মুম্বইতেও ‘অবৈধ বাংলাদেশীদের’ জন্য নির্মাণ হবে বন্দিশিবির!

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ৫:৫১
আসামের পর এবার অবৈধ অভিবাসীদের জন্য মুম্বইয়ে বন্দিশিবির নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এ জন্য মহারাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জমি খুঁজছে। অবৈধ অভিবাসীদের আটক রাখার জন্য এমন বন্দিশিবির নির্মাণের জন্য জমি চেয়ে নাভি মুম্বই পরিকল্পনা বিষয়ক কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি লিখেছে মহারাষ্ট্র স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আসামে ৩১ শে আগস্ট প্রকাশিত চূড়ান্ত এনআরসি থেকে বাদ দেয়া হয়েছেন ১৯ লাখ ৬ হাজার ৬৫৭ জনকে। এদেরকে বিদেশী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। মূলত এদেরকে বাংলাদেশী হিসেবে অভিহিত করছে স্থানীয়রা ও কর্তৃপক্ষ। সেখানে অবৈধদের বন্দি রাখার জন্য গোয়ালপাড়ায় নির্মাণ করা হচ্ছে বন্দিশিবির। এনআরসি তালিকা প্রকাশের ১৫ দিনেরও কম সময়ের মধ্যে মহারাষ্ট্র স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বন্দিশিবির নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। এখানে উল্লেখ্য, ভারতের সরকারের ঊর্ধ্বতন মহল মুম্বই, নয়া দিল্লিতেও এনআরসি করার ঘোষণা দিয়েছে। বলা হয়েছে, সেখানে অবৈধভাবে বসবাসকারীদের বেশির ভাগই বাংলাদেশী। অবৈধ অভিবাসীদের আটকে রাখার জন্য তাদের প্রয়োজন বন্দিশিবির। সেই বন্দিশিবির নির্মাণের জন্যই কর্তৃপক্ষ জমি চেয়ে চিঠি লিখেছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।

মহারাষ্ট্রের সিটি অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে রিপোর্টে বলা হয়েছে, নেরুলে দুই থেকে তিন একর জমি চেয়ে আবেদন  করা হয়েছে। নেরুল হলো নাভি মুম্বইয়ের আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকার সঙ্গে যুক্ত। মুম্বই থেকে এর দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার। এমন চিঠি পাঠানোর বিষয় অস্বীকার করেছে মন্ত্রণালয়। তবে এ বছরের শুরুর দিকে কেন্দ্রীয় সরকারের ইস্যু করা এক নির্দেশাবলী অনুসারে দেশের সব বড় বড় ইমিগ্রেশন পয়েন্টে বন্দিশিবির নির্মাণ করতে হবে।

শিবসেনার দাবি, মুম্বইয়ে বহু বাংলাদেশী অবৈধ অভিবাসী বসবাস করছেন এবং তারা সেখানে কাজ করছেন। কয়েক মাসের মধ্যেই এ রাজ্যে বিধানসভার নির্বাচন। সেই প্রস্তুতি যখন চলছে তখন মহারাষ্ট্রে এমন বন্দিশিবির নির্মাণের খবর প্রকাশ হয়েছে। গত সপ্তাহে বার্তা সংস্থা এএনআই’কে শিবসেনা নেতা অরবিন্দ সাওয়ান্ত বলেছেন, আসামে প্রকৃত নাগরিকদের সনাক্ত করতে এনআরসি প্রয়োজন ছিল। এ জন্যই আমরা এনআরসির মতো উদ্যোগকে সমর্থন করি। একই রকম কাজ মুম্বইতেও হতে হবে এখানে বসবাসকারী বাংলাদেশীদের তাড়িয়ে দিতে।

এ বছরের শুরুর দিকে লোকসভা নির্বাচনের প্রচারণাকালে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বাংলাদেশী অভিবাসীদের ‘উইপোকা’ বলে আখ্যায়িত করেন। এপ্রিল-মে মাসে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন এবং ২০১৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনে উভয় ক্ষেত্রেই বিজেপির নির্বাচনী মেনিফেস্টোতে বড় প্রতিশ্রুতি ছিল নাগরিকত্ব যাচাই বাছাই করা। জুলাই মাসে অমিত শাহ রাজ্যসভায় বলেন, অবৈধ অভিবাসীদের সনাক্ত করতে দেশের প্রতিটি ইঞ্চি জায়গা তল্লাশি করবে সরকার। রোববার তিনি আসামে নর্থ ইস্ট কাউন্সিলের এক বৈঠকে এই প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। বলেন, একজনও অবৈধ অভিবাসীকে এখানে অবস্থান করতে দেয়া হবে না।
 
বিহারেও এনআরসি করার কথা ঘোষণা করেছেন বিহার মন্ত্রীসভার বিজেপির মন্ত্রীরা। সেখানে জনতা দলকে সঙ্গে নিয়ে ক্ষমতায় বিজেপি। মে মাসে ৫০ লাখ রুপি খরচে একটি বন্দিশিবির নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেছেন গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত। অন্যদিকে আসামে বর্তমানে যেসব বন্দিশিবির আছে সেখানে আভ্যন্তরীণ বন্দিদের রাখা হয়েছে। আবার ৪৫ কোটি রুপি খরচে গোয়ালপাড়ায় একটি বন্দিশিবির নির্মাণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া আরো ১০টি বন্দিশিবির নির্মাণের কথা রয়েছে। এতে মোট খরচ ধরা হয়েছে ১০০০ কোটি রুপি। এ নিয়ে এরই মধ্যে মানবজমিন পত্রিকায় বিস্তারিত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Jalal

২০১৯-০৯-০৯ ১২:৩৪:১৬

‘অবৈধ বাংলাদেশীদের’ na likhe likhun, kothito ‘অবৈধ বাংলাদেশী baa bangla vasider.

আপনার মতামত দিন

কোটি টাকা চাঁদা দাবির অডিও ফাঁস

টিআইবির নির্বাহী পরিচালকের মন্তব্য অনভিপ্রেত: বেক্সিমকো

ডিপ্লোম্যাটের প্রচ্ছদে শেখ হাসিনা

জনগণের সঙ্গে পুলিশের নিবিড় সম্পর্ক থাকতে হবে

‘ছাত্রলীগ নেতাদের বহিষ্কারেই বোঝা যায় দেশে কতটা দুর্নীতি চলছে’

বিকেন্দ্রীকরণে বাধা দিচ্ছেন এমপিরা

বাংলাদেশে ৫টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলবে আরব আমিরাত

সিলেট সফরে যে বিতর্কের জন্ম দেন শোভন

পিয়াজের কেজি একলাফে বেড়ে ৭০ টাকা

প্রয়োজনে থানায় বসে ওসিগিরি করব

আসুন, ভাঙনের খেলাটা শুরু করি!

চাঁদাবাজির তথ্য পেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা

ভিকারুননিসায় নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগ

সিলেট বিভাগের পৌর মেয়রদের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতবিনিময়

রাব্বানীর ডাকসু জিএস পদে থাকা নিয়ে প্রশ্ন

শোভন-রাব্বানীকে নিয়ে যা ছিল গোয়েন্দা রিপোর্টে