নবীন ও প্রবীণের লড়াইয়ে কংগ্রেসের ছত্রভঙ্গ অবস্থা

দেশ বিদেশ

পরিতোষ পাল, কলকাতা থেকে | ৯ জুলাই ২০১৯, মঙ্গলবার
ভারতের প্রাচীনতম দল জাতীয় কংগ্রেসের এখন ছত্রভঙ্গ অবস্থা। নবীন ও প্রবীণ নেতাদের মধ্যে শুরু হয়েছে স্নায়ুরযুদ্ধ। দলের পরবর্র্তী সভাপতি কে হবেন তা নিয়ে দলের মধ্যে এখন নানা চোরা স্রোত। পরবর্তী সভাপতি নির্ধারণে সোনিয়া গান্ধী কোনোভাবেই নিজেকে যুক্ত করবেন না বলে দলের কোষাধ্যক্ষ আহমেদ প্যাটেলকে জানিয়ে দিয়েছেন। আর রাহুল নির্বাচনের পর অনুষ্ঠিত ওয়ার্কিং কমিটিতে পদত্যাগের কথা ঘোষণা করে বলে দিয়েছেন, গান্ধী পরিবারের কেউ সভাপতির পদে আসবেন না। রাহুল গান্ধী সভাপতির পদ ছেড়েছেন লোকসভা নির্বাচনে পরাজয়ের দায় নিয়ে। তবে কংগ্রেস নেতারা ভেবেছিলেন, অনুনয় করেই রাহুলের মত পরিবর্তন করা যাবে। কিন্তু সেটা তো হয়ইনি।
বরং, ঠিক এক মাসের মাথায় রাহুল গান্ধী এক দীর্ঘ চিঠিতে পরিষ্কার করে দিয়েছেন কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ অবস্থা। তিনি পদত্যাগ পত্রে বলেছেন, নির্বাচনের ব্যর্থতার দায় আরও অনেকের। কিন্তু তারা কেউই রাহুল গান্ধীর পথ অনুসরণ করে পদত্যাগ করেননি। দলের প্রবীণ নেতারা পদ আঁকড়েই বসে রয়েছেন। রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী আশোক গেহলটের মতো নেতা বলেছেন, রাহুলের চিঠিটি অনুপ্রেরণামূলক এবং আকর্ষণীয়, কিন্তু  তা পদত্যাগ করার কোনো অনুপ্রেরণা দেয়নি। অবশ্য মহারাষ্ট্র কংগ্রেসের প্রধান মিলিন্দ দেওরা ও জ্যোতিরিন্দ্র সিন্ধিয়ার মতো কয়েকজন তরুণ নেতা এবং কয়েকজন সম্পাদক পদত্যাগ করলেও অন্যরা দলের এই ছত্রভঙ্গ অবস্থা চলুক সেটাই চাইছেন। তাদের ধারণা, তখন নিরুপায় হয়েই প্রিয়াঙ্কা গান্ধী সভাপতি হতে রাজি হবেন। ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেস মন্ত্রী সজ্জন সিং খারমা বলেছেন, এই মুহূর্তে কংগ্রেসের মুখ হওয়ার যোগ্য প্রিয়াঙ্কাই। কিন্তু রাহুল গান্ধীর আসল উদ্দেশ্য ছিল, তার পদত্যাগের সঙ্গে সঙ্গে অন্য নেতারাও পদত্যাগ করলে দলের মধ্যে নির্বাচনের মাধ্যমে সাংগঠনিক পুনর্গঠনের কাজ করে দলকে আগামী দিনের লড়াইয়ের জন্য তৈরি করা। কিন্তু তাঁর সেই লক্ষ্য পূরণ না হওয়ায়ই রাহুল পদত্যাগ করার পাশাপাশি পরিবারের সকলকে দলের পরবর্তী সভাপতি নির্ধারণের প্রক্রিয়া থেকে দূরে রেখেছেন। আসলে কংগ্রেসের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ওয়ার্কিং কমিটিতে প্রবীণদেরই ভিড়। কমিটির মাত্র ৬ জন নির্বাচিত এমপি। বাকিরা সবাই রাজ্যসভার সদস্য। এদের মধ্যে আবার এমন অনেকে রয়েছেন যারা গত ৩৫ বছরে কোনো নির্বাচনের মুখোমুখি হননি।  তাই এই অবস্থায় কংগ্রেসের মধ্যে প্রবীণরা চাইছেন নির্বাচন এড়িয়ে সভাপতি মনোনয়ন করা। তবে এরই মধ্যে দলের প্রবীণ নেতা পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, দলের সভাপতি পদে একজন তরুণেরই আসা দরকার। এরপর থেকেই শচীন পাইলট, মিলিন্দ দেওরা ও জ্যোতিরাদিত্যের মতো নেতাদের নাম নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে দলের প্রবীণ নেতারা মনে করছেন, এরা সকলেই রাহুল গান্ধীর ঘনিষ্ঠ। তাই এরা দায়িত্বে এলে কোপটা পড়বে তাদের উপরেই। আর তাই আহমদ প্যাটেল, আশোক গেহলট, সুশীল কুমান সিন্ধের মতো নেতারা চাইছেন, মল্লিকার্জুন খাড়গের মতো প্রবীণ দলিত নেতাকে আপাতত সভাপতি পদে বসানো হোক। আবার এমন আলোচনাও চলছে, একটি প্রিসিডিয়াম তৈরি করে তরুণ নেতাদের জায়গা দিয়ে আপাতত অবস্থা সামাল দেওয়া হোক। আগামী ১০ই জুলাই ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছে। এই বৈঠকেই রাহুলের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হবে এবং দলের পরবর্তী সভাপতি নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু হবে। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে গান্ধী পরিবারের কোনো সদস্যই হাজির থাকবেন না। তারা তখন থাকবেন বিদেশে। এদিকে, আগামী তিন মাসের মধ্যে মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা ও ঝাড়খণ্ডে বিধানসভার নির্বাচন। সেই নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করার পরিবর্তে কংগ্রেসে যেভাবে প্রবীণ ও তরুণদের মধ্যে বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে তাতে অনেক মনে করছেন, কংগ্রেসে আবার বিভাজন অবশ্যম্ভাবী হতে চলেছে  না তো?  




এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

প্রিয়া সাহাকে আইনের আওতায় আনার দাবি ১৪ দলের

ফ্রান্সে পানিতে বিষাক্ত পদার্থের অস্তিত্ব, সতর্ক থাকার নির্দেশ

গণপিটুনিতে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে: পুলিশ সদর দপ্তর

জবি ছাত্রলীগের সম্মেলনে কর্মীর মৃত্যু

এইচএসসিতে ফেল করায় আত্মহত্যা

ইজিবাইক থেকে নামিয়ে ধর্ষণের পর ছাত্রীকে নৃশংসভাবে হত্যা

সোনাগাজীতে সেফটি ট্যাংকির উপর গৃহবধুর লাশ

ভারতে ৬ রাজ্যে নতুন গভর্নর নিয়োগ

এক ডজন ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করেন ইউসুফ

মারা গেছেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শীলা দিক্ষিত

মিন্নির পক্ষে লড়বেন ঢাকার আইনজীবীরা

পানিতে ডুবে দুই ভাইয়ের মৃত্যু

বন্যায় ৭২ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষনা

‘প্রিয়া সাহা রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধ করেছেন’

প্রিয়া সাহার বাসার সামনে বিক্ষোভ

বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ, অত:পর......