এক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আবেগঘন স্ট্যাটাস

এক্সক্লুসিভ

ইকবাল আহমদ সরকার, গাজীপুর থেকে | ১৪ জুলাই ২০১৯, রোববার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:৫৮
আমাদের মায়া-মমতা, আবেগ-ভালোবাসা সবই কমে গেছে। একই কাজ করে দু’একজন কাঁদলেও খুশিতে আটখানা অধিকাংশরা। এমন চিত্র ফুটে উঠেছে গাজীপুর জেলা প্রশাসনের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ফেসবুকে দেয়া স্ট্যাটাসে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুবাইয়া ইয়াসমিন তমার দেয়া আবেগঘন স্ট্যাটাসটি সরাসরি তুলে ধরা হলো।
‘কর্মরত অবস্থায় কোনো সরকারি কর্মচারী মারা গেলে তার পরিবারকে আট লাখ টাকার অনুদান দেয়া হয়। ডিসি অফিসের সাধারণ শাখা থেকে এই অনুদানের চেকগুলো বিতরণ করা হয়। আর গাজীপুর ডিসি অফিসে প্রায় ১০ মাস সহকারী কমিশনার (সাধারণ শাখা) হিসেবে কাজ করার সুবাদে অসংখ্য মানুষকে এই অনুদানের চেক বিতরণের অভিজ্ঞতা হয়েছে। অথচ অদ্ভুত লাগে, এ পর্যন্ত শুধুমাত্র একজন মাকে দেখেছিলাম তার মৃত মেয়ের অনুদানের চেক নিতে এসে মেয়ের জন্য হাউমাউ করে কাঁদছিলেন। আর কোনো কোনো স্ত্রীর মুখে একটু চিন্তার ছাপ দেখা যায় ছেলেমেয়ে নিয়ে, বাকি জীবনের রুজি কীভাবে যোগাবেন সেজন্য, মৃত স্বামীর জন্য নয়। বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখি, স্বজনরা বিশেষ করে স্বামী এবং সন্তানরা আট লাখ টাকার চেক পেয়ে খুশিতেই আটখানা হয়ে যায়, যার জন্য টাকাটা পাচ্ছে তার কথা ভেবে মন খারাপ করার সময় কোথায়? সেদিন দেখি ১৮ বছরের এক মেয়ে এসেছে মৃত মায়ের চেক নিতে, কিন্তু তার ভাব আর খুশি দেখে মনে হচ্ছে ও (মেয়েটি) নিজের ডান্স কম্পিটিশনের প্রাইজ নিতে এসেছে! আসলে মানুষ এই স্বার্থের দুনিয়ায় কার জন্য এত কষ্ট করে? কার জন্য এত মায়া করে? সবাই তো শুধু তার লাভের অংশটুকুই বুঝে নিতে চায়। স্বার্থ ফুরালে কে তাকে মনে রাখে? এখানে আবেগ, ভালোবাসা, মায়ার জায়গাটা আসলে কোথায়? এ পৃথিবীতে কে থাকলো, কে গেল তাতে আদৌ কি কারো কিছু আসে যায়?
এই স্ট্যাটাসে অনেকেই তাদের মতো করে কমেন্টস দিয়েছেন। কমেন্টস এ জাহিদ ইমরান নামের একজন লিখেছেন,‘ঐ রকম ডান্স কম্পিটিশন ছেলেমেয়ে আর স্ত্রীর জন্য কত না দুর্নীতি করে গাড়ি-বাড়ি করে যাই, একমাত্র মা-ই তার সন্তানের জন্য আর্তনাদ করে। আর সেই মাকেই অনেক ছেলেমেয়েরা আজ খোঁজ রাখে না। স্বার্থের দুনিয়ায় কেউ কারো নয়।
শারমিন মিতু নামে একজন তার কমেন্টসে লিখেছেন, ‘ঠিক এই কথাটাই আম্মু বলেছিল, যখন আব্বুর পেনশনের টাকাটা তুলতে গিয়েছিল। আসলেই কীভাবে সম্ভব? আব্বুর পাওয়া টাকাটা আজো তুলি নি। কিন্তু দেখো যদি অভাব থাকতো কিংবা আব্বু অনেক দেনা করে যেত ঠিকই তুলতে হতো। আসলে দুনিয়ার নিয়ম এটা। মানুষ চলে গেলে কেউ-ই মনে রাখে না। আরেকটা ব্যাপার দেখলাম, মানুষ কীভাবে পারে, মরা মানুষের পেনশনের টাকায় ঘুষ দাবি করতে। এরা ভুলেই যায় কয়দিন পর এরাও মরবে এবং এদের বউ বাচ্চাও এই টাকা তুলতে আসবে। বিভিন্ন টেবিলে যে পরিমাণ অ্যামাউন্ট ঘুষ দিতে হয় একটা ফাইল ছাড়ানোর জন্য....! আগে শুনেছিলাম এখন বুঝছি। ইস- তুই যে কেন আমার এলাকায় থাকলি না, অন্তত যে টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে, তা এতিমখানায় দিতে পারতাম। আবু জাহের সুমন লিখেছেন, ‘প্রিয়জন হয়েছি, সময়ের চাহিদায়। সবই ক্ষণিকের মায়া’।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Kazi Rana

২০১৯-০৭-১৪ ২৩:৫৩:২০

অতি সত্য বলেছেন। স্বার্থের দুনিয়ায় কেহ কাউকে মনে রাখেন। যারা বিষ্ঠাখোর তাদের কাছে টাকা টাই আসল। ওরা মনে করে থাকে কোন দিনই মরবে না।

S M Shawkat Ali

২০১৯-০৭-১৪ ১০:১০:৫০

I gone through the writing and comments. Basically human being are selfish and self centered. But that's not all exception there. That's why we can hope for the best.

Arif Rabbani

২০১৯-০৭-১৪ ০৬:৪১:১১

যারা ন্যায়-অন্যায় বিবেচনা না করে শুধু টাকার নেশায় সবকিছু করতে পারেন, তাদের জন্য খুবই শিক্ষনীয় কথা। মনে রাখা দরকার, আমি মারা গেলে আমার সম্পদে সবাই ভাগ বসায়, শুধু আমার কোন ভাগ থাকেনা। অন্যায়ভাবে এই সম্পদ অর্জন আসলে কার জন্য? নিজের বলতে তো কিছু থাকেনা।

Akbar Ali

২০১৯-০৭-১৪ ০৯:৪৫:১৯

ভুলে যাওয়ায় উচিৎ। এটাই স্বাভাবিক। ভুলে না গেলে মানুষ সামনের দিকে আগাতে পারবে না, বাঁচতে পারবে না। তবে তার মানে এই নয় যে, মানুষ হয়েও প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে, কারণে অকারণে নির্বোধ প্রাণির মত অহেতুক লাফালাফি করবে। কোন অযৌক্তিক কাজ কোনভাবেই সমর্থনযোগ্য না; তা সে যেই করুক।

ওমর ফারুক

২০১৯-০৭-১৩ ১৩:৩৫:৫৪

আগামিতে অমর নামক শব্দের অর্থ আর বাবহার হবে না।

জাফর আহমেদ

২০১৯-০৭-১৩ ১১:৩৯:২৮

এই জীবন শুধু মায়ার চাদরে ঢাকা। যতক্ষণ পর্যন্ত দিয়ে যাবেন ততক্ষন পর্যন্ত আপন ভাববে। আর না দিলে দূরে সরে যাবে। স্ত্রী সন্তান যে হোক।

আপনার মতামত দিন

ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল আরেক মায়ের

ওরা যাবে কোথায়?

জয়শঙ্কর ঢাকায়

বঙ্গবন্ধু হত্যায় আওয়ামী লীগ নেতারাই জড়িত

২ ভারতীয় সেনাসহ নিহত ৪

দেড় মাসে স্বর্ণের দাম বাড়লো ৫ বার

মশক নিধনকর্মীদের দেখা মেলে কম

২০২৩ সালের মধ্যে সব প্রাথমিকে ‘স্কুল মিল’

চট্টগ্রামে কিশোরী ধর্ষণ, ভণ্ডপীর গ্রেপ্তার

গারো তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টা, গ্রেপ্তার ১

কাঁচা চামড়া বেচা-কেনা শুরু

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের সরকার পুনর্বাসন করবে- ওবায়দুল কাদের

গ্রাহক নয়, উবার পাঠাওকে ৫% ভ্যাট দিতে হবে- এনবিআর

ব্রিজ-কালভার্ট মেরামতে রেলওয়ের ব্যর্থতায় হাইকোর্টের রুল

পারভেজ পুলিশি রিমান্ডে

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সারা দেশে র‌্যালি করবে বিএনপি