ভাঙ্গুড়ায় ধর্ষকের হুমকিতে ঘর ছাড়া অন্তঃসত্ত্বা মাদ্রাসাছাত্রী

বাংলারজমিন

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি | ২৪ জুন ২০১৯, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:০৩
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার পার-ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নে ধর্ষণের ফলে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (১৪) ভয়ভীতি দেখিয়ে গর্ভপাত করিয়ে এলাকা ছাড়া করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ ইউনিয়নের ভেড়ামারা গ্রামের চাঁদ মিস্ত্রীর ছেলে ও হাজী জামাল উদ্দিন কলেজের ছাত্র আব্দুল খালেক ওরফে দিপুর (২২) বিরুদ্ধে। নির্যাতিতা ভেড়ামারা দাখিল মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা, পাঁচ মাস পূর্বে ছাগল চড়ানোর জন্য মাঠে যায় নির্যাতিতা। সেখানে অভিযুক্ত খালেক তাকে একা পেয়ে পাশের ঘাসের জমিতে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং এই বিষয়ে কাউকে জানালে তাকে ও তার বাবাকে প্রাণে মেরে ফেলা হবে বলে হুমকি দেয়। ফলে ভয় পেয়ে ধর্ষিতা কাউকে কিছু বলে নি। এক মাস পরে সুযোগ বুঝে খালেক তাকে আবারো ধর্ষণ করে পুনরায় একই হুমকি দেয়। এর মধ্যে পেরিয়ে যায় তিন মাস।
এক সপ্তাহ পূর্বে মেয়ের শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন হয়ে অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি বোঝা গেলে নির্যাতিতার মা তাকে এই বিষয়ে চাপ দিয়ে জিজ্ঞাসা করলে ধর্ষণ ও ধর্ষক খালেকের বিষয়টি সামনে আসে।
পরিবারের সম্মানের কথা চিন্তা করে অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি ধর্ষক খালেকের পরিবারকে জানায় মেয়েটির বাবা। খালেকের বাবা চাঁদ আলী ছয় হাজার টাকা দিয়ে মেয়েটির বাবাকে গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে বলে। সন্তান নষ্ট করলেই কেবল মেয়েকে ছেলের বউ করে নেবে আশ্বস্ত করেন। ফলে নিজের সম্মান রক্ষা করতে মেয়ের গর্ভপাত করায় তার পরিবার। কিন্তু গর্ভপাতের পরেই খালেকের পরিবার তালবাহানা শুরু করে এবং কিশোরীকে নষ্টা মেয়ে বলে অপপ্রচার চালিয়ে তাকে বাড়ির বউ করা সম্ভব নয় বলে জানায় অভিযুক্ত যুবক ও তার পরিবার। উল্টো মানহানী মামলার ভয় দেখায় তাদের। নিরুপায় হয়ে মেয়েটির বাবা পার-ভাঙ্গুড়া ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ হেদায়েতুল হক ও গ্রামের অন্যান্য প্রধানবর্গের কাছে এ ঘটনার বিচার চান। কিন্তু কেউই তার অভিযোগে কর্ণপাত করেনি। এক পর্যায়ে নির্যাতিতার পরিবার থানায় মামলা করার সিদ্ধান্ত নিলে অভিযুক্ত যুবক ও তার পরিবার কিশোরী ও তার বাবাকে হত্যার হুমকি দেয়। এতে প্রাণের ভয়ে কিশোরীকে অন্যত্র লুকিয়ে রাখে তার পরিবার। এ অবস্থায় নির্যাতিত পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এমনকি থানায় অভিযোগ দিতেও তারা সাহস পাচ্ছেন না। এদিকে, ঘটনা জানার পর গত চার দিন আগে ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সাজেদুর রহমান নির্যাতিতার বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারকে আইনি সহায়তা দেয়ার কথা বলে থানায় আসতে বলে। কিন্তু এরপরও তারা থানায় অভিযোগ দিতে সাহস পাচ্ছে না। ভাঙ্গুড়া থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসএই) সাজেদুর রহমান জানান, ধর্ষণের ঘটনা লোক মুখে জানার পর নির্যাতিতার বাড়িতে গিয়ে থানায় অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। কিন্তু অভিযুক্তের পরিবারের ভয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ দিচ্ছে না। থানায় অভিযোগ না দেয়ার কারণ জানতে চাইলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নির্যাতিতার বাবা বলেন, ‘আমি থানায় অভিযোগ দিলে ওরা আমাকে ও আমার মেয়েকে মেরে ফেলবে। তাই ভয়ে থানায় অভিযোগ দিচ্ছি না।’ আমি মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। এ বিষয়ে পারভাঙ্গুড়া ইউপি চেয়ারম্যান হেদায়েতুল হক বলেন, ‘নির্যাতিতার বাবা মেয়ের গর্ভের সন্তান নষ্ট করার পরে এ বিষয়ে মৌখিক অভিযোগ করেছে। তবে বিষয়টা ইউনিয়ন পরিষদের এখতিয়ার বহির্ভূত হওয়ায় তাদের আইনের আশ্রয় নেয়ার পরামর্শ দিয়েছি।’ ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

উত্তর প্রদেশে তীব্র বজ্রপাত, একইদিনে নিহত ৩৩

বৃটিশ ট্যাংকার আটক করায় ইরানকে সৌদির হুঁশিয়ারি বার্তা

রিলিফের নামে প্রহসন চালাচ্ছে সরকার: গণফোরাম

রেনু হত্যায় আরো একজন গ্রেপ্তার

শেষ কর্মদিবসে অবরুদ্ধ বিআরটিসি’র চেয়ারম্যান

সাতক্ষীরায় আওয়ামী লীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা

সিআইএর ১৭ এজেন্টকে আটকের দাবি ইরানের, বেশ কয়েকজনের মৃত্যুদণ্ড

কিছুক্ষণের মধ্যেই যাত্রা শুরু করছে চন্দ্রযান-২

১৪ ঘন্টা পরও খোঁজ নেই

ছাত্রলীগ নেতা গুলিবিদ্ধের ঘটনায় তদন্ত কমিটি

রাতে আটক, ভোরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১৮ মামলার আসামি

৮ শর্তে খুলনায় সমাবেশের অনুমতি পেলো বিএনপি

স্ত্রীর প্রেমিককে ‘ছেলেধরা’ অপবাদে পিটিয়ে হত্যা

বরিস জনসন নাকি জেরেমি হান্ট

পুলিশকে কল দেয়ায় খুন সুমন

আজই কি তবে শেষ দিন!