মার্কিন দূতাবাসের দুরভিসন্ধি

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ২২ জুলাই ২০১৯, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:৩৪
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহার অভিযোগের পেছনে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের দুরভিসন্ধি আছে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি গতকাল তার ফেসবুক পেজে এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, গত নির্বাচনের পর আমি একটু বিরতি নেই, তাই এই পেজেও কম পোস্ট করা হয়। কিন্তু সামপ্রতিক কিছু ঘটনার প্রেক্ষিতে আমার কিছু বলা উচিত বলে মনে হলো। আপনারা হয়তো দেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহার ভয়ঙ্কর ও মিথ্যা দাবি। উনি বলেছেন বাংলাদেশ থেকে নাকি ৩ কোটি ৭০ লাখ ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা ‘গায়েব’ বা ‘গুম’ হয়ে গেছেন। প্রায় ৪ কোটির কাছাকাছি যে সংখ্যাটি উনি বলছেন তা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যার ১০ গুণেরও বেশি, আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহতদের সংখ্যার কাছাকাছি। এতো মানুষ গুম হলো সবার অজান্তে? ৩ কোটি ৭০ লাখ মানুষ গায়েব হলো কোনো তথ্য প্রমাণ ছাড়াই? প্রিয়া সাহাকে আমেরিকায় পাঠানো হয় বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের মনোনয়নে। অনেক সমালোচনার পর আজ তারা একটি বিবৃতি দিয়েছেন। সেখানে বলেছেন তারা অংশগ্রহণকারীদের কথাবার্তার উপর কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করেন না। কিন্তু যখন তাদের একজন মনোনীত অংশগ্রহণকারী তাদেরই রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে কোনো ভয়ংকর মিথ্যা বক্তব্য দিলেন, তাদের উচিত ছিল তাৎক্ষণিকভাবে তার প্রতিবাদ জানানো, যা তারা করেননি।

জয় বলেন, এই বিষয়টি থেকে কিন্তু মার্কিন দূতাবাসেরই দুরভিসন্ধি প্রকাশ পায়। তারা জেনেশুনেই প্রিয়া সাহাকে বাছাই করে কারণ তারা জানতো উনি এই ধরণের ভয়ঙ্কর মিথ্যা মন্তব্য করবেন। এই ধরণের কাজের পিছে একটাই কারণ চিন্তা করা যায়: মানবিকতার দোহায় দিয়ে আমাদের এই অঞ্চলে সেনা অভিযানের ক্ষেত্র প্রস্তুত করা। মনে রাখা ভালো কয়েকদিন আগেই মার্কিন এক কংগ্রেসম্যান একটি বক্তব্যে বলেছিলেন বাংলাদেশের মায়ানমারের রাখাইন রাজ্য দখল করা উচিত। মার্কিন দূতাবাস যে আওয়ামী লীগ বিরোধী তা নতুন কিছু নয়। তাদের সকল অনুষ্ঠানেই জামায়াত নেতাকর্মীরা ও যুদ্ধাপরাধীরা নিয়মিত আমন্ত্রিত হতেন। প্রিয়া সাহার মিথ্যা বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে তাদের সরাসরি আধিপত্য বিস্তারের ষড়যন্ত্র পরিষ্কারভাবেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সৌভাগ্যবশত, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও তার সরকার অন্যান্য দেশের আভ্যন্তরীন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার নীতিতে বিশ্বাসী নন। তারা এই ধরণের ভয়ঙ্কর মিথ্যা দাবি বিশ্বাস করার মতন বোকাও নন।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

আমিনুল ইসলাম বুলবুল

২০১৯-০৭-২২ ১৪:১৯:৩৭

হাসিনাপুত্রের একটি স্পষ্ট এবং শক্তিশালী স্বীকারোক্তি যে প্রিয়ার বক্তব্য অত্যন্ত জঘন্য যা দেশের জন্য হুমকি সরূপ। তার যথাযথ বিচার হওয়া উচিত।

সাইফুল

২০১৯-০৭-২১ ১১:১৫:৫০

কথার কোন, মানে বুঝতে পারছি না। আওয়ামীলীগ সরকারের মন্ত্রী বলছে এটা একটা ছোট ঘটনা। বাংলাদেশের জনগন কি রাজনৈতিক জালে আটকা পড়েছে।

আপনার মতামত দিন