আওয়ামী লীগ নেত্রী বলে কথা!

অনলাইন

ফরিদপুর প্রতিনিধি | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, রোববার, ১:১৬
রওশনারা পারভীন। আওয়ামী লীগ নেত্রী। তাই জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন কিংবা আদালতকেও তুচ্ছ মনে করেন। দখল নিচ্ছেন অন্যের জমি। নিজের ইচ্ছামত গড়ে তুলছেন স্থাপনা।

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলা পরিষদ ও উপজেলার থানার সামনেই ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে নির্মাণ করছেন কয়েকটি দোকান। দলিলমূলে ওই জমির মালিক ইউসুফ হাওলাদার। তার অভিযোগ, তিনি এই অবৈধ দখলদারকে উচ্ছেদ করতে থানা ও উপজেলা প্রশাসনের দারস্থ হয়েও কোন প্রতিকার পাচ্ছে না।
 

ইউসুফ জানান, চরভদ্রাসন উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রওশনারা পারভীন গত ৯ই সেপ্টেম্বর থেকে বিরোধীয় ৫ শতাংশ জমির উপর ঘর নির্মাণ করতে দেখে ফরিদপুর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বিবাদমান জমির ওপর ১৪৪ ধারা জারি করেন। জমিটি যে অবস্থায় আছে, সে অবস্থায়-ই থাকার নির্দেশ দেন তিনি। কিন্ত উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দোকান ঘর নির্মাণ কাজ অব্যাহত রেখেছেন। এ ব্যাপারে তিনি উপজেলা প্রশাসন, থানা ও আদালতে গিয়েও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না। বরং তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রওশনারা বলেন, সরকার আমার পিতা মরহুম রতন মোল্যার নামে জমিটির বন্দোবস্ত দিয়েছেন। বর্তমানে জমিটি পতিত রাখা ঠিক হবে না বিধায় দোকান ঘর নির্মাণ করছি।

জানা যায়, এসএ জরিপ ও দিয়ারা জরিপে রেকর্ডীয় মালিক উপজেলার বিএস ডাঙ্গী গ্রামের গোপাল চন্দ্র সরকারের নিকট থেকে ১৯৯৪ সালের ১৬ই জুন চরভদ্রাসন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ৬৯২ নং খোষকবলা দলিলমূলে ৫ শতাংশ জমি ক্রয় করেন প্রতিপক্ষ ইউসূফ হাওলাদার। এসএ ১৬৪ নং মৌজা যা দিয়ারা ১১ নং চরভদ্রাসন মৌজার ৭৯১ নং খতিয়ানের ১০১৪৯ নং দাগ হতে ৫ শতাংশ জমি ক্রয় করে প্রতিপক্ষ ইউসূফ হাওলাদার একটি টিনের ছাপড়া উঠিয়ে মোটর পার্টসের ব্যবসা ও বাকি উন্মুক্ত জমির ওপর ইট বালুর ব্যবসা করে আসছিলেন। সম্প্রতি ওই উন্মুক্ত জায়গাটুকু জবর দখল করে উপজেলা মহিলা নেত্রী দোকানঘর নির্মাণ করে চলেছেন বলে অভিযোগ জমির ইউসুফের।

কোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দোকান নির্মাণের ব্যাপারে চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশিদ বলেন, আদালতের নির্দেশ পেয়ে আমরা উভয়পক্ষকে বিবাদমান জমিতে স্থিতিবস্থা বজায় রাখার নোটিশ জারি করেছি। কিন্ত কেউ ঘর তুললে বাধা দেয়া পুলিশের কাজ নয়। শান্তি শৃঙ্খলা বিঘœ ঘটলে সেটি দেখার দায়িত্ব পুলিশের।
   
উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেসমিন সুলতানা বলেন, আমি আদালতের নোটিশ পাই নি। আমি স্টেশনে না থাকায় বিষয়টি দেখতে ও বুঝতে পারছি না। তবে শুনেছি রওশনারা ঘর তুলছেন। খবর শুনে আমি আপাতত: কাজ বন্ধ রাখতে বলেছি।

এ ব্যাপারে ফরিদপুর জেলা প্রশাসক অতুল সরকার কিছু জানেন না বলে মন্তব্য করেন। তবে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান তিনি।

এদিকে ওই মহিলা নেত্রী ২৫-৩০ জন লেবার ও মিস্ত্রি লাগিয়ে দ্রুত গতিতে দোকান ঘর নির্মাণ কাজ অব্যাহত রেখেছেন। বিরোধীয় জমিতে কয়েকটি ভারি সরকারি গাছ কেটে ফেলে দিয়ে জায়গা খালি করে ঘর নির্মাণ করছেন তিনি।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে কাজ করার আগ্রহ ইইউ’র

কাউন্সিলর সাঈদকে অপসারণ

সতর্ক করেছে সংসদীয় কমিটি

গ্রামীণফোনের ১২ হাজার কোটি টাকা আদায়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা

ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে মোবাইল টাওয়ার অপসারণের নির্দেশ

মুসা বিন শমসেরের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

রূপপুর বালিশ দুর্নীতি অনুসন্ধানে দুদক

সুপরিচিত কুর্দি সাংবাদিককে পরিবারসহ হত্যা

নতুন ব্রেক্সিট চুক্তিতে সম্মত বৃটেন-ইইউ: জনসন

এরদোগানকে লেখা ট্রাম্পের চিঠি নিয়ে রাশিয়ার সমালোচনা

সম্রাটের জিজ্ঞাসা- শুধু তাকে কেনো?

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জার্সি উপহার ফিফা সভাপতির

শেখ হাসিনাকে ইডেন টেস্ট দেখার আমন্ত্রণ গাঙ্গুলির

সরকারের পদত্যাগ চান ডাকসুর সাবেক নেতারা

টি টেনে বাংলা টাইগার্সের দল ঘোষণা

সিরিয়া ইস্যুতে সমালোচিত ট্রাম্প, প্রতিনিধি পরিষদে নিন্দা