মানিকগঞ্জে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে দুই শিক্ষক আটক

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, মানিকগঞ্জ থেকে | ১৩ জুলাই ২০১৯, শনিবার
মানিকগঞ্জে স্কুলছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় এবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে এক গৃহশিক্ষককে। একই  ঘটনার দুইদিন  আগে গ্রেপ্তার হয় আরেক শিক্ষক। চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার রুবেল ওরফে রোমেল (৩০) নামের  গৃহশিক্ষককে শুক্রবার গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষককে ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়। আর মেয়েটিকে ভর্তি করা হয়েছে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে।
এ ছাড়া গত মঙ্গলবার যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় মানিকগঞ্জের দৌলতপুর প্রমোদা সুন্দরী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক শরিফুল ইসলাম সেন্টুকে। তাকে দুই দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। শুধু তাই নয় তার বিচারের দাবিতে বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী স্কুল ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করেছে।
স্কুল কর্তৃপক্ষ জরুরি সভা ডেকে সমায়িক বরখাস্ত করেছে ওই শিক্ষককে।
 মানবজমিনে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। তদন্ত করে দেখা হচ্ছে সেন্টু নামের ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে কারো কোনো ছাত্রী যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে কিনা। শিক্ষক দ্বারা  দুই ছাত্রী যৌন নিপীড়নের ঘটনায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন অভিভাবক মহল। শুক্রবার গ্রেপ্তার হওয়া গৃহশিক্ষক রুবেল সদর উপজেলার বেতিলা ইউনিয়নের বাঙ্গরা গ্রামের মৃত তারা মিয়ার ছেলে। গৃহশিক্ষকতা ছাড়াও তিনি বেতিলা ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম নৈশপ্রহরী হিসাবে কর্মরত ছিলেন।

মানিকগঞ্জ সদর থানার এসআই হারেজ শিকদার জানান, রুবেল ওই ছাত্রীর গৃহশিক্ষক ছিল। প্রতিদিন সন্ধ্যায় তাকে বাড়িতে গিয়ে পড়ান। এই সুযোগে অনেক দিন ধরেই নানা ভাবে তাকে যৌন নিপীড়ন করে আসছিল। গত ৬ই জুলাই প্রাইভেট পড়ানোর সময় ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে গৃহশিক্ষক। এ সময় মেয়েটি ঘর থেকে দৌড়ে বের হয়ে যায়। ঘটনা কাউকে না জানাতে ওই ছাত্রীকে ভয়ভীতি দেখায় রুবেল।
বুধবার মেয়েটির প্যান্টে রক্ত দেখে তার খালা ঘটনা জানার চেষ্টা করেন। পরে সে খালার কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলে। এরপরই তার মা-বাবাও বিষয়টি জানতে পারেন।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানায় একটি মামলা করেন। মামলার বিষয়টি টের পেয়ে রুবেল পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
শুক্রবার নির্যাতিত মেয়েটিকে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া রুবেলকে ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
অপর দিকে মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গ্রেপ্তার শিক্ষক শরিফুল ইসলাম সেন্টুকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার দুপুরে এক জরুরি সভায় তাকে বহিষ্কার করা হয়। দৌলতপুর প্রমোদা সুন্দরী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। যৌন নিপীড়নের ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে স্কুল ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।

প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান জানান, যৌন হয়রানির অভিযোগে সহকারী শিক্ষক শরিফুল ইসলাম সেন্টু গ্রেপ্তার হওয়ার পর বৃহস্পতিবার দুপুরে বিদ্যালয়ে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্কুলের বর্তমান সভাপতি ও দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা শারমিন এতে সভাপতিত্ব করেন। সভায় অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। একই সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। রোববার এই কমিটি গঠন করা হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে যৌন নিপীড়নের মতো ন্যক্কারজনক এই ঘটনার প্রতিবাদ এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে বৃস্পতিবার  স্কুল ক্যাম্পাসে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা অংশ নেন। দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন।
প্রসঙ্গত, শিক্ষক শরিফুর ইসলাম সেন্টুর বিরুদ্ধে ৬ষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মঙ্গলবার রাতে দৌলতপুর থানায় মামলা হয়। এরপর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে তাকে আদালতে পাঠানো হলে বৃহস্পতিবার মানিকগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচার গোলাম সারোয়ার তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুনীল কর্মকার জানান, গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষক শরিফুল ইসলাম সেন্টুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বুধবার সন্ধ্যায় থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে শরিফুল ইসলাম ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের ব্যাপারে মুখ খুলেনি। এ ছাড়া তদন্ত করে দেখা হচ্ছে অভিযুক্ত শিক্ষক আর কোনো ছাত্রীকে যৌন নির্যাতন করেছে কি না।
টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলার চাষাভাদ্র গ্রামের সিএনজি চালকের মেয়ে লেখাপড়া করতো মানিকগঞ্জের দৌলতপুর প্রমোদা সুন্দরী (পিএস উচ্চ) বিদ্যালয়ে। মেয়েটির মা ও নানীর সহয়াতায় শিক্ষক সেন্টু তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।





এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

সাওতালরা যেন নিজ ভূমে পরবাসী

দুই পরীক্ষায় ‘এ’ পেয়েছেন নুসরাত, সহপাঠীদের কান্না

পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের পথে মুশফিক!

বরগুনায় প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৩

গোয়েন্দা সংস্থার পরিচয়ে সচিবালয়ে তদবির করতে গিয়ে ধরা

এইচএসসিতে ফেল করায় আত্মহত্যা

বিড়ালে খাওয়া খাবার খেলেন রোগী (ভিডিও)

ডেঙ্গু নিধনের ওষুধে ভোজাল কি না, তদন্তের নির্দেশ: হাইকোর্ট

এবার এইচএসসিও পাস করলেন সেই মা

চৌদ্দগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩

এইচএসসিতে পাশের হারে দেশসেরা কুমিল্লা

মিন্নি ৫ দিনের রিমান্ডে

মিয়ানমারের শীর্ষ জেনারেলদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আরোপ

আদালতের নিরাপত্তায় কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে

বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে বাংলাদেশের গ্রুপে ভারত