নতুন ভিডিও বার্তায় যা বললেন প্রিয়া সাহা

অনলাইন

অনলাইন ডেস্ক | ২১ জুলাই ২০১৯, রোববার, ৭:০৮
মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু পরিস্থিতি নিয়ে নালিশ করে আলোচনায় আসা প্রিয়া সাহা এবার তার সেই বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে ভিডিও বার্তা দিয়েছেন। কারও সঙ্গে কথোপকথনের প্রশ্নোত্তরধর্মী এ বার্তায় তিনি তার বক্তব্যের পক্ষেই কথা বলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগে দেয়া বক্তব্য থেকেই তিনি অনুপ্রাণিত হয়েছেন। ওই ভিডিও বার্তায় প্রিয়া সাহা দেশে ফিরে আসছেন উল্লেখ করে বলেন, দেশে থাকার জন্যই তিনি ট্রাম্পের কাছে অভিযোগ করেছেন। আধ ঘণ্টার বেশি সময়ের এই ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের প্রতিনিধি হয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যাননি। বরং যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে তাকে ইমেইল করা হয়।  সেই ইমেইলে পেয়ে তিনি ১৫ তারিখ যুক্তরাষ্ট্রে যান। তিনি আরও জানান, তিনি অনেকবার যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছেন। ২০০৪ সালের পর থেকে পিরোজপুরে তার গ্রামে অনেক পরিবার নিখোঁজ হয়ে যায়। তিনি দাবি করেন, ওই গ্রামে ২০০৪ সালে ৪০টি সংখ্যালঘু পরিবার ছিল এখন আছে ১৩টি পরিবার।

ভিডিও বার্তায় অপর পাশ থেকে একজন প্রশ্নকারীর প্রশ্নের জবাবে প্রিয়া বলেন, আমি ভাল নেই। আপনারা দেশে আছেন, আপনারা দেখতে পাচ্ছেন পরিস্থিতি কোথায় যাচ্ছে। আমার পরিবার ভীষণ সমস্যায় আছে। আমার বাসার তালা ভাঙতে চেষ্টা করা হয়েছে। বাসার সামনে মিছিল করা হয়েছে। হুমকি দেয়া হয়েছে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো আমার পরিবারের ছবি পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। কথা বলেছি আমি, তারা আমার ছবি ছাপাতে পারতো। এর মাধ্যমে পরিবারের সবার জীবনকে বিপন্ন করা হয়েছে।

হোয়াইট হাউজে আপনি কেন এমন কথা বলেছিলেন-এমন প্রশ্নের জবাবে প্রিয়া বলেন, এই কথাগুলো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কথা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০১ সালে যখন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়েরও ওপর নির্বাচনোত্তর চরম নির্যাতন চলছিল ৯৪ দিন ধরে। আজকের প্রধানমন্ত্রী তখন বিরোধীদলীয় নেত্রী। তিনি বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের রক্ষা করার জন্য সারা পৃথিবীতে ঘুরেছেন। সমস্ত জায়গা বক্তব্য দিয়েছেন। আমি তার কথায় অনুপ্রাণিত হয়ে, তার অনুসরণে আমি বলেছি। যে কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে যে কোনো জায়গায় বলা যায়, এটা আমি তার কাছে শিখেছি।
প্রিয়া বলেন, বাংলাদেশের যে পরিসংখ্যান বই রয়েছে। ২০০১ সালের পরিসংখ্যান বইয়ের সংখ্যালঘু যে চাপ্টার রয়েছে সেখানে এ বিষয়গুলো লেখা রয়েছে। প্রতি বছর সরকার যে সেনসাস রিপোর্ট (আদমশুমারি) বের করে সেই রিপোর্ট অনুসারে দেশভাগের সময় জনসংখ্যা (সংখ্যালঘু) ছিল ২৯ দশমিক ৭ ভাগ। আর এখনকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা হচ্ছে ৯ দশমিক ৭ ভাগ। এখন দেশের মোট জনসংখ্যা ১৮০ মিলিয়নের মতো। তো সেক্ষেত্রে জনসংখ্যা একইভাবে বৃদ্ধি পায়নি। ফলে আমি ক্রমাগতভাবে হারিয়ে গেছে বলে যে সংখ্যা বলেছি সেটা মিলে যায়।

তিনি বলেন, “আমি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করতে চাইনি। আমার নিজের গ্রামের কথা বলি। সেখানে ২০০৪ সালে ৪০টি পরিবার ছিল। এখন ১৩টি পরিবার আছে। এই মানুষগুলো কোথায় গেল, কোথায় আছে সেটা রাষ্ট্রের দেখার কথা।

কেন ট্রাম্পের কাছে তার বক্তব্য তুলে ধরেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মৌলবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। সেক্ষেত্রে আমাদের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী পৃথিবীর মধ্যে সফলতা দেখিয়েছে। আমি চেয়েছি বা যে জন্য বলেছি, বাংলাদেশের সাথে মার্কিন প্রশাসনও একসাথে কাজ করে যাতে কোনভাবেই মৌলবাদের উত্থান না ঘটে। তাই আমি বলেছি। সরকার যে কাজটি আমি সেই কাজটি শক্তিশালী করবার জন্য এই কথাগুলো বলেছি।

সরকার তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সরকার যখন প্রকৃত সত্য জানতে পারবেন তখন আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে না বরং আমার পাশে দাঁড়িয়ে আমাকে সাথে নিয়ে এই মৌলবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে।
তিনি বলেন, মুসলমান হিন্দুদের শত্রু না, মুসলমান সম্প্রদায়ের ৯৯.৯৯ শতাংশ মানুষই অসাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাস করে, একসাথে থাকে, কিন্তু কিছু দুষ্টু লোক আছে যারা এই ঘটনা ঘটায়।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Reza

২০১৯-০৭-২১ ১০:৩৩:৫৩

অন্য মতের মানুষ রাষ্ট্র দ্রোহীতার মত কথা না বললে ও মামলা হয়।সমন হয় ওয়ারেনট হয়। আর প্রিয়া সাহা কোন দেশের নাগরিক ? কোন মতের? কোন দলের ? তার মদত দাতা কারা অর্থ দাতা কারা? লালন কারি পালন কারি করা জাতির কাছে পরিস্কার করুন।

রানা

২০১৯-০৭-২১ ১০:০৭:৪০

আজ যদি কোন মুসলিম এই কথা গুল ট্রাম্পের কাছে গিয়ে বলতো তাহলে ঘটনা টা কোথায় গিয়ে দাড়াত,

এটিএম তোহা

২০১৯-০৭-২১ ০৯:২৬:৩৩

প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের পিছুটান প্রমান করে প্রিয়া সাহার সাথে সরকারের কোথাও মিল আছে। এ বক্তব্য যদি আজ ভিন্ন ঘরনার কেউ দিত কেয়ামত শুরু হতো দেশে বিদেশে। প্রিয়া সাহা নিজেদের সুরক্ষার জন্য বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ চান, দেশে গনতন্ত্রের জন্য খালেদার মুক্তির জন্য বিএনপিও যদি এমন হস্তক্ষেপ চায় তখন কী তাদের দোষ দেয়ার নৈতিক শক্তি থাকবে সরকারে।

SM.Rafiqul Islam

২০১৯-০৭-২১ ০৯:১৬:৩৯

Dal may kus Kala hay.

Kazi

২০১৯-০৭-২১ ০৮:৩৬:৩৯

ব্যাখ্যার শোনার দরকার নেই। রাষ্ট্রদ্রোহী আবার কিসের ব্যাখ্যা দিবে।

আব্দুল্লাহ

২০১৯-০৭-২১ ০৭:৫৬:২১

এই তাহলে থলের বিড়াল। ভাবতে অবাক লাগে, আমাদের দেশের নেতানেত্রীরা কত বড় দেশদ্রোহী! কিভাবে তারা ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য দেশের বিরুদ্ধে বদনাম করে।

Nil chowdhury

২০১৯-০৭-২১ ০৭:১৭:২৩

Most of the people, she is talking missing are in India as most of them make money in Bangladesh and make properties in India, everybody knows that and they dont even consider BD as their own.

আমির

২০১৯-০৭-২১ ০৬:৪১:৪১

ত্রই কারনে তো কাদের সাব বলছে ত্রখন কোন মামলা না সব দোষ দাড়িওয়ালাদের

জহির রায়হান

২০১৯-০৭-২১ ১৯:১৭:২৯

মুসলমান হিন্দুদের শত্রু না, মুসলমান সম্প্রদায়ের ৯৯.৯৯ শতাংশ মানুষই অসাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাস করে, একসাথে থাকে, কিন্তু কিছু দুষ্টু লোক আছে যারা এই ঘটনা ঘটায় , যখন ট্মপের সামনে ছিলেন তখন এই কথা কোথায় ছিল ?

Tulu

২০১৯-০৭-২১ ০৬:১৫:২৪

এদের কথা শুনে মনে হচ্ছে পিকচার আভি বাকি হেয় মেরে দোস্ত।

আপনার মতামত দিন