৬ মাসে সাড়ে ২৫ হাজার পোশাক শ্রমিক বেকার

এক্সক্লুসিভ

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ৯:১৩
পোশাক শিল্পের ব্যবসা ভালো না হওয়ায় গত সাড়ে ছয় মাসে দেশে ৪৬টি তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। বন্ধ হওয়া এসব কারখানায় কর্মরত ২৫ হাজার ৪৫৩ শ্রমিক ও কর্মকর্তা চাকরি হারিয়েছেন। গার্মেন্ট খাতের এ অবস্থা সার্বিক অর্থনীতিতে চাপ বাড়াবে, যা অর্থনীতির জন্য অশনিসংকেত। পোশাক শিল্পকে বাঁচাতে প্রণোদনা ও সহায়তার কথা বলেছেন তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সভাপতি ড. রুবানা হক। এক বিবৃতিতে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, এটা আমাদের গার্মেন্ট খাতে সাংঘাতিক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কারণ এতোগুলো মানুষের চাকরি গেলে তারা কোনো সেক্টরে চাকরি পাবে না। আমরা যে অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছি তাতে কমপ্লায়েন্স চাপে আমাদের কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে আমাদের পণ্যের দাম কেউ বাড়াচ্ছে না।
আমরা আসলে তেমন সক্ষমতার জায়গায় নেই। তিনি বলেন, এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আমাদের পণ্যের দাম বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে চলতি মাস পর্যন্ত ৪৬টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে এবং ২৫ হাজার ৪৫৩ শ্রমিক ও কর্মকর্তা চাকরি হারিয়েছেন।

রুবানা হক বলেন, প্রথমে আমাদের ইমেজের ওপর কাজ করা উচিত সবাইকে সঙ্গে নিয়ে। আমরা পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছি না। আমরা যে ১ শতাংশ ইনসেনটিভ পাচ্ছি তাতেও জুড়ে দেয়া হয়েছে অনেক শর্ত। আর আমরা যদি এ পরিস্থিতি শিগগিরই কাটিয়ে উঠতে না পারি তাহলে ভবিষ্যতে খুব খারাপ হবে। তিনি বলেন, ভিয়েতনামে পণ্যের ভ্যালুঅ্যাডিশন আছে। কিন্তু আমাদের তা নেই, এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য বায়ারদের চাপ দিয়ে আমাদের দাম বাড়াতে হবে। পাশাপাশি পণ্যের উৎপাদন খরচ কমাতে হবে, যা আমরা করতে পারছি না। বরং গত চার বছরে আমাদে পণ্যের উৎপাদন খরচ বেড়েছে ৩০ শতাংশ।

বিজিএমইএ’র সভাপতি বলেন, তিনি বলেন, সারাক্ষণ আমাদের বলা হচ্ছে আমরা ভালো করছি। আমরা আসলে কোথায় ভালো করছি? এ বছরের আগস্টে ব্যবসা কম হয়েছে। সেপ্টেম্বরেও ব্যবসা কম, এখন যে ব্যবসার অবস্থা তাতে আমি মনে করি না আগামী নভেম্বর বা ডিসেম্বরের আগে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব।

একের পর এক ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এমন মন্তব্য করে রুবানা হক বলেন, সবাই বলছে আমেরিকার জন্য ব্যবসা বাড়বে। ব্যবসা বাড়বে ঠিক আছে। কিছু লোক হয় তো রপ্তানি করবেন বেশি। কিন্তু ক্ষুদ্র ও মাঝারি যে কারখানা আছে, সেগুলো কিন্তু একটার পর একটা বন্ধ হচ্ছে। এটা কিন্তু আমরা সামলাতে পারছি না।
গার্মেন্ট খাতের ব্যাপক সম্ভাবনা আছে এমন মন্তব্য করে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, গার্মেন্টের প্রচুর সম্ভাবনা আছে। আগামী ১০ বছর আমরা খুব ভালো করতে পারি। তবে আমাদের ওই জায়গায় যেতে হবে। কেন ভিয়েতনাম ভালো করছে? আমরা করছি না। ভিয়েতনামের ব্যবসা প্রায় ১২ শতাংশ বেড়ে গেছে। আমাদের কেন বাড়ছে না বা কেন আমরা ভালো করছি না। ব্যবসা ভালো করার জন্য গবেষণার ওপর আমাদের জোর দিতে হবে।

তিনি বলেন, সমস্যার সমাধানের জন্য আমরা বায়ারদের (ক্রেতা) ব্যবসা বাড়াতে বলবো। একই সঙ্গে পণ্যের দাম বাড়াতে বলবো। আমরা এতো কমপ্লায়েন্স করলাম এখন তো তাদের ব্যবসা বাড়াতে হবে। শুধু পণ্যের দাম বাড়ালে হবে না, দাম বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসাও বাড়াতে হবে। আমি চায় না আমাদের আর একটি কারখানাও বন্ধ হোক।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

মেঘনায় পুলিশ-জেলে সংঘর্ষ, আহত ৬

বউকে তালাক দিয়ে শাশুড়িকে বিয়ে, তোলপাড়

রোহিঙ্গা যুবককে গলা কেটে হত্যা

কোটচাঁদপুরে বিএনপি প্রার্থীর ভোট বর্জন

ইয়াবা সেবনের অভিযোগ, মোটরসাইকেল ফেলে পালালেন এএসআই

১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চাওয়া রিটের শুনানি আগামীকাল

বাবরি মসজিদকে কেন্দ্র করে অযোধ্যায় নিরাপত্তা জোরদার

ইরান ও সৌদি আরবকে জোড়া লাগাতে পারবেন ইমরান!

ছাত্রলীগ থেকে অমিত সাহা বহিষ্কার

‘শিবির সন্দেহেই আবরারকে পিটিয়ে হত্যা’

চীনকে বিভক্ত করার চেষ্টা করলে হাড় গুঁড়ো করে দেবো

‘যার জমি আছে, ঘর নেই’ প্রকল্পে নয়ছয়

কাজ না করেই ১৯ লাখ টাকা আত্মসাৎ

সিরিয়া সরকার ও কুর্দিরা এক হয়ে যুদ্ধ করবে তুরস্কের বিরুদ্ধে

যুদ্ধাপরাধ মামলায় গাইবান্ধার ৫ জনের রায় আগামীকাল

৪৩৫৫ কোটি রুপির দুর্নীতি!