আদালতে মিন্নির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

প্রথম পাতা

মো. মিজানুর রহমান, বরগুনা থেকে | ২০ জুলাই ২০১৯, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:৩৬
রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। তবে জবানবন্দিতে তিনি ঠিক কী বলেছেন সে ব্যাপারে বিস্তারিত জানা যায়নি। আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে পাঁচদিনের রিমান্ড শেষ হওয়ার আগেই কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে গতকাল বিকাল ৫টার সময় বরগুনার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সিরাজুল ইসলাম গাজীর আদালতে তোলা হয় তাকে। এ সময় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন মিন্নি। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। রিফাত হত্যা মামলায় প্রথমে সাক্ষী থাকলেও পরে মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। এখন তিনিও এ মামলার আসামি।

এ বিষয়ে রিফাত হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বরগুনার সদর থানার ওসি (তদন্ত) মো. হুমায়ুন করিব বলেন, মিন্নি রিফাত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বরগুনার মাইঠা এলাকার বাসা থেকে বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরসহ মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তার বক্তব্য রেকর্ড করতে বরগুনা পুলিশ লাইন্সে নিয়ে যায় পুলিশ। এরপর দীর্ঘ ১০ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদ ও বিভিন্ন মাধ্যম থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ ও পুলিশের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে আটকে যান মিন্নি। বেরিয়ে আসে হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ। এরপরই তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এরপর বুধবার বিকাল ৩টার দিকে বরগুনার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মিন্নিকে হাজির করে সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। পরে শুনানি শেষে মিন্নির পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজী। পরদিন বৃহস্পতিবার বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন জানিয়েছিলেন, মঙ্গলবার দিনভর জিজ্ঞাসাবাদ ও বুধবার রিমান্ড মঞ্জুরের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে রয়েছেন আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি। ইতিমধ্যে মিন্নি স্বামী রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এ হত্যার পরিকল্পনার সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন।

রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত ১৬ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে মিন্নিসহ ১৩ জন অভিযুক্ত রিফাত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া এ মামলার দুইজন অভিযুক্ত রিমান্ডে রয়েছেন। আর এ মামলার প্রধান অভিযুক্ত নয়ন বন্ড বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন।

এদিকে রিফাত শরীফ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত তিন নম্বর আসামি মো. রাশিদুল হাসান রিশান ফরাজীর পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল সকালে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. সিরাজুল ইসলাম গাজী এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এ বিষয়ে রিফাত হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বরগুনা সদর থানার ওসি (তদন্ত) মো. হুমায়ুন কবির বলেন, রিশান ফরাজীকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। পরে শুনানি শেষে আদালত রিশান ফরাজীর পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
দুই মায়ের কোল খালি করে কবরবাসী হইলি তোরা: নয়ন বন্ডের মা

‘আমার পুত্রবধূ আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির কারণে আজ কতগুলো পরিবার জ্বলছে। দুই মায়ের বুক খালি হয়েছে। কতদিন বলেছি তোরা বন্ধুত্ব আবার জোড়া লাগিয়ে বিভেদ ভুলে জীবনযাপন শুরু কর। কিন্তু আজ বিপরীত হয়ে দুই মায়ের কোল খালি করে কবরবাসী হইলি তোরা।’

গতকাল দুপুরে বরগুনা সরকারি কলেজের পেছনে নিজের বাড়িতে বসে আক্ষেপের সঙ্গে কথাগুলো বলেছিলেন ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত নয়ন বন্ডের মা সাহিদা বেগম।

স্থানীয়দের দেয়া তথ্যানুযায়ী, রিফাত শরীফ এবং নয়ন বন্ড দুইজন খুব কাছের বন্ধু ছিলেন। তারা একই গ্রুপ ‘বন্ড ০০৭’ এর সদস্য ছিল। তাদের দু’জনের প্রথম ঝামেলা শুরু হয় ‘বন্ড ০০৭’ গ্রুপের প্রধান থাকবে কে তা নিয়ে। এরপর ওই গ্রুপে নয়নের সদস্য বেশি হওয়ায় রিফাত নয়নের সঙ্গে বন্ধুত্ব ছিন্ন করে নতুন এক বাহিনীতে যোগ দেয়। পরে রিফাত আরেকটি ছিনতাই গ্রুপ তৈরি করে। যেটার নিয়ন্ত্রণ করতেন রিফাত। আর এ নিয়ে দুইজনের মধ্যে প্রায়ই ঝামেলার সৃষ্টি হয়ে মারামারি পর্যন্ত হতো।

রিফাত হত্যা মামলার বাদী ও তার বাবা দুলাল শরীফ বলেন, আমার ছেলে রিফাত মারা যাওয়ার পর শুনেছি নয়ন আর রিফাতের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিলো। এর আগে, কখনো বুঝিনি ওরা দুইজন দুইজনার শত্রু। তাছাড়া তারা একসময় ভালো বন্ধু ছিল।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

রুবেল

২০১৯-০৭-২০ ০৩:১১:১৯

রিফাত ফরাজি,রিশান ফরাজীর গডফাদার দের গ্রেফতার করে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করেন। এবং রিফাত ফরাজি,রিশান ফরাজীর দৃষ্টন্তমূলক সাজা ফাঁশি হওয়া উচিৎ। শুধু মিন্নিকে অপরাধী করে যেন আসল অপরাধীদের বাচাঁনোর ফন্দি না হয়। বিদ্রত ঃ মিন্নী সম্ভবত মাদক বানিজ্যর এবং সন্ত্রাসী খুনি দের বাঁচানোর জন্য-ই নির্ভর অপশক্তির প্রভাবশালী দের নিরপরাধ বানানোর বলি হতে চলেছেন !!

shoaib naser

২০১৯-০৭-২০ ০৯:৪১:৫২

রেফাতকে হত্যা করতে চাইনি মিন্নি! বন্ড 007 গ্রুপ থেকে তাদের মধ্যে কেউ নেই। মিন্নি রেফাতকে একটা শিক্ষা দিতে চেয়েছিলেন, সে তার উপর রাগ করেছিল। তাদের পরিকল্পনা ছিল তাকে মারতে এবং তাকে আহত করা। কিন্তু প্রধান অপরাধী রিফাত ফারজী (আক্রমণকারী)। তিনি দুটো ramda নিয়ে এলেন এবং এক নওন বন্ডে হস্তান্তর করলেন। তারপর তারা রাইফাত (শিকার) । তারপর তিনি খারাপভাবে আহত। যদিও মিন্নি তাকে হত্যা করতে চায়নি তবে তিনি সহিংসতায় জড়িত ছিলেন এবং তিনিও হত্যার দায়ে দোষী ছিলেন

আপনার মতামত দিন

মোদির সামনে কাশ্মীর ইস্যু উত্থাপন করবেন গুতেরাঁ

জেলখানায় সবজি চাষ করেন সেই ধর্মগুরু

ঢামেকে আরও এক ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু

চুল কাটায় নজরদারি

মাহীকে দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ, হাজির হননি স্ত্রী

‘ভারত যুদ্ধ চাপিয়ে দিলে শেষ করবে পাকিস্তান’

বাহরাইনেও সম্মানিত মোদি

যে কারণে সরানো হবে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী

বিশ্বজুড়ে বাড়ছে ফ্রিল্যান্স মার্কেট, বাংলাদেশ ৮ম

মাদারীপুরে ডেঙ্গুতে আরও এক নারীর মৃত্যু

কক্সবাজারে যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার

পদ্মায় যুবকের হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার

‘কারো প্রতি আমার কোনো রাগ নেই’

পর্নো জগতের ফাঁদ

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হার

তৃতী ম্যাচে এসে চেলসির প্রথম জয়