২,৩৭,০০০ টাকা জরিমানা, ২ জনকে দণ্ড

এডিসের বিরুদ্ধে বাড়ি বাড়ি অভিযান

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ২৬ আগস্ট ২০১৯, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:১৫
ডেঙ্গুর উৎস এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বাড়ি বাড়ি পরিদর্শন ও অভিযানে গতকাল ২ লাখ ৩৭ হাজার টাকা জরিমানা ও দুই ব্যক্তিকে একদিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে ডিএসসিসিতে ৩৭ হাজার টাকা ও দুই ব্যক্তিকে কারাদণ্ড এবং ডিএনসিসিতে একটি কন্সট্রাকশন প্রতিষ্ঠানকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া রোববার থেকে ডিএনসিসির ৩৬টি ওয়ার্ডে একযোগে এ অভিযান শুরু হয়েছে। প্রথমে ১৯নং ওয়ার্ডে এ অভিযান শুরু হলেও এখন প্রতিটি ওয়ার্ডে ১০টি ব্লকে ভাগ হয়ে অভিযান চলবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৫টি ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ১৯৮ টি বাড়ি পরিদর্শন করা হয়। এসময় এডিসের লার্ভা পওয়ায় ২ জনকে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান, ৫ জন বাড়ি মালিককে সতর্ক করা হয়। এছাড়া ৬ টি বাড়ি থেকে ৩৭ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

মিরপুর রোডের সাইন্স ল্যাবরেটরীর ২টি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় ২ জনকে ১ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। ৪৩ নম্বর বাড়ির মালিক মো. সাজু এবং ৪৪ এর মালিক মো. নজরুল ইসলামকে কারাদণ্ড প্রদান করেন ডিএসসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও অঞ্চল-১ এর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান। এছাড়া তিনি ৪৩টি বাড়ি পরিদর্শন করেছেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ জাহিদ হাসান  শান্তিনগরের চামেলীবাগ টুইন কনকর্ড টাওয়ারে এডিস মশার লার্ভা ও জমে থাকা পানির কারণে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। অঞ্চল-৩ এর নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বাবর আলি বিভিন্ন এলাকার ৩০টি বাড়ি পরিদর্শন করেছেন। তাতে এডিস মশার লার্ভা পাননি।  অঞ্চল-৪ এর নির্বাহী কর্মকর্তা উদয়ন দেওয়ান ৩৪, ৩৫ ও ৩৬নম্বর ওয়ার্ডের ৬০টি বাড়ি পরিদর্শন করেছেন। এর মধ্যে ৫টি বাড়ির মালিককে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ পাওয়ায় সতর্ক করে দিয়েছেন।

অঞ্চল-৫ এর নির্বাহী পরিচালক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোনিয়া আক্তার এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শহীদুল্লাহ যাত্রাবাড়ি এলাকার ৩৯, ৪০ ও  ৫০ নং ওয়ার্ডের ৬৫টি বাড়ি পরিদর্শন করেছেন। এরমধ্যে ৫টি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় ৫ জন বাড়ির মালিককে ৭ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছেন। ডিএসসিসি এ পর্যন্ত মোট ৭২ হাজার ২৪৩টি বাড়ি সরেজমিন পরিদর্শন, ৪ জনকে কারাদণ্ড প্রদান. ১৬ জন বাড়ির মালিককে সতর্ক এবং  ৩১ লাখ ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে।

ডিএনসিসির ৩৬টি ওয়ার্ডে ‘চিরুনি অভিযান’ ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা:
এডিস মশা নির্মূলে গতকাল সকাল থেকে ডিএনসিসির ৩৬টি ওয়ার্ডে একযোগে ‘এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসকরণ এবং বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান’ শুরু হয়েছে। ইতোপূর্বে ২০শে আগস্ট ১৯ নং ওয়ার্ড থেকে এ ‘চিরুনি অভিযান’ উদ্বোধন করেন অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। ২০থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ২২ আগস্ট পর্যন্ত ১৯ নং ওয়ার্ডের ৩টি ব্লকে ‘চিরুনি অভিযান’ চালানো হয়। রোববার থেকে ৩৬টি ওয়ার্ডে একযোগে ১০ দিনব্যাপী এ অভিযান শুরু হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডকে ১০টি ব্লকে এবং প্রতিটি ব্লককে আবার ১০টি সাব ব্লকে ভাগ করা হয়। ডিএনসিসির পরিচ্ছন্নতা এবং মশককর্মীগণ প্রতিদিন একটি করে ব্লকে ‘চিরুনি অভিযান’ সম্পন্ন করবেন। এভাবে ১০দিনে ৩৬টি ওয়ার্ডে এ অভিযান সম্পন্ন করা হবে। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলরগণ চিরুনি অভিযানের সার্বিক তত্বাবধান করছেন। পরবর্তীতে সমপ্রসারিত ১৮টি ওয়ার্ডেও এ অভিযান চালানো হবে বলে জানানো হয়।

গতকাল অভিযানের প্রথম দিনে ৩৬টি ওয়ার্ডে মোট ৯ হাজার ৭৩৬টি বাড়ি ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হয়। এরমধ্যে ২৫৮টি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। লার্ভা পাওয়া বাড়িগুলোর সামনে ‘এ বাড়ি/প্রতিষ্ঠানে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গিয়াছে’ লেখা স্টিকার লাগানো হয়। এ ছাড়া ৩ হাজার ১২৩টি বাড়ি ও স্থাপনা থেকে এডিস মশা বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ ধ্বংস করা হয়। এসময় ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাজিদ আনোয়ারের নেতৃত্বে গুলশানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় ৪৪ নং গুলশান এভিনিউর জি এস কন্সট্রাকশন কোম্পানিকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

এর আগে এডিস মশা নির্মূলে চলমান ‘চিরুনি অভিযানে’ অসহযোগিতা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়র কথা বলেন ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম। গতকাল দুপুরে গুলশান ২ নম্বর ডিএনসিসি মার্কেট প্রাঙ্গণে ‘সমপ্রীতি বাংলাদেশ’ আয়োজিত ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা কার্যক্রমের উদ্বোধন’ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, এডিস মশা নির্মূলে ডিএনসিসির ৩৬টি ওয়ার্ডে চলমান ‘চিরুনি অভিযানে’ কোনো বাড়ি/প্রতিষ্ঠানের কেয়ারটেকার/নিরাপত্তা প্রহরী/মালিক অসহযোগিতা করলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ডিএনসিসির পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের অনেক বাড়ি ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না, অনেকে সময়ক্ষেপণ করেন। এর ফলে অনেক ক্ষেত্রে অভিযান পরিচালনায় ব্যাঘাত ঘটছে। মেয়র বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ইতোমধ্যে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ এগিয়ে এসেছেন, তবে আরো এগিয়ে আসতে হবে।

মেয়র বলেন, এ বছরের ৩৬৫ দিনই এডিস মশা নিধনে কাজ করতে হবে। আমরা শিগগিরই ইন্টিগ্রেটেড ভেক্টর ম্যানেজমেন্ট (আইভিএম) এর পরিকল্পনা প্রকাশ করবো। মশক নিধনের যন্ত্রপাতি আধুনিকীকরণ, মশক নিধনকর্মীদের প্রশিক্ষণ প্রদান, কীটনাশক প্রয়োগের পরে মশা, অন্যান্য কীটপতঙ্গ এবং সর্বোপরি পরিবেশের উপর প্রভাব ইত্যাদি গবেষণা এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ এ পরিকল্পনার মধ্যে অন্তর্ভূক্ত থাকবে। এসময় স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আফসার উদ্দিন খান ও ‘সমপ্রীতি বাংলাদেশ’ এর সভাপতি পীযুষ বন্দোপাধ্যায় উপস্থিত ছিলেন।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

এনআরসি’র নামে আসামে যা হচ্ছে তা বিপজ্জনক

ছয় মাসে মালয়েশিয়ায় ৩৯৩ বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু

এবার প্রক্টর-ছাত্রলীগ নেতার ফোনালাপ ফাঁস

সিনেট থেকে শোভনের পদত্যাগ, কী করবেন গোলাম রাব্বানী

দৃশ্যত কাশ্মীর নিয়ে মন্তব্য করায় আমাকে ভিসা দেয়া হয়নি

বিদেশ মিশনে নিয়োগ চেয়ে পুলিশের প্রস্তাব

খালেদা জিয়াকে হত্যার উদ্দেশ্যে আটকে রাখা হয়েছে: মির্জা ফখরুল

আগুনে কি ইরানই ঘি ঢালছে?

আজ থেকে খোলাবাজারে পিয়াজ বিক্রি

জাপাকে ছেড়ে দিয়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাহার

মেট্রোরেলের নিরাপত্তায় পুলিশ ইউনিট গঠনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ডেঙ্গুতে দুই শতাধিক মৃত্যুর তথ্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে

নতুন ভিডিও ভাইরাল

সম্পাদক পরিষদের সভাপতি মাহফুজ আনাম, সম্পাদক নঈম নিজাম

নবজাতক সারাকে ফেলে লাপাত্তা মা-বাবা

সিলেটের নিপার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ প্রবাসী নাজমুলের