্পদের লুটপাট চালিয়েছে। ইজারা গ্রহীতা অংশ কোম্পানীগঞ্জের কালাইরাগ, কালাসাদেক ও ভাটরাই মৌজার তিনটি বালুমহাল থেকে অবাধে লুটপাট চালাচ্ছে। এই লুটপাটের মাধ্যম হয়েছে প্রায় ২-৩ হাজার কার্গো নৌকা। আবেদনে তিনি দাবি করেন- এই চাঁদাবাজদের নেতৃত্ব দিচ্ছে সিলেট আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের মূল হোতা, কোম্পানীগঞ্জের কুখ্যাত অপরাধী স্থানীয় কলাবাড়ি গ্রামের আব্দুল মনাফের ছেলে বিলাল হোসেন। সে বহু মামলার আসামি। ডাকাতির মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন কারাবাসের পর প্রায় দুই বছর আগে সে জামিনে মুক্তি পায়। আর এ দফা বের হয়ে সে পাথর উত্তোলন ও চাঁদাবাজি শুরু করে। তার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলো কোম্পানীগঞ্জের প্রশাসন। কয়েক মাস আগে তার নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনাকারী ইউএনও, এসিল্যান্ড সহ পুলিশ ও বিজিবি’র উপর স্থানীয় লিলাই বাজারে হামলা করা হয়েছিল। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে পুলিশ এসল্ট মামলা হয়েছে। ডাকাত সর্দার বিলালের নেতৃত্বে হত্যা মামলার আসামি ও তার ভাই আলিম উদ্দিন, শাহাবুদ্দিন এবং কোম্পানীগঞ্জের বিভিন্ন চাঁদাবাজির মামলার আসামি উত্তর কলাবাড়ি গ্রামের মখলিছ মিয়ার ছেলে রাসেল মিয়া, হত্যা মামলা সহ বিভিন্ন মামলার আসামি উত্তর কলাবাড়ি গ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে মনির মিয়া সহ অর্ধশতাধিক লোক নদীপথে ৭-৮টি পয়েন্টে অবাধে চাঁদাবাজি করছে।

 


এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

‘বিজিবি-বিএসএফ গুলিবিনিময়ের ঘটনা ভুল বোঝাবুঝি থেকে’

‘সমাজের কোথাও আমাদের সন্তানরা নিরাপদ নয়’

বিজিবির হাতে আটক ভারতীয় জেলে কারাগারে

মোটরসাইকেল থেকে পড়ে আহত ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট

আসামে জেএমবি ক্যাডার গ্রেপ্তার

শাহ আমনতে সাড়ে ৭ কোটি টাকার সোনা জব্দ, বিমানযাত্রী আটক

সিরিয়ায় ৫ দিন হামলা স্থগিতে রাজি হয়েছে তুরস্ক: পেন্স

যুবলীগ চেয়ারম্যানের গণভবনে যাওয়া নিয়ে যা বললেন কাদের

আশুলিয়া ধর্ষণের শিকার আট বছরের শিশু

কাশ্মীরে জঙ্গি হামলা ও পুলিশের গুলিতে নিহত ৫

সিলেটের মেয়র আরিফুলের বিরুদ্ধে ঢাকায় মামলা

ময়মনসিংহে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ডাকাত নিহত

কক্সবাজারে ‘গোলাগুলি’তে ২ রোহিঙ্গা নিহত

পাঁচবিবিতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৮ মামলার আসামি নিহত

‘বিষয়গুলো আমার মাথাতেই নেই’

সিঙ্গাপুরের ক্যাসিনোতে অন্য এক সম্রাট