১১ খাতে ওয়াসার দুর্নীতি পেয়েছে দুদক

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ১৯ জুলাই ২০১৯, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ৩:০৩
ঢাকা ওয়াসায় দুর্নীতির ১১টি খাত চিহ্নিত করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল সচিবালয়ে ১১ খাতে দুর্নীতির একটি প্রতিবেদন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলামের কাছে তুলে দেন দুদক কমিশনার মোজাম্মেল হক খান। প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়াসার প্রকল্পগুলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ না করে বিভিন্ন অজুহাতে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা ও প্রকল্প ব্যয় বাড়ানো হয়। এ ছাড়া ঠিকাদার নির্বাচনের ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট পদ্ধতি ও রাজনৈতিক পরিচয় এবং কাজ পাওয়ার বিনিময়ে ঘুষ লেনদেন প্রচলিত প্রথা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রকল্প পরিচালকসহ প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী এবং ওয়াসার ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ যুক্ত থাকেন।
সূত্র জানিয়েছে, প্রতিবেদনে দুর্নীতির উৎস তুলে ধরার পাশাপাশি এসব দুর্নীতি প্রতিরোধে ১২ দফা সুপারিশও তুলে ধরেছে দুদক। দুদক কমিশনার বলেন, ওয়াসার সরবরাহ করা পানি এখনো পানযোগ্য নয়। এর বিভিন্ন প্রকল্পে কালক্ষেপণের কারণে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে গেছে। কাজের চেয়ে বেশি টাকা দেয়া হয়েছে ঠিকাদারদের। এতে কাজ তুলে নেয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, কাজের মান ও পরিসর বিবেচনা করে ওয়াসা যদি টাকা ছাড় করত তাহলে ভালো ফল পাওয়া যেত। স্পষ্টতই এখানে ওয়াসার সংশ্লিষ্টতা আছে।

সরকারি ২৫ টি প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান আইন, বিধি, পরিচালনা পদ্ধতি, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ-অপচয়ের দিক পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক দল গঠন করে দুদক। দলগুলোকে এসব প্রতিষ্ঠানের জনসেবা দেয়ার ক্ষেত্রে সফলতা ও সীমাবদ্ধতা, আইনি জটিলতা, সেবা গ্রহীতাদের হয়রানি ও দুর্নীতির কারণ চিহ্নিত করে তা বন্ধে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়। কমিশনের নির্দেশনার আলোকে দুদকের দলগুলো প্রতিবেদন দাখিল করে। ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিমান, রাজউক, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষসহ ১৩ টি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা নিয়ে প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ওয়াসা নিয়ে এ প্রতিবেদন জমা দেয়া হলো।

দুদক বলছে, ঢাকা ওয়াসার আইন, বিধি, পরিচালন পদ্ধতি, সরকারি অর্থ অপচয়ের দিকসমূহ পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করে ওই প্রতিষ্ঠানের সীমাবদ্ধতা, প্রতিবন্ধকতা ও দুর্নীতি প্রতিরোধে সুপারিশমালা প্রণয়নের লক্ষ্যে কমিশনের একজন পরিচালকের নেতৃত্বে একজন উপপরিচালক এবং একজন সহকারী পরিচালকের সমন্বয়ে ওয়াসার দুর্নীতি সংক্রান্ত একটি প্রাতিষ্ঠানিক দল গঠন করা হয়। প্রাতিষ্ঠানিক দল তাদের অনুসন্ধানে ওয়াসার অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, বর্তমানে কর্মরত কর্মকর্তা এবং এ বিষয়ে সম্যক ধারণা যারা রাখেন তাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহপূর্বক তা পর্যালোচনা করেন। এ ছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক টিম তাদের অনুসন্ধানকালে ওয়াসার বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি সম্পর্কিত বিভিন্ন দৈনিক পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্যসহ ভুক্তভোগী সেবা গ্রহীতাদের বক্তব্য, প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক বিবৃতি, নিরীক্ষা ও অডিট প্রতিবেদনও পর্যালোচনা করে। সার্বিক পর্যালোচনার ভিত্তিতে প্রাতিষ্ঠানিক দল ওয়াসার দুর্নীতির উৎস ও ক্ষেত্র চিহ্নিত করে তা প্রতিরোধে প্রণীত সুপারিশমালা প্রতিবেদন আকারে কমিশনে দাখিল করে।

দুদকের প্রতিবেদনে ওয়াসায় দুর্নীতির ১১টি উৎস চিহ্নিত করে এর মধ্যে প্রকল্পকাজে দুর্নীতির তথ্য তুলে ধরা হয়েছে ৮টির। এগুলোর মধ্যে প্রধান হলো- ওয়াসার প্রকল্পগুলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ না করে বিভিন্ন অজুহাতে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা ও প্রকল্প ব্যয় বাড়ানো। এ ক্ষেত্রে প্রকল্প পরিচালকসহ প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী এবং ওয়াসার ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে প্রকল্পের নকশা ও স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী কাজ করা হয় না। উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে ঢাকাসহ বৃহত্তর মিরপুর এলাকার পানির চাহিদা পূরণে মিরপুরের ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস করে প্রকল্পের কথা তুলে ধরা হয়। প্রকল্পটি ২০১২ সালের ২২শে নভেম্বর অনুমোদন হয়। উনয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) অনুযায়ী সরকারের ১৪২ কোটি, ওয়াসার ১০ কোটি, প্রকল্প সাহায্য ৩৬৯ কোটি টাকাসহ মোট ৫২১ কোটি টাকার প্রকল্প ২০১৭ সালের জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ২০১৬ সালের ২৯শে মার্চের সংশোধিত ডিপিপি অনুযায়ী প্রকল্পের ব্যয় ৫৭৩ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়, এর মধ্যে সরকারের ২০০ কোটি ৫ লাখ, ওয়াসার ১০ কোটি, প্রকল্প সাহায্য ৩৬২ কোটি ৯৫ লাখ।

দুদক বলছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ না করে অযৌক্তিকভাবে প্রকল্পের ব্যয় ৫২ কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস্তব কাজের অগ্রগতি মাত্র ৪৬ দশমিক ৭২ ভাগ হলেও ঠিকাদার পরিশোধ করা হয়েছে ৩১৩ কোটি ৭১ লাখ, যা সংশোধিত ডিপিপি মূল্যের ৫৪ দশমিক ৭৫ ভাগ। এ ক্ষেত্রে কাজের অগ্রগতির সঙ্গে ঠিকাদারের পরিশোধিত বিলের অনেক পার্থক্য রয়েছে।

ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ মহানগরীতে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ধরে রাখতে নেয়া অন্তর্বর্তীকালীন প্রকল্পগুলোতে দুর্নীতি পেয়েছে দুদক। এ ক্ষেত্রেও অযৌক্তিকভাবে প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। যে কাজ হয়েছে সেই কাজের অগ্রগতির সঙ্গে ঠিকাদারের পরিশোধিত বিলের অনেক পার্থক্য রয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রকল্প পরিচালকসহ প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও ওয়াসার ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট থাকে মর্মে দুদক জেনেছে। এ প্রকল্পের ক্ষেত্রেও ডিজাইন ও স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী কাজ হয়নি মর্মে অভিযোগ রয়েছে।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

মিঠামইনে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতির লোকজনের হামলা, নিহত ১

খালেদার মুক্তির জন্য রাজপথে আন্দোলন করতে হবে-দুদু

খেলোয়াড় ও দর্শকদের প্রিয় কোচ হতে চান ডমিঙ্গো (ভিডিও)

ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুন

প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দিয়ে ঢাকা ছাড়লেন জয়শঙ্কর

কাশ্মীর ইস্যুতে আবার মধ্যস্থতার প্রস্তাব ট্রাম্পের

কাশ্মীর ইস্যুতে জাতিসংঘের আদালতে যাবে পাকিস্তান

কারা হেফাজতে আইনজীবীর মৃত্যুর ব্যাখ্যা চেয়েছেন হাইকোর্ট

হঠাৎ গার্মেন্ট বন্ধ, আন্দোলনে শ্রমিকরা

ছাদ থেকে লাফিয়ে কারারক্ষীর স্ত্রীর মৃত্যু

এক রাতের জন্য ৪০ হাজার পাউন্ড প্রস্তাব

‘২১শে আগস্ট হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড তারেক রহমান’

দেশে ফিরতে অনীহা রোহিঙ্গাদের

রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে ৬১ এনজিওর ৪ সুপারিশ

২ মাসেও সন্ধান পাওয়া যায়নি হবিগঞ্জের সুমনের

লক্ষ্মীপুরে ব্যবসায়ীকে গলাকেটে হত্যা