কোম্পানীগঞ্জে শামীমের ‘কাঠগড়ায়’ কালা মিয়া

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট থেকে | ১৮ জুলাই ২০১৯, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:৫১
তাদের দু’জনের সম্পর্ক কখনো মধুর। কখনো শত্রুর। বিগত এক যুগ ধরেই এভাবে চলছে তাদের সম্পর্কের টানাপড়েন। কখন তারা এক হয়, আবার দূরত্ব বাড়ে। তবে, ‘স্বার্থ’ কাজ করে এখানে। রয়েছে আধিপত্য ও টাকার আয়ের উৎস নিয়ে দ্বন্দ্ব। এই অম্লমধুর সম্পর্কের মধ্যে এবার নতুন করে পাথর রাজ্যে বালু নিয়ে আলোচনায় এসেছেন তারা দু’জন। এই দু’জন হলেন- কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ও প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা হাজী শামীম আহমদ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আপ্তাব আলী কালা মিয়া। এক মহাল ইজারা নিয়ে তিন মহালে লুটপাট চালাচ্ছেন কালা মিয়া। এরই মধ্যে দেড় মাসে প্রায় ২০ কোটি টাকার বালু লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ উপজেলা চেয়ারম্যান হাজী শামীম আহমদের। তার এই অভিযোগের কাঠগড়ায় থাকা আপ্তাব আলী কালা মিয়া বলেছেন- তিনি লিজকৃত মহাল থেকে বালু তোলছেন। অন্য জায়গা থেকে বালু লুটপাটের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে দেয়া ঠিক হচ্ছে না। এদিকে- এই অবস্থায় বালু লুটপাট নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে কোম্পানীগঞ্জে। নৌকা সমিতি ও পাথর ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা অবৈধ বালু উত্তোলন ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ পাথর রাজ্য বলে খ্যাত। এবারের বর্ষায় সেটি বালু রাজ্য হিসেবে পরিচিত পেয়েছে। গতকাল আপ্তাব আলী কালা মিয়ার বিরুদ্ধে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন হাজী শামীম আহমদ। ওই অভিযোগে তিনি জানিয়েছেন- ‘কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ভাটরাই মৌজার একাংশ গত ৩০শে জুন ইজারা দেয়া হয়েছে। মাত্র ১৬ লাখ টাকার রাজস্ব প্রদানের মাধ্যমে মেসার্স মাহমুদ বাণিজ্যিক সংস্থা ও কুলসুমা স্টোন ক্রাশারের স্বত্বাধিকারী আপ্তাব আলী কালা মিয়াকে ইজারা দেয়া হয়েছে। আর এই ইজারার পর কোম্পানীগঞ্জের ভাটরাই মৌজাসহ অপর দুটি মৌজার মোট তিনটি বালু মহালের প্রায় ২০ কোটি টাকার বালু লুটপাট করা হয়েছে। এখনো প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকার বালু তার সঙ্গে পাথরও লুটপাট করা হচ্ছে। এই লুটপাটের ঘটনায় গোটা কোম্পানীগঞ্জজুড়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।’ তিনি বলেন- ‘এখানে লিজ গ্রহণে ‘গোপনীয়তা’ রক্ষা করে কম মূল্যে এই বালু মহাল ইজারা নিয়ে কোটি কোটি টাকা পকেটস্থ করা হয়েছে।

পাশেই রয়েছে ধলাই বালু মহাল। এই মহালটি দুই বছর পূর্বে ৪ কোটি টাকায় ইজারা দেয়া হয়েছে। পাশের বালু মহাল ৪ কোটি টাকায় ইজারা দেয়া হলে ভাটরাই মৌজার বালু মহাল মাত্র ১৬ লাখ টাকায় ইজারা প্রদানের বিষয়টি নিয়ে রহস্য দেখা দিয়েছে।’ এদিকে- সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে পড়েছে ধলাই নদীর ওপর স্থাপিত সেতুটি। এই সেতুটি হচ্ছে কোম্পানীগঞ্জের বৃহৎ অংশের চলাচলের মাধ্যম। কিন্তু নদীর পাদদেশ থেকে অবাধে পাথর লুটপাটের ফলে এখন সেতুটির গার্ডার সম্পূর্ণ হুমকির মুখে পড়েছে। এর বাইরে প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে স্কুল, বাজার, মসজিদ, মাদ্রাসা, সরকারি রাস্তাও হুমকির মুখে রয়েছে। কোম্পানীগঞ্জের বড় হাটবাজার দয়ারবাজার, লিলাইরবাজার ও কুশিঘাট বাজার তিনটির অস্তিত্ব বিলীন হতে চলেছে। বালু উত্তোলনের ফলে শূন্য হয়ে পড়ছে নদী তীরবর্তী বাজারের নিচ। আর ঢেউয়ের তোড়ে তিনটি বাজারে ইতিমধ্যে ভাঙন দেখা দিয়েছে। কালিবাড়ি ও কালাইরাগ এলাকার দুটি খেলার মাঠ ভেঙ্গে যাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে পড়েছে রেলওয়ের বাঙ্কার এলাকা। এই বাঙ্কার এলাকাটি হচ্ছে সংরক্ষিত সম্পত্তি। কিন্তু বাঙ্কারের পাশ থেকে অবাধে বালু উত্তোলনের ফলে গোটা বাঙ্কার পড়েছে হুমকির মুখে। বাঙ্কারে থাকা রেলওয়ের সম্পত্তি, যেমন মসজিদসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা যেকোনো সময় ভেঙ্গে যেতে পারে।

এ ছাড়াও ১০-১২টি গ্রামের মানুষ চরম আতঙ্কে আছে। এই আতঙ্কের কারণ হচ্ছে- বালু উত্তোলনের ফলে গ্রামের অধিকাংশ বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পথে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলোর মধ্য রয়েছে- কালিবাড়ি, কালাইরাগ, মুক্তিযোদ্ধা আদর্শ গ্রাম, ভোলাগঞ্জ আদর্শ গুচ্ছ গ্রাম, বিজিবি ক্যাম্প ও কাস্টমস এলাকা। কলাবাড়ি মাদ্রাসা ও দয়ারবাজার থেকে কালাইরাগ পর্যন্ত এলজিইডির রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পথে। এদিকে- শামীমের এই বক্তব্য সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন আপ্তাব আলী কালা মিয়া। তিনি জানান- প্রশাসন গিয়ে লাল ফ্ল্যাগ টানিয়ে দিয়েছে। তার ভেতর থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এখন থেকে তিনি রয়্যালিটি আদায় করছেন। এর বাইরে থেকে যারা বালু তোলছে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অ্যাকশন নিতে তিনিও চান। প্রশাসন, পুলিশ ও রেলওয়েকে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে দাবি তারও। অভিযানে তিনি সার্বিক সহযোগিতা দিতেও প্রস্তুত বলে জানান।

পাথর শ্রমিক নেতাদের স্মারকলিপি: ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা ও হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে বিভাগীয় কমিশনার বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পাথর উত্তোলন ও বহণকারী শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমদ। গতকাল স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন- ধলাইর পূর্ব পাড় পাথর শ্রমিক শাখার সহসভাপতি ফারুক আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল মিয়া, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পাথর উত্তোলন ও বহনকারী শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক ফয়সল আহমদ বাদশা।

স্মারকলিপিতে তারা অভিযোগ করেন- জাতীয় শ্রমিক লীগের অন্তর্ভুক্ত পাথর উত্তোলন ও বহনকারী শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম শ্রমিকদের কল্যাণে কাজ করছেন। কোম্পানীগঞ্জের পাথর শ্রমিকদের চিহ্নিত চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রক্ষার জন্য প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন। চাঁদাবাজদের হাত থেকে অসহায় শ্রমিকদের রক্ষার জন্য মো. সিরাজুল ইসলাম ২০১৮ সালের ৩০শে মে সিলেট বিভাগীয় কমিশনার বরাবর একটি স্মারকলিপি দাখিল করেন। স্মারকলিপি দেয়ার পর থেকেই স্থানীয় প্রশাসন মো. সিরাজুল ইসলামের উপর ক্ষুব্ধ। সিরাজুল ইসলামের তিন ছেলেকে নানা মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে গেপ্তার করা হয়। এ ধারাবাহিকতা এখনো অব্যাহত রয়েছে।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল আরেক মায়ের

ওরা যাবে কোথায়?

জয়শঙ্কর ঢাকায়

বঙ্গবন্ধু হত্যায় আওয়ামী লীগ নেতারাই জড়িত

২ ভারতীয় সেনাসহ নিহত ৪

দেড় মাসে স্বর্ণের দাম বাড়লো ৫ বার

মশক নিধনকর্মীদের দেখা মেলে কম

২০২৩ সালের মধ্যে সব প্রাথমিকে ‘স্কুল মিল’

চট্টগ্রামে কিশোরী ধর্ষণ, ভণ্ডপীর গ্রেপ্তার

গারো তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টা, গ্রেপ্তার ১

কাঁচা চামড়া বেচা-কেনা শুরু

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের সরকার পুনর্বাসন করবে- ওবায়দুল কাদের

গ্রাহক নয়, উবার পাঠাওকে ৫% ভ্যাট দিতে হবে- এনবিআর

ব্রিজ-কালভার্ট মেরামতে রেলওয়ের ব্যর্থতায় হাইকোর্টের রুল

পারভেজ পুলিশি রিমান্ডে

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সারা দেশে র‌্যালি করবে বিএনপি