প্রবীণ রাজনীতিবিদরা অবসর নিয়ে সন্তানদের সুযোগ দিন

যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা

নিউ ইয়র্ক থেকে খলকু কামাল | ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, মঙ্গলবার
সরকারি নীতিমালা মোতাবেক যে কোন চাকরিজীবীকে সর্বোচ্চ ৬২ বছর পর্যন্ত চাকরি শেষে অবসর অথবা পেনশনে যেতে হয়। পাশাপাশি আবার নতুন যারা চাকরিতে যোগ দেয় তারাও ওনাদের শূন্যস্থান পূরণ করে। এটাই নিয়ম। এ নিয়মকে সবাই অনুসরণ করেন। বাংলাদেশে ছোট-বড় অনেক রাজনৈতিক দল রয়েছে। রয়েছেন পরিচিত-অপরিচিত অনেক বড় বড় জাতীয় পর্যায়ের নেতানেত্রী।
যারা দেশ ও জাতির জন্য রাজনীতি করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। আজকের লেখার মাধ্যমে সরকারের কাছে আমার একটি খোলামেলা আবদার যে, সত্তরোর্ধ্ব রাজনৈতিক নেতানেত্রীদের জন্য বাধ্যতামূলক অবসরের আইন পাস করা। বয়স ৭০ হয়ে গেলে যে কোনো রাজনৈতিক নেতানেত্রীকে রাজনীতি থেকে অবসরে চলে যেতে হবে। এতে করে রাজনীতিতে তারুণ্যের প্রাধান্য আসবে। মুরব্বিরা অবসরে গিয়ে তরুণদের দিকনির্দেশনা দেবেন। তাতে নতুন প্রজন্মের মেধাসম্পন্ন ছেলেমেয়েদের কাছ থেকে দেশ ও জাতি অনেক আধুনিক চিন্তাধারা ও যুগোপযোগী মানসম্পন্ন নির্ভেজাল রাজনীতি পাবে। সেইসঙ্গে আমি এক নগণ্য প্রবাসী বাংলাদেশী হিসেবে দেশের সকল রাজনৈতিক শীর্ষ লিডার, যারা এ পর্যন্ত ৭০ পাড়ি দিয়েছেন তাদের কাছে উদাত্ত আহ্বান, আপনারা গত কয়েক যুগ থেকে দেশ ও জাতির উন্নয়ন ও কল্যাণে অনেক কিছু করেছেন, যা দেশবাসী আপনাদের কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছে এবং করবে। এখন সময় হয়েছে আপনারা নিজেরা উদ্যোগ নিয়ে অবসরে গিয়ে শান্তিময় ও চিন্তামুক্ত আরাম-আয়েশের জীবন উপভোগ করুন।
আপনাদের অবগতির জন্য আরও বলতে চাই, মহান আল্লাহতায়ালা যার জন্য দুনিয়া ও আখেরাত সৃষ্টি করেছেন, তাঁর সেই অতিপ্রিয় নবীকে মাত্র ৬৩ বছরের সময় দুনিয়া থেকে নিয়ে গেছেন। আর এখন যারা আল্লাহর জগতে ৭০-এর অধিক বয়স পেয়েও রাজনীতি করছেন তাদের স্মরণ থাকা উচিত ভালো কিছু করতে চাইলে ৬৩ বছর বয়স পর্যন্তই যথেষ্ট সময়। আল্লাহর নবী সেটা বিশ্ববাসীকে করে দেখিয়ে গেছেন।
রাজনৈতিক দলের শতকরা ৯০ ভাগ প্রবীণ নেতা যেহেতু ঢাকায় থাকেন, তাদের উচিত এ বয়সে ভালো ও একটি উত্তম কাজে নিজেদের জড়িয়ে দেয়া যেমন, মসজিদে বেশি করে সময় কাটানো, অরাজনৈতিক দ্বীনি সংগঠন তাবলিগ জামাতের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা এবং যত বেশি সম্ভব নেক আমল করে আখেরাতের সফরের প্রস্তুতি নেয়া।
আমার বিনীত অনুরোধ, রাজনীতির অশান্তির ময়দান ছেড়ে তাবলিগের শান্তির ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়–নÑ দেখবেন এ দ্বীনি পথে কত মজা, কত শান্তি ও কত ইজ্জত। প্রতি বৃহস্পতিবার কাকরাইল মারকাজে গিয়ে মাগরিব টু এশা মনোযোগ দিয়ে বয়ান শুনুনÑ কিভাবে জান্নাতে সহজে যাওয়া যায়, জানুন। পরকালে শান্তি ও আরামের জীবনযাপন, সঠিক আমল-আখলাখ ও ইসলামের প্রাইমারি শিক্ষার উত্তম স্থান হলো এ মোবাইল মাদরাসা তাবলিগ।
আমাদের সবার মনে রাখা উচিত, সব কিছুর ফয়সালা আসমানে হয়। তাই আজকে যারা আল্লাহর পক্ষ থেকে ৭৫-৮০ বছর হায়াত পেয়েছেন, তাদের উচিত অল্লাহর শুকরিয়া আদায় এবং আর দেরি না করে এখনই যার যার সন্তানদের রাজনীতিতে এনে দিয়ে, খাঁটি দিলে অন্তর দিয়ে প্রাণ খুলে আল্লাহর জান্নাতের রাস্তায় ধাবিত হওয়া। মনে রাখবেন, যার আমল ভাল তার শেষ ভাল। আমাদের শেষ ঠিকানা জান্নাত।
আপনাদের অবগতির জন্য বলছি, স্বাধীনতার রূপকার বঙ্গবন্ধু অরাজনৈতিক সংগঠন তাবলিগকে অন্তর দিয়ে ভালো পেতেন বলেই ’৭৩ সালে কাকরাইল মসজিদ ও টঙ্গী ইজতেমার মাঠকে সম্প্রসারণের স্বার্থে কয়েক বিঘা সরকারি জমি দান করেছিলেন। তার এ অবদান যুগ যুগ স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাই বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ, জাতীয় সংসদে বিভিন্ন বিষয়ের উপর বিল এনে এ পর্যন্ত কত আইন পাস করেছেন তার হিসাব নেই। তাই দেশের স্বার্থে, নতুন প্রজন্মের স্বার্থে, আপনাদের মতো রাজনীতিবিদের সন্তানের স্বার্থে একটি ব্যতিক্রমধর্মী বিল এনে সকল দলের সঙ্গে আলাপ করে বিলটি পাস করুন। আশা করি, আপনার আন্তরিক হস্তক্ষেপই যথেষ্ট। এতে ইতিহাসের পাতায় আপনার নাম অম্লান  থাকবে অনন্তকাল।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন