বিদায়ের আগে নিজের দুই ব্যর্থতার কথা জানালেন ডিএমপি কমিশনার

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার | ৯ আগস্ট ২০১৯, শুক্রবার
জঙ্গি দমন ও সন্ত্রাসবাদ নিয়ন্ত্রণে আনতে পারাই ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়ার বড় সফলতা বলে দাবি করেছেন তিনি। সেইসঙ্গে থানার সেবার মান ও যানজট মুক্ত নগরী গড়তে নিজের অসফলতার কথা প্রকাশ করেছেন। দীর্ঘ চার বছর সাত মাস ডিএমপি’র কমিশনার পদে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এ পদে গতকাল ছিল তার শেষ কর্মদিবস। এদিনে ডিএমপি’র মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিজের ব্যর্থতা সম্পর্কে তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যশা ও প্রাপ্তি অনেকাংশে পূরণ করেছি। কিন্তু শতভাগ পূরণ হয়নি। থানার সেবার মান আরো বৃদ্ধি করতে হবে। আরেকটি হলো যানজট। যানজটমুক্ত ঢাকা শহর বিনির্মাণে আমরা শতভাগ সফল হইনি। ঢাকায় সিগন্যাল ব্যবস্থা একটি সংস্থা দেখভাল করে। পানি জমলে আরেকজনের সাহায্য নিতে হয়। এসবের কারণে যানজট নিরসন পুরোপুরি সম্ভব হয়নি।
কমিশনার হিসেবে দুটি চ্যালেঞ্জ ছিল জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, প্রথম চ্যালেঞ্জ ছিল, ডিএমপি’র ৩৪ হাজার সদস্যের মনোভাব পরিবর্তন করা। আমরা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী, জনগণ আমাদের মুনীব, তাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার ও সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার মনোভাব প্রতিষ্ঠা করা। আমাদের দেশের অধিকাংশ লোক আইন মানতে চায় না। আইন না মানার যে সংস্কৃতি রয়েছে তা থেকে জনগণকে বের করে আইন মানার সংস্কৃতিতে উদ্বুদ্ধ করা ছিল আমার আরও একটি চ্যালেঞ্জ।
নিজের সফলতা সম্পর্কে তিনি বলেন, জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে রোল মডেল হিসেবে পরিচিত। এছাড়া, নগরীকে অপরাধমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে ভাড়াটিয়া ও বাড়িওয়ালাদের তথ্য সংগ্রহ কর্মসূচির বাস্তবায়ন আমার আরও একটি সফলতা।
ডিএমপি কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে জানিয়ে মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ২০১৫ সালে কমিশনারের দায়িত্ব গ্রহণের পর টানা ৯২দিন আগুন সন্ত্রাস হয়েছিল। আমরা সাংবাদিক ও নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সেই আগুন সন্ত্রাসকে দমন করেছি। ২০১৬ সালের ১লা জুলাই হলি আর্টিজান হামলায় দেশি-বিদেশি ২২ নাগরিক নিহত হন। স্বল্প সময়ের মধ্যে আমরা হলি আর্টিসানে গিয়ে হাজির হই। আমার পাশেই সন্ত্রাসীদের ছোঁড়া একটি গ্রেনেড বিস্ফোরিত হয়েছিল। ভাগ্যক্রমে সেদিন বেঁচে গেলেও পুলিশের দুই কর্মকর্তা প্রাণ হারান।
এই সন্ত্রাসী হামলার পরিপ্রেক্ষিতে দেশজুড়ে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে নাগরিক ঐক্য তৈরি হয় জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, হলি আর্টিসান হামলার পর আমরা ছোট বড় ৬০টি প্রিভেনটিভ জঙ্গি বিরোধী অভিযান চালিয়েছি। তাতে অনেক জঙ্গি নিহত হয়েছে। অনেককে আমরা গ্রেপ্তার করেছি। ছয় মাসের মধ্যে আমরা এই জঙ্গিদের নেটওয়ার্ক বিধ্বস্ত করেছি। বিদেশী বিনিয়োগকারী ও ক্রেতাদের আস্থা আমরা স্বল্প সময়ে অর্জন করতে পেরেছি। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান সবসময় জিরো টলারেন্স। তিনি আরো বলেন, বিভিন্ন আন্দোলনকে কুচক্রীমহল ভিন্নখাতে নেয়ার চেষ্টা করেছিল। আমরা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও ধৈর্য দিয়ে তা মোকাবিলা করেছি। আমরা বিশ্বাস করি পুলিশের একার পক্ষে কোন কাজ করা সম্ভব না। তাই জনসম্পৃক্ততা ও জনগণকে পুলিশিংয়ে সম্পৃক্ত করতে ডিএমপি’র ৫০টি থানাকে ৩০২টি বিটে ভাগ করে জনমত গড়ার কাজ করেছি। অপরাধীরা যাতে পরিচয় গোপন রেখে ঢাকা শহরে বসবাস না করতে পারে সেজন্য আমরা ভাড়াটিয়া ও বাড়িওয়ালাদের তথ্য সংগ্রহ করেছি। বর্তমানে প্রায় ৭২ লাখ নাগরিকের তথ্য আমাদের সংরক্ষিত আছে বলে জানান তিনি। বিভিন্ন সফল উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে কমিশনার বলেন, আমরা থানার সেবার মান বৃদ্ধিতে নানা উদ্যোগ নিয়েছি। ফরমের মাধ্যমে জিডি করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমরা শতভাগ সফল না হলেও থানা পুলিশের মনোভাবের ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পেরেছি। বর্তমানে ট্রাফিক প্রসিকিউশনের জরিমানা পরিশোধ ডিজিটাল করা হয়েছে।






এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

১৪০ কি.মি গতিতে গাড়ি চালালো কিশোর!

ভারতের নতুন কেবিনেট সচিব রাজীব গাউবা

প্রমাদ গুনছে ভারতের অন্য রাজ্যগুলোও

‘এটা আমার অভ্যাস হয়ে গেছে’

একজন পর্নো তারকার পরিণতি

ভারতের সাবেক অর্থমন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে সিবিআই

ভারতের সাবেক অর্থমন্ত্রী চিদাম্বরম গ্রেপ্তার

প্রত্যাবাসনে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন, তবে...

বিএনপি-জামায়াতের পৃষ্ঠপোষকতায় ২১শে আগস্ট হামলা

পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পরের দিন আগের চিত্র

কাশ্মীর ইস্যু ভারতের অভ্যন্তরীণ

কাশ্মীরের যে এলাকা এখনো মুক্ত

সর্ষের মধ্যে ভূত থাকতে নেই: হাইকোর্ট

ফেসবুক গ্রুপ ‘গার্লস প্রায়োরিটি’র অ্যাডমিন কারাগারে

বিতর্ক দমাতে ফুটেজ চান মেয়র আরিফ

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক ইতিবাচক পথেই রয়েছে: জয়শঙ্কর