সাবেক এমপি রানার স্থায়ী জামিন মুক্তিতে বাধা নেই

এক্সক্লুসিভ

স্টাফ রিপোর্টার | ২০ জুন ২০১৯, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১০:২৭
যুবলীগের দুই নেতা হত্যা মামলায় টাঙ্গাইল-৩ আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আমানুর রহমান খান রানার স্থায়ী জামিন মঞ্জুর করেছেন হাইকোর্ট। গতকাল হাইকোর্টের বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এসএম মজিবুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ তার জামিন মঞ্জুর করে এ রায় দেন। এর আগে আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যা মামলায় গত ১লা এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে সাবেক এমপি রানার জামিন বহাল রাখেন। এর ফলে, কারাগার থেকে রানার মুক্তিতে আইনগত কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা। আদালতে রানার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী। তার সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট রুশো মোস্তাফা। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও তার সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ । আইনজীবী রুশো মোস্তফা পরে সাংবাদিকদের বলেন, যুবলীগের দুই নেতা হত্যা মামলায় হাইকোর্ট গত ৬ই মার্চ সাবেক এমপি রানাকে ছয় মাসের জামিন দিয়ে রুল জারি করেছিলেন।
এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ চেম্বার আদালতে গেলে বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান গত ১৪ই মার্চ জামিন স্থগিত করে দেন। পরে ২৩শে এপ্রিল আপিল বিভাগও স্থগিতাদেশ বহাল রেখে রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয়। সেই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রুল শুনানি শেষ করে আদালত আজ (গতকাল) রায়ের জন্য রেখেছিলেন। রায়ে জামিন প্রশ্নে জারি করা রুলটি যথাযথ ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে, তার মুক্তিতে বাধা থাকছে না। কারণ আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যা মামলাতেও তিনি জামিনে আছেন। অন্যদিকে, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো বশিরউল্লাহ বলেছেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে তারা আপিল করবেন।
যে কারণে আটক রানা: ২০১২ সালের ১৬ই জুলাই টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা শামীম ও মামুন তাদের বাড়ি থেকে মোটর সাইকেলে টাঙ্গাইল শহরে আসার পর নিখোঁজ হন। ঘটনার পরদিন শামীমের মা আছিয়া খাতুন টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে, ২০১৩ সালের ৯ই জুলাই নিখোঁজ মামুনের বাবা টাঙ্গাইল আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ওই বছর ২১শে সেপ্টেম্বর মামলাটি তালিকাভুক্ত করে। মামলায় গ্রেপ্তার তিন আসামি- জাহিদ, শাহাদাত হোসেন ও হিরন মিয়া এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে গত বছর আদালতে জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তারা উল্লেখ করেন, এমপি আমানুর রহমান খান রানার নির্দেশেই শামীম ও মামুনকে হত্যা করা হয়। পরে এই দুইজনের লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের টাঙ্গাইল জেলা কমিটির সদস্য ফারুক আহমেদকে ২০১৩ সালের ১৮ই জানুয়ারি গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তৎকালীন এমপি রানা ২০১৬ সালের ১৮ই সেপ্টেম্বর আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠান টাঙ্গাইলের বিচারিক আদালত। এ মামলায় ২০১৭ সালের ৩রা ফেব্রুয়ারি রানা ও তার তিন ভাইসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। ওই বছরের ৬ই সেপ্টেম্বর দণ্ডবিধির ৩০২/ ১২০/৩৪ ধারায় সংসদ সদস্য রানা ও তার তিন ভাইসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু করেন আদালত। এখন মামলাটি সাক্ষগ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

shishir

২০১৯-০৬-১৯ ১২:২৩:২৪

বিচিত্র এই দেশ! খুনি দাবড়িয়ে বেরাবে আর যারা খুন হলেন তাদের আত্তিয় সজন দেখবে খুনির দাপট। হায়রে বিচার ব্যবস্থা!

আপনার মতামত দিন

শ্রীলঙ্কায় যাচ্ছেন না মাশরাফি

পানিবন্দি মানুষ মানবেতর জীবন

‘তুইতোকারিকে’ কেন্দ্র করে চার খুন

ঢাকায় বাড়ছে জীবনযাত্রার ব্যয় কাবু মধ্যবিত্ত

আদালতে মিন্নির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

ডেঙ্গু রোগীদের ভিড়

ভয়ঙ্কর মাদক আইস ছড়িয়ে দিচ্ছে আন্তর্জাতিক চক্র

দুই মামলা, আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ পুলিশের

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ডিএনসিসির সংশ্লিষ্ট বিভাগের ছুটি বাতিল

দুর্নীতিকে দুর্নীতি হিসেবেই দেখব- ওবায়দুল কাদের

সিলেটে ধর্ষিতার স্বামীর ফরিয়াদ

কাঁচাবাজারে বন্যার প্রভাব

কিশোর গ্যাংয়ের অন্তর্দ্বন্দ্বে খুন

পাকুন্দিয়ায় নিহত স্কুলছাত্রীর ময়নাতদন্তে ধর্ষণের আলামত

টিআইবি’র উদ্বেগ প্রত্যাহারের আহ্বান

ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল সিলেটে