জয়ের ফেসবুক স্ট্যাটাস

প্রিয়া সাহার বক্তব্য: মার্কিন দূতাবাসেরই দূরভিসন্ধি

অনলাইন

অনলাইন ডেস্ক | ২১ জুলাই ২০১৯, রোববার, ২:৩৪ | সর্বশেষ আপডেট: ৫:২২
প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ও তাঁর তথ্যপ্রযুক্তি-বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, প্রিয়া সাহাকে পাঠানো হয় মার্কিন দূতাবাসের মনোনয়নে। তাদের মনোনীত অংশগ্রহণকারী তাদের রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে কোন ভয়ঙ্কর মিথ্যা বক্তব্য দিলেন। তাদের উচিত ছিল তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ জানানো কিন্তু তারা তা করেনি। এ থেকে মার্কিন দূতাবাসেরই দূরভিসন্ধি প্রকাশ পায়।
আজ নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে সজীব ওয়াজেদ জয় এসব কথা বলেন। দেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহার করা অভিযোগ প্রসঙ্গে জয় এ স্ট্যাটাস দেন। জয়ের স্ট্যাটাস হুবহু পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো:

গত নির্বাচনের পর আমি একটু বিরতি নেই, তাই এই পেজেও কম পোস্ট করা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার প্রেক্ষিতে আমার কিছু বলা উচিত বলে মনে হলো।
আপনারা হয়তো দেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহার ভয়ঙ্কর ও মিথ্যা দাবি। উনি বলেছেন বাংলাদেশ থেকে নাকি ৩ কোটি ৭০ লক্ষ ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা ‘গায়েব’ বা ‘গুম’ হয়ে গেছেন। প্রায় ৪ কোটির কাছাকাছি যে সংখ্যাটি উনি বলছেন তা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যার ১০ গুণেরও বেশি, আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহতদের সংখ্যার কাছাকাছি। এতো মানুষ গুম হলো সবার অজান্তে? ৩ কোটি ৭০ লক্ষ মানুষ গায়েব হলো কোনো তথ্য প্রমাণ ছাড়াই?

প্রিয়া সাহাকে আমেরিকায় পাঠানো হয় বাংলাদেশে মার্কিন দূতাবাসের মনোনয়নে। অনেক সমালোচনার পর আজ তারা একটি বিবৃতি দিয়েছেন। সেখানে তারা বলেছেন তারা অংশগ্রহণকারীদের কথাবার্তার উপর কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করেন না। কিন্তু যখন তাদের একজন মনোনীত অংশগ্রহণকারী তাদেরই রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে কোনো ভয়ংকর মিথ্যা বক্তব্য দিলেন, তাদের উচিত ছিল তাৎক্ষণিকভাবে তার প্রতিবাদ জানানো, যা তারা করেননি।

এই বিষয়টি থেকে কিন্তু মার্কিন দূতাবাসেরই দূরভিসন্ধি প্রকাশ পায়। তারা জেনেশুনেই প্রিয়া সাহাকে বাছাই করে কারণ তারা জানতো উনি এই ধরণের ভয়ংকর মিথ্যা মন্তব্য করবেন। এই ধরণের কাজের পিছে একটাই কারণ চিন্তা করা যায়: মানবিকতার দোহাই দিয়ে আমাদের এই অঞ্চলে সেনা অভিযানের ক্ষেত্র প্রস্তুত করা। মনে রাখা ভাল কয়েকদিন আগেই মার্কিন এক কংগ্রেসম্যান একটি বক্তব্যে বলেছিলেন বাংলাদেশের মায়ানমারের রাখাইন রাজ্য দখল করা উচিত।

মার্কিন দূতাবাস যে আওয়ামী লীগ বিরোধী তা নতুন কিছু নয়। তাদের সকল অনুষ্ঠানেই জামাত নেতাকর্মীরা ও যুদ্ধাপরাধীরা নিয়মিত আমন্ত্রিত হতেন। প্রিয়া সাহার মিথ্যা বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে তাদের সরাসরি আধিপত্য বিস্তারের ষড়যন্ত্র পরিষ্কারভাবেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সৌভাগ্যবশত, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও তার সরকার অন্যান্য দেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার নীতিতে বিশ্বাসী নন। তারা এই ধরণের ভয়ঙ্কর মিথ্যা দাবি বিশ্বাস করার মতন বোকাও নন।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Lord

২০১৯-০৭-২১ ০৮:১১:০৪

Really? Get out from the US. You live in the US, enjoy citizenship and talks against the country. You are a pure douchbag and opportunistic low human being.

রিপন

২০১৯-০৭-২১ ১৯:১৪:১৩

দূতাবাসের দূরভিসন্ধির প্রশ্নই আসে না। নেহায়েত যদি কিছু বলতে হয়, সঠিক কথা হবে - "মার্কিন সরকারের দূরভিসন্ধি রয়েছে।" কারণ, দূতাবাস তার নিজ সরকারের হুকুমের বাইরে এক কদমও ফেলতে পারে না। আমার মতে ওসব ভূয়া ষড়যন্ত্র তত্ত্ব বাদ দিয়ে সরকারের উচিত কৈফিয়ত খাড়া করা - ৩ কোটি সংখ্যালঘু গেল কোথায়? রাষ্ট্র কি গণমানুষের কল্যাণের জন্যে, না গণমানুষ রাষ্ট্রের বলির পাঁঠা? এসবের জবাব তৈরির পেছনেই মগজ খরচ করা কর্তব্য এখন।

Khaled

২০১৯-০৭-২১ ০২:১০:০৭

জনাব জয়ের কথাগুলি শুনে ভালো লাগলো. তবে একচা প্রশ্ন বিনয়ের সাথে করতে চাই: মার্কিন দুতাবাস কি তাদের সরকারের সিদ্ধান্তের বাইরে কিছু করতে পারি কিনা?? উনার কথা থেকেই এই প্রশ্ন টা মনে হলো.

আপনার মতামত দিন