যেভাবে কেটেছে এরশাদের শেষ দিনগুলো

অনলাইন

স্টাফ রিপোর্টার | ১৪ জুলাই ২০১৯, রোববার, ৩:৪৮ | সর্বশেষ আপডেট: ৩:৪৯
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পূর্ব সময়। এরশাদ দলীয় বিভিন্ন সভা সেমিনারে ঘোষণা দিয়ে আসছেন জাতীয় পার্টি একাই তিনশত আসনে নির্বাচন করবে। কোনো দলের উপর ভর করে আর ক্ষমতার সঙ্গী হবে না। এভাবে করতে করতে নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসে। এরশাদ ধীরে ধীরে ন্যুজ হয়ে পড়েন। নানা রোগ আর বয়সের ভারে কুলিয়ে উঠতে পারছিলেন না। যখন তার থাকার কথা নির্বাচনী মাঠে ময়দানে। তখন এরশাদ অনেকটা নিস্তব্ধ। নীরবেই কাটছিল তার দিনগুলো। এরশাদের রুটিন ওয়ার্ক চলে কেবলই সিএমএইচ আর প্রেসিডেন্ট পার্ক। প্রেসিডেন্ট পার্কে নেতাকর্মীদের আনাগোনা থাকলেও সাক্ষাৎকারীদের সংখ্যা প্রতিনিয়ত কমতে থাকে। পার্টির সিনিয়র নেতারা ছাড়া কেউ তার সাক্ষাত পান না। শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় তিনি অনেকটা অগোচরে সময় কাটান।

নির্বাচন এলে একটি রাজনৈতিক দলের এরশাদকে দিয়ে কার্য হাসিল করাও হয়ে উঠে নিয়ম। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসে এরশাদ নাটক ততই ঘনীভূত হতে থাকে। এরইমধ্যে এরশাদ রক্তে হিমোগ্লোবিন সমস্যা নিয়ে দুইবার সিঙ্গাপুর যান। আর সিএমইএইচ তো হয়ে উঠে ঘরবাড়ি। সর্বশেষ নির্বাচনে এরশাদ নিজে দুটি আসনে নমিনেশন দাখিল করেন। তবে একবারের জন্য নির্বাচনী প্রচারণায় যেতে পারেননি। সিঙ্গাপুর থেকে চিকিৎসা শেষ করে ফিরেন নির্বাচনের ঠিক দুইদিন পূর্বে । নিজের ভোট দেয়া থেকেও এবার প্রথবারের মত বঞ্চিত হন এরশাদ। দু’টি আসনের একটি রংপুর-৪ এ জয়লাভ করলেও ঢাকা-১৭ আসনে হেরে যান। আর এরশাদের পার্টি একক এবং জোট দুটি মিলিয়েই নির্বাচন করে। অনেক দেন দরবারের পরে আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টিকে ২৭টি আসন ছেড়ে দেয় এককভাবে। আর জাপার আরো দু’শর কাছাকাছি প্রার্থী নির্বাচন করে যৌথভাবে।

নির্বাচনে এরশাদের পার্টি জোট থেকে ২২টি আসনে জয়লাভ করে সংসদে যায়। তবে জোটে থেকেও বিরোধী দলের ভূমিকায়। এরশাদ হন প্রধান বিরোধী দলের নেতা। সিএমএইচ থেকে হুইল চেয়ারে গিয়ে একা একা শপথ নেন। আর একাদশ সংসদ অধিবেশনের পরে একবার মাত্র কিছু সময়ের জন্য সংসদে গিয়েছিলেন তিনি। নির্বাচনের পরেও একবার এরশাদ সিঙ্গাপুরে যান চিকিৎসার জন্য। নানা রোগে আক্রান্ত এরশাদ নির্বাচনের পরে আরো একাকী হয়ে পড়েন। প্রেসিডেন্ট পার্কে ছোট ছেলে এরিক এরশাদকে নিয়ে বসবাস করলেও আর কোনো নিকটাত্মীয় কাছে থাকতেন না।

নিঃসঙ্গ এরশাদকে পার্টি ও নেতারা মাঝেমধ্যে বাসায় দেখতে গেলেও তার কাছে কিছু সময় অবস্থান করেই ফিরে আসতেন। অসুস্থ অবস্থায় এরশাদ ব্যক্তিগত আইনজীবীকে ডেকে ছেলে এরিকের নামে সম্পদ উইল করে একটি ট্রাস্ট গঠন করেন। এরশাদের মৃত্যুভাবনা থেকে অটিস্টিক ছেলেকে সম্পদ উইল করেন এমনটাই জানা যায়। কেননা মৃত্যুর পরে এরশাদের সম্পদ যাতে কেউ কুক্ষিগত না করতে পারে। এদিকে রুগ্ন এরশাদ হঠাৎ করে ২৬জুন জ্বর ও ফুসফুসে ইনফেকশনে আক্রান্ত হন। এসময় এরশাদের আপনজন বলতে কাছে কেউ ছিল না। কাজের লোকেরা খবর দিলে দ্রুত এরশাদকে সিএমএইচে নেয়া হয়। সেখানেই দুই সপ্তাহের বেশি সময় চিকিৎসা শেষে না ফেরার দেশ পাড়ি দেন এরশাদ।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

জাফর আহমেদ

২০১৯-০৭-১৪ ০৩:৪৬:৪১

এরশাদ সাহেব চলে গেলেন কিন্তু তার অনেক কিছুই রেখে গেছেন। হয়তোবা তার জীবনের অনেক গুলো ভুল ছিলো। কিন্তু ভালো দিকটা কম ছিলো না। তবে এটা বলার অপেক্ষা রাখে না তার শাসন কাল বর্তমান সময়ের চাইতে অনেক বেশি ভালো ছিল। আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করুন।

আপনার মতামত দিন

রাঙ্গামাটিতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে সেনাসদস্য নিহত

ঈদে সড়কেই প্রাণ গেল ২২৪ জনের

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন আদৌ শুরু হচ্ছে কি?

কুমিল্লায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৮

এখনো উচ্চ ঝুঁকি ২৪ ঘণ্টায় ১৭০৬ রোগী ভর্তি

পার্বত্য চট্টগ্রাম ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ

ডেঙ্গুর প্রজননস্থলে কতটা যেতে পারছেন মশক নিধন কর্মীরা?

বৈঠকের পর চামড়া বিক্রিতে সম্মত আড়তদাররা

জনগণকে সতর্ক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার পরামর্শ

ছিনতাইকারীর হাতে খুন হন কলেজছাত্র রাব্বী

শিক্ষিকাকে গণধর্ষণের পর হত্যা

শহিদুল আলমের মামলা স্থগিতই থাকবে

ডেঙ্গুর ভয়ে স্কুলে যাওয়া বন্ধ তবুও...

রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে ঢামেকে সংঘর্ষ, আহত ২৫

টার্গেট রাজনৈতিক সম্পর্ক দৃঢ়করণ

ইউজিসি প্রফেসর হলেন ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ