সরাইলে ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ সংযোগ

৪ খুঁটির মূল্য দেড় লক্ষাধিক টাকা

শেষের পাতা

সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি | ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ২:৫৬
ফাইল ছবি
বিভিন্ন গাছের ঝোপঝাড়। সামান্য দূরত্বে কাঠ ও ফলের গাছ। বাড়ির উঠানে কাপড় শুকানোর জন্য ঝুলছে ক্যাবল (লোহা ও তামার)। এসবের মাঝখান দিয়েই সরাইল পিডিবি টেনে দিয়েছেন মোটা সার্ভিস সিঙ্গেল (এক তারের) ক্যাবল। ঝুঁকিপূর্ণ হলেও ওই ক্যাবল থেকেই শতাধিক গ্রাহককে দেয়া হয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ। সরাইল উপজেলার চুন্টা ইউনিয়নের ঘাগড়াজোর এলাকায় দেয়া হয়েছে এ সংযোগ। প্রায় আধা কিলোমিটার দূরত্বে তিন তারে লাইন দিতে ৪ খুঁটির জন্য ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা চেয়েছেন বিল বিতরণকারী মো. কিবরিয়া।

তার সঙ্গে রয়েছেন হানিফ নামের আরেক কর্মকর্তা। দরদামে মিলেনি।
তাই ভোগান্তিতে পড়েছে ঘাগড়াজোর গ্রামের শতাধিক গ্রাহক। অস্থায়ী কর্মচারী কিবরিয়া  ২-৩ বছর আগে চুক্তির ভিত্তিতে চুন্টা বাজারে দুই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে মিটার বাইপাস সংযোগ দিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েছিলেন। সরজমিন ঘাগড়াজোর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় আধা কিলোমিটারেরও অধিক জায়গার শতাধিক গ্রাহক গরমে ছটফট করছেন। মাটিতে পড়ে রয়েছে ডিশ লাইনের ক্যাবলের বান্ডিল। ওই এলাকার বিদ্যুতের পুরাতন ৪-৫টি খুঁটি তুলে অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছেন পিডিবির লোকজন। গ্রামের আরেক অংশে বসানো হয়েছে নতুন পুরাতন খুঁটি। গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কাদির (৫০), আজিজুর রহমান (৫৩) ও হাবিবুর রহমান (৭২) জানান, ১০-১২ বছর আগে তারা প্রায় ৩০-৪০ হাজার টাকা খরচ করে ৪-৫টি খুঁটির মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়েছিলেন। হঠাৎ করে ২-৩ মাস আগ থেকে সেখানকার পুরাতন খুঁটিগুলো তুলে নিতে থাকে পিডিবি। লোকজন বাধা দেয়। পিডিবি থামেনি। আস্তে আস্তে সেখানকার ৪টি খুঁটিই পিডিবি উঠিয়ে নিয়ে আসে। একাধারে ৩ দিন বিদ্যুৎহীন অবস্থায় থাকে ওই গ্রামের লোকজন।

মসজিদের মুসল্লি, রোগী ও শিশুরা প্রচণ্ড কষ্ট করে। ফ্রিজের মালামাল নষ্ট হয়ে যায়। গরুর খামারিরা পড়ে বিপাকে। গ্রামবাসী বিষয়টি মিডিয়ার লোকজনকে গত ১৩ই সেপ্টেম্বর সকালে অবহিত করেন। ওইদিন সন্ধ্যায় তরিঘরি করে পিডিবির লোকজন ঝুঁকিপূর্ণ পদ্ধতিতেই ওই এলাকায় বিদ্যুতের সংযোগ দিয়েছেন। এতে যে কোন সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। আব্দুল হান্নান (৩৮) নামের এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, গ্রামের এই অংশে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে ৪ খুঁটির জন্য কিবরিয়া ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা চেয়েছেন। আমরা ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বলেছি। এতে রাজি হয়নি। টাকা একটু বেশি পেয়ে আমাদের বঞ্চিত করে গ্রামের আরেক অংশে খুঁটি বসানোর কাজ করছেন। আমাদের পুরাতন খুঁটিগুলোও সেখানে নিয়ে যাচ্ছেন। আমাদের ৪-৫ দিন অন্ধকারে রেখেছেন। গ্রামের একাধিক ব্যক্তি বলেন, এ কাজের সঙ্গে লাইনম্যান-বি মো. আব্দুস সবুর ও লাইনের কাজের সাহায্যকারী মো. হানিফ মিয়াও জড়িত। সরাইল পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী (বিক্রয় ও বিতরণ) নওয়াজ আহমেদ খান বলেন, এ লাইনের কাজের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেব।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Kazi

২০১৯-০৯-২০ ১৭:৩৭:৫৯

Every thing knows, but smart answers I know nothing about it. He got share. It is necessary to campaign against corruption here.

আপনার মতামত দিন

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত বলেই নৃশংস ঘটনা ঘটছে

যুবলীগের নেতৃত্ব নিয়ে নানা আলোচনা

যুবলীগের দায়িত্ব পেলে ভিসি পদ ছেড়ে দেবো

বিজিবি-বিএসএফ ভুল বোঝাবুঝি আলোচনায় শেষ হবে

আন্ডার ওয়ার্ল্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য সম্রাটের মুখে

শেয়ারবাজার টালমাটাল

ম্যানচেস্টারে বিমানের অফিস নিয়ে প্রশ্ন

পিয়াজের দাম কমবে কবে?

শিশু নির্যাতনকারীর ক্ষমা নেই

জামায়াতকে তালাক দিয়ে রাস্তায় নামুন: বিএনপিকে জাফরুল্লাহ

ঐক্যের ডাক গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে দিতে হবে

বাংলাদেশে পাবজি গেম বন্ধ

ভারতের সব রাজ্যে ডিটেনশন ক্যাম্প তৈরি হচ্ছে

জমি দখল করাই তাদের কাজ

ফেনী নদীর পানিচুক্তি নিয়ে হাইকোর্টে রিট

নতুন ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে পার্লামেন্টে কঠিন লড়াইয়ের মুখে জনসন