কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের ষষ্ঠ কাউন্সিল

ফরম নেননি চট্টগ্রামের কেউ!

এক্সক্লুসিভ

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে | ২৩ আগস্ট ২০১৯, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:১৫
কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের ষষ্ঠ কাউন্সিলে সভাপতি ও সাধারণ সমপাদক পদে ১১০টি ফরম বিক্রি এবং ৭৬টি ফরম জমা হলেও চট্টগ্রাম থেকে কেউ সংগ্রহ ও জমা দেননি। এই দুই পদের নেতা নির্বাচনের জন্য আগামী ১৪ই সেপ্টেম্বর ভোটগ্রহণ হবে। এতে সারা দেশের ছাত্রদলের ১১৬টি সাংগঠনিক ইউনিটের ৫৮০ জন কাউন্সিলর ভোট দেবেন বলে জানিয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক দপ্তর সমপাদক আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী। তিনি জানান, ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্বে স্থান পেতে গত ১৭ ও ১৮ই আগস্ট দুইদিন ফরম বিক্রির নির্ধারিত দিনক্ষণ ছিল। ওই দুইদিনে সভাপতি পদে ৪২ ও সাধারণ সমপাদক পদে ৬৮ জন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে সভাপতি পদে ২৭ জন ও সাধারণ সমপাদক পদে ৪৯ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। গত ২০শে আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষদিনে দুই পদে মোট ৭৬টি ফরম জমা পড়েছে। তবে এতে চট্টগ্রামের কেউ মনোনয়ন ফরম জমা দেননি বলে জানান, আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি’র সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আমার জানা মতে চট্টগ্রাম থেকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নতুন কমিটির জন্য কেউ ফরম সংগ্রহ ও জমা দেননি। কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা থেকে শুধুমাত্র মো. আসাদুল আলম টিপু নামে এক ছাত্রদল নেতা সভাপতি পদে ফরম সংগ্রহ ও জমা দিয়েছেন। তিনি সদ্য বিলুপ্ত কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সমপাদক ছিলেন।

মহানগর বিএনপি’র যুগ্ম সমপাদক ও নগর ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব ইয়াছিন চৌধুরী লিটন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নগর ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়া এবং নিয়মিত কমিটির ধারাবাহিকতা না থাকায় চট্টগ্রাম থেকে নতুন নেতৃত্ব ওঠে আসছে না। নেতৃত্বের মধ্যে এক ধরনের বন্ধ্যত্ব দেখা দিয়েছে। এ কারণে কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সমপাদক পদে চট্টগ্রাম থেকে ফরম নেয়ার জন্য কেউ আগ্রহ দেখায়নি।

তিনি জানান, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সর্বশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল ২০১৩ সালের ২১শে জুলাই। ১১ সদস্যের নগর ছাত্রদল কমিটিতে গাজী মুহাম্মদ সিরাজ উল্লাহ সভাপতি ও বেলায়েত হোসেন বুলু সাধারণ সমপাদক হন। দীর্ঘ ৬ বছরেও এ কমিটি আর পূর্ণাঙ্গ করা যায়নি।

এর মধ্যে গাজী মুহাম্মদ সিরাজ উল্লাহ নগর বিএনপি’র যুগ্ম সমপাদক এবং বেলায়েত হোসেন বুলু নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সমপাদক হন। বর্তমানে তাদের দিয়েই নগর ছাত্রদলের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ কারণে নতুন করে নেতৃত্ব ওঠে আসছে না বলে অভিযোগ করেছেন মহানগর ছাত্রদলের একাধিক নেতা।
নেতারা জানান, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলে চট্টগ্রাম থেকে অতীতে কেউই সভাপতি কিংবা সাধারণ সমপাদক হতে পারেননি। সর্বোচ্চ সহ-সভাপতি পর্যন্ত হয়েছেন। ছাত্রদলের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সহ-সভাপতি ছিলেন সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস মুন্না এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ-সভাপতি হন মিরসরাইয়ের সরোয়ার উদ্দিন সেলিম।

এ ছাড়া নগর ছাত্রদলের সাধারণ সমপাদক বেলায়েত হোসেন বুলু ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল সভাপতি আমিনুল ইসলাম তৌহিদ সহ-সাংগঠনিক সমপাদক ছিলেন।

অতীতে চট্টগ্রাম থেকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ- সভাপতি হন ইফতেখার মহসিন চৌধুরী, নাজিমুর রহমান, মোহাম্মদ আলী, আহমেদুল আলম রাসেল প্রমুখ ছাত্রদল নেতা। এর মধ্যে মোহাম্মদ আলী ইন্তেকাল করেন। অন্যরা বিএনপির সঙ্গে সমপৃক্ত হয়েছেন।

দলীয় সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের কাউন্সিলে এবার সর্বমোট ৭৬টি ফরম জমা পড়েছে। বিক্রি হয়েছিল ১১০টি। ২১শে আগস্ট থেকে ২৬শে আগস্ট পর্যন্ত পাঁচদিন জমা করা মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করবেন ফজলুল হক মিলনের নেতৃত্বে বাছাই কমিটি। ৩১শে আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহার। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশিত হবে ২রা সেপ্টেম্বর। প্রার্থীদের প্রচারণা ৩রা সেপ্টেম্বর থেকে ১২ই সেপ্টেম্বর মধ্য রাত পর্যন্ত।
সূত্র আরো জানায়, ছাত্রদলের সর্বশেষ কমিটি গঠন হয়েছিল ২০১৪ সালের ১৪ই অক্টোবর। ওই কমিটিতে সভাপতি হিসেবে রাজীব আহসান ও সাধারণ সমপাদক হিসেবে আকরামুল হাসানকে নির্বাচিত করা হয়।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির কড়া সমালোচনা জাতিসংঘে

গোপালগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তাসহ নিহত ৪

বিধবাকে গণধর্ষণ, এএসআই প্রত্যাহার

মাফিয়া ডন শামীম গ্রেপ্তার

বদলে গেল ক্লাবপাড়ার দৃশ্যপট, তবে

তদন্তের জালে ছাত্রলীগের শতাধিক নেতা

কলাবাগান ক্রীড়াচক্রে র‌্যাবের অভিযান সভাপতি গ্রেপ্তার

পিয়াজের দাম কমছেই না

ছাত্র রাজনীতির ইতিবাচক পরিবর্তন দেখছি না

দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ১০ জনের

‘খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের আরো অবনতি’

৪ খুঁটির মূল্য দেড় লক্ষাধিক টাকা

নজরদারিতে আওয়ামী লীগের অনেক নেতা

যুবলীগ কইরা মাতব্বরি করবেন ওই দিন শেষ

ভুটানের জালে তিন গোল বাংলাদেশের

সিলেট চেম্বার নির্বাচন নিয়ে মর্যাদার লড়াই